২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তরায় গণধর্ষণের ঘটনায় দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানী উত্তরায় দুর্বৃত্তদের লালসার শিকার বিক্রয় প্রতিনিধি তরুণীর গণধর্ষণের আলামত পেয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী ডাঃ বিলকিস বেগম। এদিকে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আরিফ (২৫) ও সাদিকুল ইসলাম বাবুকে (২১) গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে পুলিশ এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে চারজনকে আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের ছবি ধর্ষিতা তরুণীর কাছে পাঠালে ছবি দেখে দুই জনকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ বাকি দু’জনকে ছেড়ে দেয়।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর ডাঃ বিলকিস বেগম জানান, ওই তরুণী গণধর্ষণের আলামত মিলেছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই রিপোর্ট দিয়েছেন। তবে তার বয়স নির্ধারণ করা হয়নি। বয়স নির্ধারণের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। বয়স নির্ধারণের পর দুই-একদিনের মধ্যে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উত্তরার রাজলক্ষ্মীর স্বপ্ন সুপার শপে সেলসম্যান কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এক বিক্রয় প্রতিনিধি তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তারই সহকর্মী ও বন্ধুরা মিলে রাতভর ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিতাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসিতে) ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় তার বয়স লেখা হয়েছিল ১৭ বছর। তবে ডাক্তারি পরীক্ষার পর মেয়েটির প্রকৃত বয়স জানা যাবে। ধর্ষিতার বোনজামাই বিল্লাল হোসেন জানান, গত বছর সে এসএসসি পাস করে। সংসারে অভাব অনটনের কারণে তিন মাস আগে ঢাকা আসেন। এরপর আড়াই মাস আগে উত্তরার রাজলক্ষ্মীতে স্বপ্ন সুপার শপে সেলসম্যান হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন তিনি হেঁটেই কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতেন। পরে রাত ১১টার দিকে শ্যালিকা বাসায় গিয়ে বোনকে জানায়। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে রাত ৩টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। তিনি জানান, শ্যালিকা একটু সুস্থ হলেই এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হবে। জানা গেছে, ধর্ষিতার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জে। উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টরে বড় বোনের সঙ্গে থাকতেন ওই তরুণী।

এদিকে শুক্রবার গভীররাতে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। এর আগে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টর থেকে অপর সহযোগী আরেক অভিযুক্ত ধর্ষক সাদিকুল ইসলাম বাবু ও আশুলিয়ার জিরাবো থেকে আসলাম উদ্দিন আসলামকে (২২)সহ চারজনকে আটক করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

র‌্যাব-১-এর উপ-অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার কাজী মোঃ শোয়াইব জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে তার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আরিফকে দক্ষিণ চালাবন এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের বাবার নাম মোঃ মিজানুর রহমান ফিরোজ। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার সুলতানাবাদ গ্রামে। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি আলী হোসেন জানান, ঘটনার পর পর তিনজনকে আটক করা হয়। র‌্যাব-১ প্রধান আসামি আরিফকে আটক করে। এরপর আটককৃত চার আসামির ছবি ওই তরুণীর কাছে পাঠানো হয়। পরে ছবি দেখে দুই জনকে শনাক্ত করেন ধর্ষিতা ওই তরুণী। ওসি জানান, ওই তরুণী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৩৮। তিনি জানান, এ ঘটনায় চারজন ছিল। এখনও দুইজন বাকি রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সহকর্মী আরিফ তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আরিফ পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে আরিফ ও তার বন্ধুরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাত ১১টার দিকে ওই তরুণীকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে রাত ৩টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়।