২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তালেবানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব

  • নয়া নেতা ঘোষণার প্রতিবাদে মোল্লা ওমরের ছেলে ও ভাইয়ের ওয়াকআউট

ইসলামপন্থী জঙ্গী সংগঠন তালেবানের নতুন নেতা হিসেবে মোল্লা আকতার মোহাম্মদ মনসুরের নাম ঘোষণার প্রতিবাদে বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেন সংগঠনটির সিনিয়র কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির প্রয়াত নেতা মোল্লা ওমরের ছেলে ও ভাই। এরফলে এরই মধ্যে নানা উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়া তালেবানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে উঠছে। ওমর দুই বছরের বেশি আগে করাচিতে মারা গেছেন, এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার একদিন পর মনসুরকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। খবর ইয়াহু নিউজের।

দলের মূল অংশের এই ভিন্নমত সংগঠনটিকে অখ- রাখতে মনসুরের সামনে একটি পরিষ্কার চ্যালেঞ্জ। ওমরের মৃত্যুর খবর তালেবান অবশেষে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করায় সংগঠনটির মধ্যে বিভাজন আরও ঘনীভূত হবে। আফগানিস্তানে ক্রমেই জায়গা করে নেয়া আইএস এতে লাভবান হবে। ওমরের সহকারী হিসেবে মনসুর দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। তাকে বিভিন্ন সময় আফগান সরকারের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা চালিয়ে নেয়ার পক্ষে ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। তবে তালেবানের মধ্যে ৫০ বছর বয়সী মনসুরের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন, যারা শান্তি আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে।

এমনকি তারা ওমরের ছেলে ইয়াকুবকে সংগঠনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আফগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম দফা আলোচনার জন্য তিনি দূত পাঠিয়েছিলেন। এদিকে পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটা বুধবার রাতে নেতা নির্বাচনের বৈঠক থেকে ইয়াকুব ও তারা চাচা ওমরের ছোট ভাই আব্দুল মান্নানসহ ১২ জনের বেশি শীর্ষ নেতা বের হয়ে যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন তিন সূরা সদস্য একথা জানিয়েছেন। কোয়েটা তালেবানের এক শীর্ষ সদস্য বলেছেন, এটি আসলে তালেবান কাউন্সিল লিডারশিপ কাউন্সিলের বৈঠক ছিল না। মনসুর তার নির্বাচনের জন্য পথ প্রস্তুত করতে তার দলের সদস্যদেরই কেবলমাত্র আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ইয়াকুব ও মান্নান যখন এই বিষয়টি বুঝতে পারেন, তখন তারা বৈঠক ছেড়ে চলে যান। তবে মনসুর শুক্রবার রাতে তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার কাইয়ুম জাকিরের সমর্থন পান। কিউবায় গুয়ানতানামো বে মার্কিন কারাগারের সাবেক বন্দী ছিলেন তিনি। জাকিরের লেখা একটি চিঠি তালেবান ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, আমি এমন রিপোর্ট পড়েছি যে মোল্লা আকতার মোহাম্মদ মনসুরের সঙ্গে আমার দ্বন্দ্ব আছে। আমি নিশ্চিত করছি বিষয়টি ঠিক নয়। জাকিরের ঘনিষ্ঠ এক তালেবান কমান্ডার নাসরাল্লাহ আখন্দ টেলিফোনে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আফগানিস্তান বিষয়ক সিনিয়র বিশ্লেষক গ্রায়েম স্মিথ বলেন, মনসুর তালেবানের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তালেবানের বেশিরভাগ মুখপাত্র, ওয়েবসাইট ও বিবৃতির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে কিছু গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অনুমান, মনসুর যুদ্ধক্ষেত্রের মাত্র ৪০ শতাংশ যোদ্ধাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ বিষয়টি তার জন্য অস্ত্রবিরতি ঘোষণার ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ অস্ত্রবিরতিই ভবিষ্যত শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে পারে। তালেবানের ভেতরের সূত্র জানিয়েছে, আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে তালেবানের প্রতিনিধি পাঠানোয় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মনসুর।