২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য স¤প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি দরকার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার\ নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে এসে স¤প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে হবে। সেই সরকারের মনোভাবেরও পরিবর্তন করতে হবে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) মিলনায়তনে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা শীর্ষক এক সেমিনারে শনিবার ব্যবসায়ী নেতারা এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগ বাড়ার জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে এসে স¤প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে হবে। এ ছাড়া সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ কর আদায় বৃদ্ধির জন্য ‘টেক্স নেট’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, সারাবিশ্বে ১৮শÕ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই আসে। সেখানে বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলার এফডিআই আসছে। বিনিয়োগ বোর্ডে ড. সামাদের মতো ¯^নামধন্য ব্যক্তি থাকার পরেও এত কম এফডিআই আসা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমাদের ওয়ানস্টপ নয় ফুলস্টপ সার্ভিস দিতে হবে।

আব্দুল মোনেম গ্রæপের ডিএমডি এ এস এম মাইনুদ্দিন মোনেম বলেন, নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের ভালো চিন্তা, উত্তম বিনিয়োগ নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ছাড়া নতুন বিনিয়োগের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, ব্যাংকিং উৎসের বাইরে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দেন তিনি।

এনআরবি এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেকিল আহমদ বলেন, নতুন বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের ভোগান্তিমুক্ত করে দিতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের শক্র ভাবছেন। অবস্থা এমন হয়েছে যে সরকার প্রধান ছাড়া কোনো মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। অথচ বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ছাড়া কর্মসংস্থান হবে না। আর কর্মসংস্থান না হলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। এ ছাড়া বিনিয়োগের জন্য তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান, যাতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ নীতিমালার পরিবর্তন না হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডিউলের (এসএএনইএম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, গত ১২ বছর বাংলাদেশের জিডিপি ৬ শতাংশের ঘরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। স¤প্রতি নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্য আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে হলে ৮ শতাংশ হারে জিডিপি অর্জন করতে হবে। এ জন্য নতুন বিনিয়োগ করতে হবে। আর নতুন এ বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিমালার সংস্কার, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউটগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।