১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একজন অভিজিতকে হত্যা করলেই এদেশ তালেবানী রাষ্ট্র হয়ে যাবে না

  • তাহের দিবসের আলোচনা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ একজন অভিজিতকে হত্যা করলে, একজন অনন্ত বিজয়ের রক্ত ঝরালে এবং একজন ওয়াশিকুরকে খুন করলেই বাংলাদেশ তালেবানী রাষ্ট্র হয়ে যাবে না। যারা এটা হয়ে যাবে বলে স্বপ্ন দেখছেন, তাদের স্বপ্ন কখনও বাস্তাবায়ন হবে না। কারণ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। এর পেছনে বিপ্লবীদের রক্ত রয়েছে। আমাদের রক্তে মিশে আছে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মুক্তবুদ্ধির চেতনা।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে কর্নেল তাহের দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুক্ত চিন্তা ও মুক্ত বুদ্ধির উপর আঘাত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিত রায়ের বাবা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায় এসব কথা বলেন। কর্নেল তাহের সংসদ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, তাহের সংসদের সহ-সভাপতি ডাকসুর সাবেক জিএস ডাঃ মুশতাক হোসেন ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ডাঃ আলীম চৌধুরীর সন্তান ডাঃ নুজহাত চৌধুরী শম্পা।

অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, আইনী অগ্রগতির বিষয়ে ডিবি পুলিশের কাছে জানতে চাইলে তারা সঠিক কোন উত্তর দেয় না। শুধু সাতজনকে চিহ্নিত করার বিষয় জানায়। তাদের গ্রেফতার না করার বিষয়ে কোন উত্তর তাদের কাছে নেই। এক কথায় বলতে গেলে, দৃশ্যমন কোন অগ্রগতি পুলিশের কাছে নেই। আমরা রাজপথে থাকলে জামায়াত-শিবির পালানোর পথ পাবে না, যেভাবে পালানোর পথ পায়নি মুক্তিযুদ্ধের সময়।

আলোচনা সভায় সরকারের দুই মন্ত্রীসহ প্রায় সব বক্তাই অধ্যাপক অজয় রায়ের বক্তব্যের সমর্থনে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, খুনীদের বিষয়ে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব লক্ষ্য করা গেছে। সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলে এই ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকেই যাবে। কারণ ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম রেখে আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে টিকে থাকার সুযোগ করে দিয়েছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কর্নেল তাহের সংসদ সভাপতি সিপিবি নেতা হায়দার আকবর খান রনো বলেন, আক্রমণ চালিয়ে মৌলবাদী-জঙ্গীবাদী-তালেবানী চেতনাধারীরা সাময়িক সময়ের জন্য তাদের বার্তা দিতে পারলেও বাংলাদেশকে তারা অতীতে যেভাবে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। তাদের স্বপ্ন চিরতরে বন্ধ করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শোষণমুক্ত ও সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরির সংগ্রাম বেগবান করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, জিয়াউর রহমানসহ সব সামরিক শাসকেরা মুক্তবুদ্ধি ও সংস্কৃতির উপর আঘাত হেনে থাকে। অন্যদিকে, তারা প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। যেভাবে জিয়াউর রহমান কর্নেল তাহেরকে বিচারের নামে প্রহসনের মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন করেছেন। খালেদা জিয়াও জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তবে অনেক প্রাণ গিয়েছে।

তাহের সংসদের সাধারণ সম্পাদক ড. বীণা শিকদার আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন। ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই বিতর্কিত সামরিক আদালতের রায়ে মুক্তিযোদ্ধা তাহের বীরউত্তমকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ঈদের ছুটি থাকার কারণে ফাঁসি ঝোলানোর বার্ষিকীতে আলোচনা সভা হয়নি বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।