২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জেলা প্রশাসক সম্মেলন

রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন ও গৃহীত পরিকল্পনা জনস্বার্থে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব অপরিসীম। জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন এবং কল্যাণে জেলা প্রশাসকরা তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারেন। এই প্রত্যাশাকে বিবেচনায় নিয়ে তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে প্রতি বছরই মাঠ পর্যায়ের সরকারী উর্ধতন কর্মকর্তাদের বার্ষিক এ সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এবারও তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিসিরা জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করেন। তাই গণমানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। শুধু সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে নয়, দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের ১৮টি অধিবেশনে ডিসিদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২৫৩টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় আগরতলার সঙ্গে নতুন সড়ক-রেল যোগাযোগ, ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি, রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ চলমান নানা সমস্যার বিষয়গুলোও উঠে আসে। সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে ডিসিদেরকে নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় একজন সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। সম্মেলনে উত্থাপিত ডিসিদের অধিকাংশ দাবি-দাওয়া জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলেই প্রতীয়মান হয়েছে।

এবারের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ২১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। একথা সত্য যে, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের সার্বিক সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব-কর্তব্য অনেক। তাই নারী-শিশু নির্যাতন এবং পাচার, মাদকের অপব্যবহার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিয়ে রোধে ডিসিরা কাজ করলে এর সুফল পাওয়া সহজ। এ ছাড়া জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা, ভূমি ব্যবস্থাপনায় সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সরবরাহ, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে গণসচেতনতাসহ জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে রাষ্ট্র ও সমাজজীবনের সব ক্ষেত্রে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন তার বাস্তবায়নও কঠিন কাজ নয়। দেশ ও মানুষের স্বার্থে এ নির্দেশনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে জনমনে শান্তি ও স্বস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন হতে পারে। কারণ তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকাকে স্বীকার করতেই হবে।

এটা বিশ্বাস করা স্বাভাবিক যে, জেলার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব জেলা প্রশাসকরা যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম হয়, তাহলে গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নত হতে বাধ্য। ভুললে চলবে না ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা দক্ষতার সঙ্গে জেলা প্রশাসকরা সামলিয়েছেন। গত ৫ জানুয়ারি থেকে টানা ৯২ দিনের নাশকতা, নৈরাজ্য এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডও তারা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সামনের দিনেও এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরও দৃঢ়তার পরিচয় মিলবে সে প্রত্যাশা করা যায়। আমাদের আশা, সরকার ডিসিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে তৃণমূলের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে আরও অবদান রাখবেন।