২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএসের হার চান না ওবামা!

  • যুদ্ধ জয় নিরর্থক মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

আমেরিকা ও এর মিত্ররা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যুদ্ধে জয়ী হয়নি এবং বর্তমান মুহূর্তে জয়ীও হচ্ছে না। বিশ্ব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যে ধারণা, তাতে এটা ব্যর্থতা নয়। সত্য কথা হলো- আর সস্তা অপবাদ নয় যে, ওবামা ইরাক ও সিরিয়ার ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে চান না এখনও। তিনি মনে করেন, দ্রুত জয়ী হওয়া অর্থহীন এবং সম্ভবত বিপর্যয়কর হবে। ইরাকের ক্ষেত্রে তার পেশাগত চিন্তায় আইএসকে এক বহুপক্ষীয় সমস্যার একটি দিক হিসেবে দেখা হয়। এতে ইরাকীরা, ইরানীরা এবং ২০০৩ সাল থেকে আমেরিকানদের জড়িত থাকার বিষয়টিও সম্পৃক্ত।

ইরাকীদের মধ্যে রয়েছে আইএসের মতো সুন্নি মুসলিম, কুর্দী সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া সম্প্রদায়।

আমেরিকা আইএসের বিরুদ্ধে কুর্দীদের সমর্থন করছে, কিন্তু তা এত বেশি নয় যে, তারা স্বাধীনতা চাইতে উৎসাহিত হবে। তাদের স্বাধীনতার অর্থ ইরাক খ-বিখ- হয়ে যাওয়া। ২০০৩ সালের আক্রমণের পর আমেরিকা ইরাক যাতে ভেঙ্গে না পড়ে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং আমেরিকার কোন কোন প্রতিশ্রুতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

আমেরিকা আনুষ্ঠানিক সেনাবাহিনীর ভিতরে ও বাইরে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়াদেরও সমর্থন করে। তারা যথেষ্ট মার্কিন সমর্থন নিয়ে আইএসকে পরাজিত করতে পারত। তারা এরই মধ্যে আইএসের কেন্দ্রভূমি আনবার প্রদেশের বাইরে কোন কোন স্থানে তা করে যাচ্ছে।

তবে শিয়াদের আরও বড় সমর্থক হলো ইরানীরা। কাজেই ত্বরিত জয় অর্জন করা হলে ইরাকের সুন্নি জনগোষ্ঠী তেহরানের হাতে বন্দী হয়ে পড়বে। তারাও গুরুত্বপূর্ণ কথা, আইএসের বিরুদ্ধে শিয়া, আমেরিকান ও ইরানীদের যৌথ বিজয় সুন্নি নির্যাতনের প্রচারিত কাহিনীকেই সত্য বলে নিশ্চিত করবে। এ প্রচারণাই আইএসের উত্থানে ইন্ধন যুগিয়েছিল। এটি কেবল এক সাময়িক বিজয়ই হবে বলেই ওবামা বিশ্বাস করেন।

এর বদলে তিনি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত সেনাবাহিনী, সুন্নি সম্প্রদায় এবং এর উপজাতীয় জঙ্গীরা আমেরিকান সৈন্যদের অংশগ্রহণ ছাড়াই আইএসকে পরাজিত করবে বলে আশা করছেন। কিন্তু স্পষ্টতই শীঘ্রই এরূপ ঘটতে যাচ্ছে না। আইএসকে পরাজিত করার মতো উপযুক্ত সামর্থ্য যাতে অর্জন করতে পারে, সেই মানে মাত্র কয়েক হাজার লোককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তারা ফালুজা ও মসুলের মতো আইএস ঘাঁটিগুলো তো দূরের কথা, এমনকি রামাদি পুনর্দখলেরও চেষ্টা পর্যন্ত করেনি। কাজেই ওবামার নীতি হলো অপেক্ষা করা, সম্ভব হলে আইএসের প্রভাব ঠেকানো এবং আইএস নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়বে বা কোনদিন তার অনুগ্রহপুষ্ট সৈন্যরা দলটির ওপর আক্রমণ চালাবে বলে আশা করা। সিরিয়ার ক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশ এমনকি আরও জটিল, কিন্তু তার ফলাফল একই দাঁড়ায়। ওবামার কল্পিত জগতে অজিহাদী, আইএসবিরোধী বিদ্রোহীরা কোনদিন নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার মতো নৈতিক ও সামরিক শক্তি অর্জন করবে এবং শেষ পর্যন্ত দেশজুড়ে তাদের প্রভাব বিস্তার করবে।

এর জন্যও সময় দরকার। সে সময়ে আসাদ সরকারের পতন হতে দেয়া যাবে না, কারণ এতে আরও অরাজকতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কুর্দীদের সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কোন পৃথক আধা স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া যাবে না, কারণ এতে তুরস্ক অসন্তুষ্ট হবে বলে ভয় রয়েছে, স্থানীয় আল কায়েদা শাখা জাবহাত আল নুসরাকেও বিদ্রোহীদের ওপর আধিপত্য কায়েম করতে দেয়া যাবে না। কাজেই আবারও দ্রুত বিজয় লাভের কোন তাড়া নেই। ওবামা আশা করছেন, কোন এক পর্যায়ে এসব আল কায়েদা বিদ্রোহী আইএসকে পরাজিত করবে। এরপর তারা এত শক্তিশালী এক বাহিনীতে পরিণত হবে যে, তারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়া এবং এক শান্তিচুক্তির বিষয়ে আলোচনায় আসতে বাধ্য করতে পারবে। এরূপ চুক্তি কেবল পাশ্চাত্যেরই নয়, রাশিয়া ও চীন এবং সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আমেরিকার নতুন আধা-অংশীদার ইরানেরও সমর্থন পারে।

বিশ্ব নিয়ে এটিই ওবামার ভাবনা। মধ্যপ্রাচ্যের নিরিখে সেখানে সুন্নি ও শিয়া, সৌদি ও ইরানীর স্বার্থের ভারসাম্য ঘটবে। বিশ্ব ইতিহাসে দেখা যায়, যুদ্ধ চালানো সাধারণত বেশ সহজ বিষয় শত্রুকে যত তাড়াতাড়ি পরাজিত করতে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োস করুন। ওবামা বিশ্বাস করেন, পৃথিবী এত বদলে গেছে যে, এরূপ পুরনো ধ্যানধারণা আর কাজে আসে না। তিনি অভ্রান্ত কি না তা সময়েই বলে দেবে কিন্তু তিনিও জানেন যে, এতে বেশ সময় লাগবে। সেই সময়ের মধ্যে আরও অনেক লোকের মৃত্যু ঘটবে, আরও অনেক লোক বাস্তুহারা হবে এবং আরও অনেক লোক আইএসে যোগ দেবে। -টেলিগ্রাফ