২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত দেশ, পাহাড় ধসে ৬ জনের মৃত্যু

  • বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা ভারি বর্ষণে বিপর্যস্ত সারাদেশ। শনিবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। নতুন নতুন এলাকা হয়েছে প্লাবিত। উপকূলীয় এলাকার শত শত পরিবার কয়েকদিন ধরে পানিবন্দী হয়ে আছে। পাহাড় ধসে লামায় দু’শিশুসহ ৬ জন এবং রাঙ্গামাটিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মায় দু’টি বালুবাহী ট্রলার ডুবে ৩২ বালু শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। ফের বাড়ছে দেশের নদনদীর পানি। শনিবার পর্যবেক্ষণাধীন ৮৫টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৪৫টির পানি বৃদ্ধি পায়। তলিয়ে গেছে শত শত একর ফসলী জমি। নদী ভাঙনকবলিত এলাকার আয়তন বেড়েই চলেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল। আর দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে বন্ধ ছিল ফেরি চলাচল। জলাবদ্ধতার কারণে সাতক্ষীরার ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জোয়ারের পানিতে সয়লাব হয়েছে চট্টগ্রামের বাণিজ্যপাড়া ও অধিকাংশ উপজেলা এবং এতে দেশের ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশি। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছে রাজধানীবাসী। গত দু’দিন ধরে রাজধানীতেও টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। নিম্নচাপের পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল রয়েছে মৌসুমী বায়ু। তাই শনিবারও সারাদেশে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হয়েছে, আজ রবিবারও তা অব্যাহত থাকবে। দুর্বল স্থল নিম্নচাপটি এখনও বাংলাদেশেই অবস্থান করছে। সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আগস্ট মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি মৌসুমী নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় স্বাভাবিক বন্যা হতে পারে। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ঢাকা বিভাগে ৩১০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৫৫৬ মিমি, সিলেটে ৪৫৬ মিমি, রাজশাহীতে ২৭৩ মিমি, রংপুরে ৩৭১ মিমি, খুলনায় ২৯৮ মিমি ও বরিশাল বিভাগে ৪৩৩ মিলিমিটার হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধিপাচ্ছে যা আগামী ৩ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারি বর্ষণ হচ্ছে যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারও বান্দরবন জেলাসমূহের কতিপয় অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে যা আগামী ৪ দিনপর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে যা আগামী ২ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বান্দরবান॥ নিজস্ব সংবাদদাতা বান্দরবান থেকে জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ৬ জন নিহত হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছে একজন। শুক্রবার রাত ২টার দিকে জেলার লামা উপজেলার হাসপাতাল পাড়ায় প্রচ- বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় কয়েকটি কাঁচা বাড়ির ওপর ধসে পড়লে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- আমেনা বেগম (৩৬) তার ছেলে আরাফাত (১৪), রোজিনা আক্তার (২৫), তার শিশুপুত্র সাজ্জাদ (৪) এবং বশির আহাম্মদ (৫০) ও তার নাতনি ফাতেমা আক্তার (১১) । লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় নিহতদের প্রত্যেকেই ঘুমের মধ্যে ছিলেন। তাই পাহাড় ধসের সময় তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাপা পড়েন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় দমকলকর্মীরা একে একে নিহতদের লাশ মাটির নিচ থেকে বের করে আনেন।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাজি মুজিবর রহমান জানান, প্রায় ৫শ’ ফুট উঁচু থেকে পাহাড় ধসে পড়ে, নিহতদের লাশ উদ্ধার করতে খুব কষ্ট হয়েছে।

চট্টগ্রাম ॥ স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম অফিস থেকে জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে সাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে গত দু’দিন ধরে ভাসছে দেশে ভোগ্যপণ্যের একক বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ-চাক্তাই। এর পাশাপাশি আছাদগঞ্জ, কোরবানিগঞ্জ, আমির মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায়ও জোয়ারের পানি বিভিন্ন গুদামে ও পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে প্রবেশ করায় শতকোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এ্যাসোসিয়েসন। এছাড়া শনিবার বৃষ্টিপাত কমলেও কয়েকটি উপজেলায় পরিস্থিতি অবনতিশীল।

খাতুনগঞ্জ, চাক্তাইসহ সংশ্লিষ্ট ছোট-বড় বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোতে গত শুক্রবার প্রথম দফায় এবং শনিবার দ্বিতীয় দফায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় পুরো বাণিজ্যপাড়া। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় লেনদেন বন্ধ থাকলেও এর আগের দিন বৃহস্পতিবার কোন ধরনের লেনদেন বা বেচাকেনা এবং পণ্যের ওঠানামা হয়নি। খাতুনগঞ্জ ট্রেড এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, দেশের এ বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্রে ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকারও বেশি ছাড়িয়ে যাবে। এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, ছোট বড় পাইকারি ও খুচরা দোকান এবং গুদামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানিতে সয়লাব হয়ে রয়েছে। এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বাণিজ্য কেন্দ্রে ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন জাতের আমদানি পণ্যের ৫ হাজার দোকানপাট ও ট্রেডিং হাউস রয়েছে। এগুলোর কোন না কোনটি জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গেছে, বেড়িবাঁধ না থাকা, কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং না হওয়া, চাক্তাই খালের মুখে স্লুইচগেট না থাকার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গামাটি ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা রাঙ্গামাটি থেকে জানান, অবিরাম প্রবল বর্ষণে শনিবার রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ঘিলাছড়ি এলাকায় সড়কের এক অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় এই সড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে । ফলে রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এই সড়কটির কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় সড়কটি বৃষ্টিতে ধসে পড়েছে। এদিকে জেলার কাউখালীর বেতবুনিয়ার কালিছড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে পাহাড় ধসে নাপ্রুই মারমা (৫২) নামে এক উপজাতি মহিলা নিহত হয়েছে। কাপ্তাই লেকে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লেকের তীরে বসবাসরত বহু বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভোলা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা ভোলা থেকে জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে ভোলায় শনিবার দিনভর ভারি ও মাঝারি বৃষ্টি হয়, বইতে থাকে ঝড়ো বাতাস। মেঘনার পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে জেলার নিম্নাঞ্চল। জেলার দুর্গম চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের অন্তত ৫০ গ্রামে পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। অপর দিকে চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন চরকুকরী মুকুরী ইউনিয়নের পাতিলা গ্রামে জোয়ারের পানিতে দুপুরে স্কুলের ১০/১২ জন ছাত্র ছাত্রী ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

গাইবান্ধা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা গাইবান্ধা থেকে জানান, গাইবান্ধা জেলা শহরসহ সাত উপজেলায় শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে। গোটা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক এবং গাইবান্ধা পৌর এলাকায় ড্রেনগুলো উপচে পড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পথচারী, মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করতে আসা লোকজন বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েন। অনেকে কাজ কর্ম ফেলে দোকানপাট বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হন।

খুলনা ॥ স্টাফ রিপোর্টার খুলনা অফিস থেকে জানান, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ২৯ নম্বর পোল্ডারের চাঁদগড়-জালিয়াখালী এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন তীব্র হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ভাঙ্গন ছিল ৫০ ফুটের মতো। রাতে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। শনিবার ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়ে ৩শ’ ফুট ছাড়িয়ে গেছে। জোয়ারের পানি হু হু করে বিলে প্রবেশ করছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দ্রুত বাঁধটি আটকাতে না পারলে তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম জলাবদ্ধতার শিকার হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ ॥ স্টাফ রিপোর্টার মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, শনিবার সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে ফেরি চলাচল করছে সীমিত পরিসরে। এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ উপকূলরে দিকে এগেিয় আসার খবরে বৃহস্পতিবার সকালে এই রুটে লঞ্চ, সিবোট, ট্রলার জাতীয় নৌ-যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার লঞ্চ ও স্পিডবোট চললেও শনিবার থেকে আবার তা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এসব তথ্য দিয়ে মাওয়া ফাঁড়ির ইনচার্য এসআই মোঃ ইউনুস জানান, প্রচ- বাতাস এবং পদ্মা উত্তাল থাকায় লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্রলারসহ ছোটখাটো নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সতর্কতার জন্যই এসব নৌযান বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া ভাল হলে আবার এসব নৌযান চলাচল শুরু করা হবে। শিমুলিয়া প্রান্তে এখনও প্রায় ২শ’ গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় আছে। দেশের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার শিমুলিয়ায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত কয়েকদিন ধরেই এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে। ফলে জনগণকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

রাজশাহী ॥ স্টাফ রিপোর্টার রাজশাহী থেকে জানান, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে রাজশাহী চারঘাটে বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর আওতায় চারঘাট জোনাল অফিসের কার্যক্রম। দুইদিন ধরে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুত বিছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে, তার ছিঁড়ে এবং ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা রয়েছে অন্ধকারে। দুইদিনেও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারেনি বিদ্যুত বিভাগ। পবিসের চারঘাট জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আসফাকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাতের ঝড়ে উপজেলার অনেক এলাকায় গাছের ডালপালা ভেঙ্গে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। কোন কোন এলাকায় খুঁটিও ভেঙ্গে যায়। ট্রান্সফরমারও বিকল হয়েছে বেশ কয়েকটি। ফলে বিদ্যুত বিছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুত সচল করা সম্ভব হলেও এখন অনেক গ্রামে বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। পবিস চারঘাট জোনাল অফিসের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল কাদির বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার চলছে বৃষ্টি। ফলে বিদ্যুত সংযোগ পুনর্স্থাপনে সময় লাগছে। দ্রুত লাইন সংস্কার করে বিদ্যুত সরবরাহের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, বিরতিহিনভাবে টেকনিশিয়ানরা বৃষ্টি উপক্ষো করে কাজ করে যাচ্ছেন।

হাতিয়া ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা হাতিয়া, নোয়াখালী থেকে জানান, নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শনিবার দুপুরে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে অস্বাভাবিক জোয়ারে নলচিরা ইউনিয়নের দু’টি, চরঈশ্বর ইউনিয়নের দুটি ও সুখচর ইউনিয়নের একটি গ্রাম তলিয়ে যায়। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্রবাহিত জোয়ারের পানি নলচিরা-জাহাজমারা প্রধান সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এলাকার অসহায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে বয়ারচর ও নলেরচরে ৬টি গ্রামে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারে এসব এলাকা প্রায় ৬-৭ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানিবন্দী হয়ে পড়ে কয়েক হাজার মানুষ। মানুষের কাঁচা ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে বিধ্বস্ত হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা মহেশখালী থেকে জানান, একটানা প্রবল বর্ষণ ও পূর্ণিমার জোয়ারের অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়নের বনজামিরাঘোনা, হালখালী ঘোনারসহ ২০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফলে ওই সব এলাকার মানুষ জোয়ারের পানিতে বন্দী অবস্থায় রয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ওসব এলাকায় কোন ধরনের ত্রাণসামগ্রী না পৌঁছায়নি। গরিব ও অসহায় জনসাধারণ মানবেতর জীবনযাপান করছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বন্যাকবলিত মানুষ। দুর্গত এলাকার আক্রান্ত মানুষকে উদ্ধার ও ত্রাণ সহায়তা জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ বাচ্চু। অপরদিকে উপজেলা প্রধান সড়ক সহ অভ্যন্তরীণ সড়কের প্রায় ২০টি স্থানে ছোট বড় ভাঙ্গনের সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত গাড়ি চলাচলা বন্ধ রয়েছে।