২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংবিধান অনুযায়ী ’১৯ সালে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন

সংবিধান অনুযায়ী ’১৯ সালে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন
  • টুঙ্গিপাড়ায় সৈয়দ আশরাফ

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ, ১ আগস্ট ॥ রক্তাক্ত-কলঙ্কিত আগস্টের প্রথম দিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন করার কোন আলোচনাই সরকার ও আওয়ামী লীগের মধ্যে হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কোন আলোচনা করেননি। তাই সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার দুপুরে বৈরী আবহাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৈয়দ আশরাফের নেতৃত্বে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সবার অংশগ্রহণেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে, তাহলে তাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

ঢাকায় প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়ার পর দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকের মাস আগস্টের ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচী শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। টুঙ্গিপাড়ায় শ্রদ্ধা নিবেদনকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা অংশ নেন। পরে সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন তারা। এরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৈয়দ আশরাফ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালন না করার জন্য বিএনপি চেয়াপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ব্রিটেনের রানীর জন্মদিন শীতের মধ্যে হলেও জনগণের কষ্টের কথা ভেবেই তিনি গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ জুলাই মাসে জন্মদিন পালন করেন। খালেদা জিয়ার জন্মদিন যদি সত্যিই ১৫ আগস্ট হয়েও থাকে, তাহলেও জাতির শোকের দিনের কথা বিবেচনায় এনে তার একদিন পর অর্থাৎ ১৬ আগস্ট জন্মদিন পালন করা উচিত।

মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবির প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী এই সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে ২০১৯ সালে নির্দিষ্ট সময়েই আগামী সাধারণ নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনের প্রস্তুতিই নিচ্ছে। তবে সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদ ভেঙ্গে নিয়ে নতুন নির্বাচন দেয়ার অনুরোধ জানাতে পারেন। এটি হলে যে কোন সময় নির্বাচন হয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, আবার না-ও পারেন। আর প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় নির্বাচন হবে, না হলে যথাসময়ে হবে।

আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ সব দলই অংশগ্রহণ করবেÑ এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্বাচন রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেই থাকবে। আমরা বার বার বলেছি, আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। পাঁচ বছরের মাথায় দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। প্রধানমন্ত্রী সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করি, সবাই সেই নির্বাচনে অংশ নেবে। তিনি বলেন, নির্বাচন বর্জন করা ভাল রাজনীতি নয়। আবারও যদি বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে, তাহলে বিএনপির অস্তিত্বই থাকবে না। নির্বাচন বর্জন করলে কোন লাভও হবে না।

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ইয়াহিয়া, জিয়া এবং এরশাদের সামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তাই আপনি যদি জেনেও যান নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাহলেও আপনার নির্বাচনে অংশ নেয়া উচিত। নির্বাচন বর্জন এখন আর রাজনীতিতে কার্যকর নয়। তাই আপনারা আসুন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনই কারচুপির নির্বাচন হয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করবেন, আগামী নির্বাচনও অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে কোন রূপরেখা বা কোন বিকল্প চিন্তার মধ্যে আওয়ামী লীগ যাবে না। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালে বর্তমান সরকারের নির্ধারিত মেয়াদপূর্তির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই ওই নির্বাচন হবে। এ নিয়ে অন্য কোন রূপরেখা কিংবা ভাবনায় কাজ হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আজ হোক আর কাল হোক, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে।

আগস্টের প্রথম দিন শনিবার প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে ফুল দিয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এতে ফুলে ফুলে ছেয়ে গিয়েছিল জাতির জনকের সমাধি। প্রথমেই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতারা জাতির জনকের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন সর্বস্তরের নেতারা।