২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা টেস্ট ॥ তৃতীয় দিনও বৃষ্টিতে ভেসে গেল

মিথুন আশরাফ ॥ ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে লেখা ছিলÑ২৪৬/৮। সাকিব আল হাসান তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বাত্মক ব্যাটিং করেছি। এখন সময় বোলিং হামলার!’ সেই বোলিং হামলা করতেই পারছে না বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে যে দ্বিতীয় দিনের পর তৃতীয় দিনও ভেসে গেছে।

বাংলাদেশের হাতে এখনও ২ উইকেট আছে। সেই ২ উইকেটই শেষ হচ্ছে না। আগে তো বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হতে হবে। এরপর না দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শুরু হবে। আর সেই ইনিংস শুরু হলেই না বাংলাদেশের বোলাররা বোলিং করার সুযোগ পাবেন। বৃষ্টি সেই সুযোগ দিচ্ছেই না। প্রথমদিনে স্কোরবোর্ডে যা লেখা ছিল, সেখানেই খেলা থেমে আছে। আগেই বাড়ছে না।

দ্বিতীয় দিন দুপুর ১২টা ১০ মিনিটেই ম্যাচ রেফারি দিনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিলেন। শনিবার তৃতীয় দিনে সেই ঘোষণা এলো দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে। বোঝাই যাচ্ছে, খেলা হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিতীয় দিনে একেবারেই ছিল না। তাই তো দ্রুতই দিনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তৃতীয় দিনে সেই সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও লাভ হলো না।

বেলা সোয়া ১১টায় বৃষ্টি থামল। তখন আকাশে রোদের ঝলকানিও মিলল। আশাও দেখা হলো, অবশেষে বল আবারও মাঠে গড়াবে। দ্বিতীয় দিন যেখানে টিম হোটেল থেকে মাঠের উদ্দেশে রওনাই হয়নি দুই দলের ক্রিকেটাররা, তৃতীয় দিন মাঠেও এলেন। দুপুর দেড়টায় ম্যাচ রেফারি মাঠ পর্যবেক্ষণ করে দুপুর সোয়া ২টা থেকে খেলা শুরু করার সিদ্ধান্তও নিলেন। ক্রিকেটাররাও প্রস্তুত হতে থাকলেন। কিন্তু ১টা ৫০ মিনিটে আবারও বৃষ্টি শুরু হলো। সেই বৃষ্টি আর থামলই না। তাতে তৃতীয় দিনও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলো।

হতাশই হলেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। তবে কিছুই না পাওয়ার দিনে একটু স্বস্তিও দেখা গেল। মাঠে এসে ঘাসে যে পা অন্তত রাখতে পারলেন। হোটেলবন্দী হয়ে থাকার জ্বালা থেকে খানিক মুক্তি পেলেন। এমনকি মাঠে এসে গা গরমের অনুশীলনও করলেন।

তাতে আসলে খুব বেশি লাভ কী হল? দিন পরিত্যক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম হোটেলে পৌঁছেই নিজের ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করলেন। নিজের হোটেল রুম থেকে বাইরের অবস্থা বোঝালেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর পোস্ট করা ছবির সঙ্গে লিখলেনও, ‘বৃষ্টি থামার কোন আলামতই নেই।’ তাতেই বোঝা গেল কতটা হতাশ মুশফিক। তাতে মুশফিক যেন পরের দিনগুলোর অবস্থাও বুঝিয়ে দিতে চাইলেন। বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছেই। তাতে আর খেলা না হওয়ার শঙ্কাও থাকছে। প্রথমদিন বাদে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন জলে গেছে। এখন চতুর্থ দিনেও সেই সম্ভাবনা থাকছে।

এমন হওয়াতে সাকিব যারপরনাই হতাশ। বলেছেন, ‘বৃষ্টি! আসলে এটা খুবই হতাশাজনক ব্যাপার। আর এটা এমন একটা বিষয় যেখানে আসলে আমাদের কিছুই করার নেই।’ তবে মনোসংযোগ ধরে রাখার দিকেই মনোযোগী সাকিব, ‘আসলে এই ব্যাপারটা একেকজনের কাছে একেকরকম। কেউ যেমন নিজের মতো করে জিম করে প্রস্তুতি নেন। কেউ হয়ত নেটে অনুশীলন করেন। কেউ বা নিজের হোটেল রুমেই সময় কাটান।’ আবারও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার বোলিংয়ের কথাই বললেন, ‘এখন ম্যাচের যা অবস্থা তাতে বড় একটা ভূমিকা বোলারদেরই পালন করতে হবে। বলা যায়, আমরা এখন বোলারদের দিকেই তাকিয়ে আছি।’

সাকিব যখন এ কথাগুলো বলেন, তখন খেলা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটে। এখন হয়ত বোলিং করার সুযোগটি পাবেন বাংলাদেশ বোলাররা। চতুর্থ ও পঞ্চমদিন আছে। এ দুইদিন খেলা হলে দক্ষিণ আফ্রিকা নিশ্চয়ই ব্যাটিংটা ভালভাবেই করবে। তাতে সাকিবের বোলিংয়ের আশা পূরণ হবে। তবে সেই সম্ভাবনাও কতটুকু আছে, তার সবটাই বৃষ্টির ওপর নির্ভর করছে। দ্বিতীয় দিনের পর তৃতীয় দিনও বৃষ্টিতে ভেসে গেল। এখন চতুর্থ ও পঞ্চম দিন বাকি। এ দুইদিনও কি বৃষ্টিতে খেলা হবে না? সেই প্রশ্ন থাকছেই।