২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রোমাঞ্চকর অম্লান অনুভূতির কথা

  • একে মোহাম্মদ আলী শিকদার

২৯ জুলাই ২০১৫। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এজলাস। সকাল সাড়ে আটটার পর থেকেই কালো গাউনপরা গুরুগম্ভীর সব আইনজীবী একের পর এক, কেউবা আবার দল বেঁধে মেটাল ডিটেক্টর পার হয়ে এজলাস কক্ষে প্রবেশ করছেন। চক্রাকারের লম্বা লম্বা করিডরে যতদূর চোখ যায় লোকে লোকারণ্য। সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের পক্ষ থেকে আমরা কয়েকজন করিডরের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি মূল এজলাস কক্ষের দিকে। টেলিভিশন ক্যামেরার চোখের বিচরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, সে চোখে ধরা পড়ছে সবাই। এজলাস কক্ষের কাছে পৌঁছতেই আমাদের অনুমতি এসে যায়, আমরা সহজেই এজলাস কক্ষে প্রবেশ করি। সঙ্গত কারণেই সবাই এজলাস কক্ষে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। এই ভিড়ের মধ্যে উৎসুক ও জিজ্ঞাসুনেত্রে এবং কিছুটা আশা, কিছুটা শঙ্কাযুক্ত চিত্তে দলে দলে বারান্দার সর্বত্র পদচারণা করছেন ব্যাপকসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের নতুন প্রজন্মের সদস্যরা। তবে বারান্দাগুলোকে অধিকতর জনাকীর্ণ করে রেখেছেন সাংবাদিক ভাইবোনেরা। জুতসই জায়গায় ক্যামেরাসহ অবস্থান নেয়ার জন্য সব টেলিভিশনের রিপোর্টার যে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা করছেন, সেটাও চোখে পড়ল। আমরা ভেতরে ঢুকে দেখি, প্রশস্ত এজলাস কক্ষ। সারি সারি বেঞ্চ, চলাচলের জন্য মাঝখানে চওড়া আইল। একেবারে সামনে মুখোমুখি অবস্থায় মাননীয় আদালতের বসার জন্য যথা উঁচু মঞ্চ। আমাদের প্রবেশের আগেই কক্ষের অর্ধেকেরও বেশি সামনের দিকের বেঞ্চগুলো কালো গাউনের আচ্ছাদনে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সামনের দিকে সিনিয়র আইনজীবীদের জন্য দুয়েকটি আসন খালি আছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রায় মাঝামাঝি একটি বেঞ্চে আমরা বসে পড়লাম। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন বীরপ্রতীক, সাবেক সেনাপ্রধান, সিনিয়র সাংবাদিক ও সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুন হাবিব, সাবেক রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল আলম শহীদ এবং আমি একই বেঞ্চে বসলাম। সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের যুগ্মমহাসচিব ম. হামিদ কোন পরিচিতজনের সঙ্গে অন্য বেঞ্চে বসেছেন। নয়টা বাজতে পাঁচ-সাত মিনিট বাকি, বিচারপতিগণ কেউ তখনও এজলাসে আসেননি। তাই সকলেই নিচু স্বরে আদালতের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে একটু-আধটু ক্রস টক করছেন। এর মধ্যে আরও কিছু মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা এজলাস কক্ষে প্রবেশ করে যে যার মতো খালি বেঞ্চে বসে পড়েছেন। এজলাস কক্ষ এখন পরিপূর্ণ। আমি একবার আশপাশে এবং পেছনের দিকে তাকালাম। মুক্তিযোদ্ধারা সবাই চুপচাপ। কিন্তু দেখলাম সবার চোখ খোলা, বড় বড়। একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে, কেউ কেউ আবার হাত উঁচু করে নিজের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। অনুভূতিতে বুঝলাম, মনে মনে সবাই সবার চোখের ভাষা বুঝতে পারছেন।

নয়টা বাজার মিনিট তিনেক আগে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি এ্যাটর্নি জেনারেল কক্ষে প্রবেশ করে একেবারের সামনের সারির একটি আসনে বসে পড়লেন। অনেক আগেই সামনের সারিতে বসে আছেন অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীর প্রধান আইনজীবী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খোন্দকার মাহবুব হোসেন। নয়টা বেজে ঠিক এক কি দুই মিনিট, অন্য তিনজন বিচারপতিসহ মাননীয় প্রধান বিচারপতি এজলাসে প্রবেশ করলেন। সবাই উঠে দাঁড়ালেন। পিনপতন নীরবতা। মাননীয় বিচারপতিগণ আসন গ্রহণ করলেন। আমি আরও একবার ডানে-বাঁয়ে ও পেছনের দিকে তাকালাম। সবার ঠোঁট বন্ধ, চোখ সামনের দিকে। মুহূর্তের মধ্যে প্রধান বিচারপতির সামনে রাখা মাইক্রোফোনের লাল চিহ্ন দেখা গেল। অজান্তেই মনটা একবার দুরু দুরু করে কেঁপে উঠল। সামনের বেঞ্চের ওপর একটু ঝুঁকে পড়লাম, অতিরিক্ত কান খাড়া করার বৃথা চেষ্টায়। কী বলবেন মাননীয় প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি কী বললেন তা স্পষ্ট হওয়ার আগেই দেখলাম এ্যাটর্নি জেনারেল দাঁড়িয়ে আরও সামনে গেলেন। অস্পষ্টভাবে শোনা গেল সুয়োমটো রুল, জনকণ্ঠের প্রকাশক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে আগস্টের তিন তারিখে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে একটা নিবন্ধ প্রকাশ ও লেখার জন্য তাদের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে নাÑ তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকারের নামও উচ্চারিত হলো, কিন্তু ওই সময়ে ভাল করে বুঝতে পারলাম না। মনটা আরেকবার কেঁপে উঠল। সাপ্তাহখানেক আগে সাকা চৌধুরীর অপকীর্তি সম্পর্কে এবং সে প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাসহ এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের অনুভূতির ওপর একটি নিবন্ধ আমিও জনকণ্ঠে লিখেছিলাম। তবে মাননীয় আদালত সম্পর্কে কোন কথা আমার লেখায় ছিল না।

তারপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এক বা দুই মিনিটে মাননীয় প্রধান বিচারপতি রায় শোনালেন। আইনের ভাষা, পেছন থেকে ভাল করে বুঝতে পারলাম না। তবে সামনের দিকে বসা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আইনজীবীদের চোখ ও মুখের উজ্জ্বলতা দেখে মনে হলো, ভয়ের কিছু বোধহয় নেই। একটু পরেই মাননীয় বিচারপতিগণ এজলাস কক্ষ ত্যাগ করলেন। সবাই আবার দাঁড়িয়ে গেলেন। সামনের সারিতে বসা আইনজীবীগণ এগিয়ে এসে বললেন, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাকা চৌধুরীকে প্রদত্ত মোট ৯টি দ-ের মধ্যে ফাঁসির দ-সহ ৮টি দ-ই আপীল বিভাগ বহাল রেখেছেন। অর্থাৎ সাকা চৌধুরীর ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। ফাঁসি কার্যকরের পথে বড় কোন দীর্ঘপ্রক্রিয়া আর বাকি রইল না। আমরা এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে আসছি। একাত্তরের মাঠের মুক্তিযোদ্ধা এবং নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধারা অশ্রুসিক্ত গালভরা বিজয়ের হাসিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন, হাত মেলাচ্ছেন, জয়বাংলা বলছেন, কেউবা আবার ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন। সে এক অপূর্ব তৃপ্তিদায়কভরা হৃদয়ের দৃশ্য। এমন ভুবনমোহনী দৃশ্যের মনোমুগ্ধকর আবেগ-অনুভূতির কথা ভাষা দিয়ে অন্যকে বোঝানো যায় না। এগুলো কেবলই হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়, উপভোগ করা যায়, মুখে বলা যায় না। একেই বলে আদর্শের জয় ও তার অনুভূতি। ব্যক্তিগত কোন প্রাপ্তিতে এত আনন্দ থাকে না। কারণ সে আনন্দের সীমানা সঙ্কীর্ণ। আর আদর্শের বিজয়ের বিস্তার ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য মানুষের মধ্যে। সে কারণেই সেই আদর্শের প্রাপ্তিতে আনন্দের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ হয় অপরিসীম, আসমানসম। এত মানুষের ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির মাঝেও এমন দৃশ্যের অবলোকন এবং ফ্ল্যাশব্যাকে তাড়িত হয়ে মনে ভেসে ওঠে ৪৪ বছর আগে সংঘটিত এমন এক দৃশ্যপট।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, শীতের সন্ধ্যার আগমুহূর্ত, বড় গোলাকার লাল সূর্যটি বিদায় নিচ্ছে, তবে সে সৌন্দর্য কাউকে টানছে না। বাংলার এক নিভৃত নির্জন পল্লীতে এক ব্যান্ডের একটি রেডিও অন করে দুপুর থেকে সবাই বসা দলবলে, অস্ত্র-গোলাবারুদ যার যার কাছে। অপেক্ষার পালা যেন আর শেষ হয় না। দুপুর থেকে আকাশবাণী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বলা হচ্ছে, আজকের বিকেলের মধ্যেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করবে। এ রকম সময়ে এক মুহূর্তকে মনে হয় এক ঘণ্টারও অধিক। অপেক্ষা আর সয় না। একেকজন একেকরকম মন্তব্য করছেন। কেউ বলছেন, এত তাড়াতাড়ি পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণ করবে না। আরেকজন বললেন, উপায় নেই, পাকিস্তানী সেনাদের যুদ্ধ করার মতো মনোবল শেষ। একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন বললেন, আমেরিকার সপ্তম নৌবহর শেষ পর্যন্ত কী করবে, কে জানে। বঙ্গবন্ধুকে কি পাকিস্তান জীবিত ছেড়ে দেবে?Ñ কে যেন একজন মন্তব্য করলেন। এভাবেই এক সময়ে চলে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডিসেম্বর মাস, বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হয় হয়। পাঁচটা বাজার পর পরই আকাশবাণী কলকাতা থেকে ঘোষণা করা হলোÑ ‘এইমাত্র পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল নিয়াজী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অবনত মস্তকে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। এই মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম এবং শত্রুমুক্ত, জয় বাংলা।’ মুহূর্তের মধ্যে সেদিন নিজেদের ভেতরে যে দৃশ্যের সৃষ্টি হলো, তার সঙ্গে ৪৪ বছর পর এসে সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে ২৯ জুলাই সৃষ্ট দৃশ্যের তুলনায় প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতার কোন মিল না থাকলেও, মনুষ্য হৃদয়ের আবেগÑঅনুভূতির জোয়ারের তোড়ে মানস নদীর জল পাড় উপচিয়ে দুই দৃশ্যকে মিলিয়ে দিয়েছে, একাকার হয়ে গেছে। কারণ ১৯৭৫ সালের পর থেকে সাকা চৌধুরীরা পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছে বাংলাদেশে। এরা দুই সামরিক শাসক ও তাদের প্রতিভূদের ছত্রছায়ায় একাত্তরের মতোই নিরীহ অসহায় মানুষকে হত্যা করেছে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। সাকা চৌধুরী দম্ভভরে বলেছে, কেউ তাকে কিছু করতে পারবে না। সুতরাং ২৯ জুলাই আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি হলো। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের মতোই নতুন একটি বিজয় অর্জিত হলো।

ফিরে আসি আদালত প্রাঙ্গণের দৃশ্যের কথায়। এজলাস কক্ষ থেকে বের হয়ে দেখি বারান্দাগুলো আরও জনাকীর্ণ, বের হওয়াই মুশকিল। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সাংবাদিক লাইভ দৃশ্য ধারণ করছে এবং ঘটনার লাইভ ধারাবিবরণী দিচ্ছেন। এক টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে কথা শেষ করছেন তো আরেক চ্যানেলের ক্যামেরা উপস্থিত। আইনজীবী, বিশিষ্টজন ও মুক্তিযোদ্ধারা এভাবেই রায়ের ওপর অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন এবং জনধাক্কায় সামনের দিকে এগোচ্ছেন। সকলেরই প্রতিক্রিয়ায় একই রকম সুর লক্ষ্য করেছি। একজন সাচ্চা পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধী ও দাম্ভিক ডেভিলের মৃত্যুদ- আপীল বিভাগে বহাল থাকায় প্রমাণ হয়েছে, কেউ আইনের উর্ধে নয়। জন্মসূত্রে আমরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক, এটাই আমাদের পরিচয়। পাসপোর্ট বা বিদেশে ভ্রমণের সময় ইমিগ্রেশন ফরম ইত্যাদি সব জায়গায় আমরা সেটাই লিখি। বাংলাদেশকে অবজ্ঞা এবং তার মূল আনুগত্য কোন রাষ্ট্রের প্রতি, তা পরোক্ষভাবে বোঝাবার জন্য সাকা চৌধুরী প্রকাশ্যে সব সময় বলত, সে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক নয়। বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন সাকা সম্পর্কে বলেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সাকার কণ্ঠ ছিল সুউচ্চ।’ তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সেই দেশ কোনটি? এতকিছুর পর মানুষ ভেবেছিল বিএনপির বোধহয় একটা টার্নিং হবে; কিন্তু না, আবার একবার স্পষ্ট হলো বিএনপির রাজনীতির সুতার গোড়া কোথায় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে তাদের অবস্থান কী! ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর রোডমার্চ শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, নিজামী, মুজাহিদ, সাকা কেউ যুদ্ধাপরাধী নয়, তাদের মুক্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০১১ সালের তিন ডিসেম্বর মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে বিএনপি সংবাদ সম্মেলনে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ ও ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেয়ার দাবি জানান। তারপর ব্যারিস্টার খোন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই বিচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার হবে। দেখেশুনে মনে হচ্ছে, আগের মতো কোমরের জোর থাকলে এত সময় জামায়াতের স্টাইলে বিএনপিও ধ্বংসযজ্ঞে নেমে যেত। কারণ ২০১৩ সালে সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর জামায়াতের ধ্বংসযজ্ঞে বিএনপিও যোগ দিয়েছিল। লেখাটি শেষ করতে হবে। সাকা চৌধুরী এক সময়ে দম্ভ করে বলেছে, বাংলাদেশে এমন কোন শক্তি নেই যারা তাকে শাস্তি দিতে পারে। ২৯ জুলাই প্রমাণ হয়েছে, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন সার্বভৌম শক্তিশালী রাষ্ট্র। পেছনের যে শক্তির বলে সাকা চৌধুরী এমন ঔদ্ধত্য এবং দাম্ভিকতা দেখিয়েছে, তারা আজ বাংলাদেশের কাছে পরাজিত; যেমনভাবে তাদের আমরা পরাজিত করেছিলাম একাত্তরে।

লেখক : ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক