১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়ন শঙ্খ নদীর গ্রাসে

বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়ন শঙ্খ নদীর গ্রাসে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী ॥ ঘূর্নিঝড় কোমেন সরে গেলেও তার তান্ডব এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বাঁশখালীর বেড়িবাঁধহীন পুকুরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ায় ঐ ইউনিয়ন শঙ্খ নদীর গ্রাসে রয়েছে। প্রবল বর্ষন ও পূর্ণিমার প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে ৫-৬ ফুট উচ্চতায় জ্বলোচ্ছাসে পুকুরিয়া ইউনিয়ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি রয়েছে ১৫ হাজারের অধিক লোক। ঐ ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে বন্যা কবলিত লোকজন। আজ শনিবার পর্যন্ত দীর্ঘ ৬০ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও প্লাবিত এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের ত্রাণ বা সহযোগিতা দুর্গতদের কাছে পৌছেনি বলে জনকন্ঠকে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। অপরদিকে অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে উপকূলীয় ৫টি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক লোক এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে দেখা যায়, উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের তেচ্ছিপাড়া, খন্দকার, চৌধুরী পাড়া, রোয়াজা পাড়া, উত্তর পুকুরিয়া, পশ্চিম পুকুরিয়া, বরুমছড়া এলাকা শঙ্খ নদীর বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে ৫-৬ ফুট পানির নিচে রয়েছে। একদিকে প্রবল বর্ষন অন্যদিকে অস্বাভাবিক জোয়ারের ফলে প্লাবিত এলাকার ১৫ হাজার লোক দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানীয় জলের অভাব। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন ব্যক্তিগত পক্ষ হতে শুকনো খাবার ও পানীয় বিতরণ করলেও যা অপ্রতুল বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থরা। এদিকে প্লাবিত এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন ধরনের ত্রাণ বা সাহায্য পৌছেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুর্গত মানুষ ও তাদের প্রতিনিধিরা। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় কোমেন সরে গেলেও পূর্ণিমার জোয়ারে ভাঁসছে উপকূলের গন্ডামারা, ছনুয়া, খানখানাবাদ, সরল, বাহারছড়া ইউনিয়নের লক্ষাধিক লোকজন। পানি নামতে না পারায় ঐ এলাকার অর্ধলক্ষাধিক লোক এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। প্রশাসন থেকে দুর্গতদের মাঝে সামান্য কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও যা অপ্রতুল। খাদ্যে ও বাসস্থানের অভাবে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে ঐ এলাকার লোকজন।

পুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নের পুরো বেড়িবাঁধ শঙ্খ নদী গ্রাস করেছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রভাবে ৫-৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ১৫ হাজার লোক পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। দীর্ঘ ৬০ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসন থেকে আমার এলাকায় ত্রাণ ও সাহায্য পৌছাতে পারেনি তারা। তাই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানীয় সংকট।

উপজেলা প্রশাসন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার সেলিম উদ্দিন জানান, আমি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রণয়ন করে উপজেলা দুর্যোগ মোকাবেলা কমিটির কাছে প্রেরণ করেছি। ত্রাণের চাহিদাও পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কি কারণে ত্রাণ পৌছেনি তা আমার জানা নেই।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, দ্রুত ঐ এলাকায় ত্রাণ পাঠানো হবে। বন্যা কবলিত মানুষদের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ খান জানান, আমি পুকুরিয়া ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষদের দেখেছি। তাদের জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবরে ত্রাণের চাহিদাপত্র প্রেরণ করেছি। উপজেলা প্রশাসন থেকে সামান্য ত্রাণ বিতরণ করা হবে।