১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিনিয়োগ বাড়ার জন্য দরকার সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি

  • এমসিসিআই সেমিনারে অভিমত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব, স্থায়ী নীতিমালা এবং মানসম্মত বিনিয়োগ ব্যবস্থা না থাকায় দেশে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। এছাড়া সরকারী কর্মকর্তাদের মনোভাব, অবকাঠামো এবং বিদ্যুত ও জ্বালানি সমস্যা নতুন বিনিয়োগ না হওয়ার জন্য দায়ী বলে মতামত দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে শনিবার দুপুরে ব্যবসায়ী নেতারা এ সব কথা বলেন। এমসিসিআই সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আব্দুস সামাদ। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল প্রধান অতিথি থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি উপস্থিত হননি।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডিউলের (এসএএনইএম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী মাইদুল ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. ফরাস উদ্দিন, সাবেক বাণিজ্য সচিব সোহেল আহমদ চৌধুরী, সাবেক সচিব সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী, উত্তরা মটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, আবদুল মোনেম গ্রুপের ডিএমডি মাইনুদ্দিন মোনেম, এফবিসিসিআই পরিচালক সাফকাত হায়দার, ঢাকা চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও এনআরবি এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেকিল আহমদ চৌধুরী, গোলাম মহিউদ্দিন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

মূল প্রবন্ধে সেলিম রায়হান বলেন, ‘গত ১২ বছর বাংলাদেশের জিডিপি ৬ শতাংশের ঘরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সম্প্রতি নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে হলে ৮ শতাংশ হারে জিডিপি অর্জন করতে হবে। এ জন্য নতুন বিনিয়োগ করতে হবে। আর নতুন এ বিনিয়োগের জন্য রাজনৈতিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিমালার সংস্কার, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউটগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।’ ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগ বাড়ার জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে হবে। এ ছাড়া সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ কর আদায় বৃদ্ধির জন্য ‘টেক্স নেট’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য রেলপথ ও নদীপথের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ আমাদের দেশে সড়কপথ খুব বেশি সুবিধা আনবে না। নদীপথ বন্ধ হয়ে আমাদের উন্নয়নের সর্বনাশ হয়েছে।’ এ ছাড়া ট্যাক্স বাড়ানোর জন্য উপজেলা পর্যায়ে ট্যাক্স অফিস করার পরামর্শ দেন তিনি। ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘সারাবিশ্বে ১৮শ’ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই আসে। সেখানে বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলার এফডিআই আসছে। বিনিয়োগ বোর্ডে ড. সামাদের মতো স্বনামধন্য ব্যক্তি থাকার পরেও এত কম এফডিআই আসা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমাদের ওয়ানস্টপ নয় ফুলস্টপ সার্ভিস দিতে হবে।’

এএসএম মাইনুদ্দিন মোনেম বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে।’ পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের ভাল চিন্তা, উত্তম বিনিয়োগ নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ছাড়া নতুন বিনিয়োগের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, ব্যাংকিং উৎসের বাইরে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দেন তিনি।

সেকিল আহমদ বলেন, ‘নতুন বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের ভোগান্তিমুক্ত করে দিতে হবে। সরকারী কর্মকর্তারা বেসরকারী উদ্যোক্তাদের শক্র ভাবছেন। অবস্থা এমন হয়েছে যে সরকারপ্রধান ছাড়া কোন মন্ত্রণালয় কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। অথচ বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণ ছাড়া কর্মসংস্থান হবে না। আর কর্মসংস্থান না হলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না। এছাড়া বিনিয়োগের জন্য তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান, যাতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ নীতিমালার পরিবর্তন না হয়।’

সেকিল চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে যারা আছেন তারা প্রধানমন্ত্রী যা শুনতে পছন্দ করেন তাই শুনান। এতে প্রকৃতচিত্র তার সামনে উপস্থাপন হচ্ছে না। অবস্থা এমন হয়েছে যে, যার যা বলা দরকার তিনি তা বলছেন না। বিচারের বিষয়ে বলছেন শিল্পমন্ত্রী। আবার শিল্পের বিষয়ে বলছেন ধর্মমন্ত্রী। এ অবস্থা দূর করতে তিনি সব শ্রেণী-পেশার বিশেষজ্ঞ ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করার পরামর্শ দেন।’