২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুবাইয়ে বসেই রফিক সোনার বার ঢোকায় তলপেটে

  • জীবননাশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ॥ ১ দিনের রিমান্ড চেয়ে কোর্টে চালান

আজাদ সুলায়মান ॥ চিকিৎসকদের মতে, পেটের ভেতর লুকিয়ে সোনার মতো কঠিন ধাতু বহন করাটা অবশ্যই মারাত্মক ঝুঁকি। এ ঝুঁকি এতটাই যে, এক পর্যায়ে বহনকারীর গুহ্যদ্বারে ভয়ঙ্কর ক্ষত, পেট ও পাকস্থলীর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন আশঙ্কা জেনেও রফিকুল ইসলাম বার বার এই পদ্ধতিতে সোনা পাচার করেছেন। প্রথমবার রেহাই পেয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয়বার উৎসাহিত হয়েছেন। এভাবে অবিশ্বাস্য কায়দায় তিনি নিরাপদে সোনা আনতেন দুবাই থেকে। ধৃত রফিকুলকে দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

শুক্রবার ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস হলে তার পেটের ভেতর থেকে প্রায় পৌনে এক কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। শনিবার কাস্টমস হলে দিনভর এটাই প্রধান আলোচিত বিষয় ছিল। সোনা পাচারের অভিনব পদ্ধতির এই ঘটনায় কাস্টমস কর্মকর্তাদেরও ভাবিয়ে তুলছে। হঠাৎ সোনা পাচার হ্রাস পাওয়ার নেপথ্যে এ পদ্ধতি কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ সম্পর্কে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার এসএম সোহেল রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, রফিকুলকে নিয়ে যে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে, বার বার তেমন করা সম্ভব নয়। সন্দেহভাজন সব যাত্রীকে এভাবে আটকে রেখে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করিয়ে সোনা উদ্ধার করতে গেলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাত্রী হয়রানির অভিযোগে কাস্টমসকে বেকায়দায় ফেলানোর অপচেষ্টাও চলতে পারে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত নয়টায় দুবাই থেকে যাত্রী রফিকুল ইসলাম (৩৪) ঢাকায় আসেন। তার কাছে সোনা আছে এমন তথ্য আগেই সোর্স নিশ্চিত করেছিল কাস্টমসকে। সেভাবেই তাকে গ্রীন চ্যানেল থেকেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও দেহ তল্লাশি করা হয়। কিন্তু তার লাগেজ, ব্যাগেজ ও শরীরের কোথাও কোন স্বর্ণের অস্তিত্ব না পেয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা কিছুটা বেকায়দায় পড়েন। কিন্তু তখনও গোপন অবস্থান থেকে সোর্স নিশ্চিত করে রফিকুলের কাছে ৭শ’ গ্রাম সোনা আছে।

এ অবস্থায় তাকে কাস্টমস হলের অফিসে নিয়ে বসানো হয়। সেখানেও তাকে বিভিন্নভাবে জেরার মুখে রাখা হয়। যাতে তার কাছ থেকে কোন ধরনের অসংলগ্ন কথাবার্তা মুখ ফসকে বের হয়ে আসে। এ সময় তাকে জুস ও পানিসহ অন্যান্য খাবার খেতে দেয়া হয়। তারপর তাকে হাঁটানো হয়। যাতে পেটের ভেতর কিছু থাকলে সেটা বের হয়ে আসে। তাতেও কাজ হয়নি। কিন্তু তখনও সোর্স নিশ্চিত করে, রফিকের কাছে সোনা আছেই। এদিকে রাত প্রায় শেষ হয়ে আসে। কোন কূলকিনারা না পেয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে যান উত্তরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে । সেখানে এক্স-রে করানো হয়। এতেই ধরা পড়ে তার পেটে দুটো প্যাকেট। এটা নিশ্চিত হয়েই কাস্টমস কর্মকর্তারা রফিকের পেট থেকে সোনার বারগুলো বের করার প্রস্তুতি নেন। তখন রফিক নড়েচড়ে বসেন। তিনি কিছু একটা বলতে চান। এ সময় তাকে ওষুধ সেবন করানো হয়। এক পর্যায়ে তার গুহ্যদ্বার দিয়ে ভেতরে ঢোকানো হয় গ্লিসারিন সাপোজিটর। তখন তিনি মলত্যাগের বেগ প্রকাশ করেন। একটা বালতিতে বসিয়ে তাকে মলত্যাগের সুযোগ দেয়া হয়। মুহূর্তেই তার পেট থেকে বের হয়ে আসে দুটো পোটলা। তার পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে প্লাস্টিকে মোড়ানো সোনার বার। বারগুলো প্লাস্টিক আর কালো রঙের ট্যাপে মোড়ানো ছিল। সেগুলো ছিল রফিকের তলপেটে। পরে ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের এ সোনা দুবাইয়ে বসেই পেটের ভেতরে ঢোকানোর কথা স্বীকার করেন তিনি।