১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুলিশের সোর্স শিমুর মুখ বন্ধ করতেই হত্যা করা হয় তাকে

  • রাজধানীতে দশ টুকরো করে তরুণী খুনের রহস্য উদ্ঘাটন

শংকর কুমার দে ॥ পুলিশ ইচ্ছা করলে কি-না করতে পারে! ক্লুবিহীন এক হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচিত করেছে ডিবি পুলিশ। রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এক হতভাগ্য তরুণীর, যাকে খুনের পর লাশ দশ টুকরো করে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, পৈশাচিকভাবে খুন করার পর পুলিশ যাতে চিনতে না পারে সে জন্য দশ টুকরো দেহের বিচ্ছিন্ন অংশে কেরেসিন তেল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তারপর বিচ্ছিন্ন দেহের ১০ টুকরো অংশ বিকৃত করে একেক জায়গায় ফেলে দেয়া হয়। ক্লুবিহীন এ লোমহর্ষক খুনের ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেছে আদালতে দেয়া খুনীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে। খুনীর জবানবন্দীতেই বের হয়ে এসেছে ক্লুবিহীন এক হতভাগ্য তরুণীর নৃশংস খুনের নেপথ্য কাহিনী।

এই নৃশংস খুনের ঘটনাটি ঘটেছে খোদ রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ ফকিরাপুল এলাকায়। আর দশ টুকরা লাশের দুই টুকরা পাওয়া যায় পুলিশ মতিঝিল থানার কালভার্ট রোড এলাকার হোটেল উপবনের পাশে। শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন একটি হাত ও একটি পায়ের কাটা অংশ উদ্ধারের পর নড়ে চড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। মাত্র চার মাস আগে, গত ৯ মার্চ ঘটেছে এ ঘটনা। দশ টুকরা সেই তরুণীর লাশ শনাক্ত করে ক্লবিহীন হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটনের তদন্তের তত্ত্ববধায়ক হিসেবে সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন বর্তমানে র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক পদে কর্মরত সাবেক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর।

র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক ডিবির এ সাবেক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর সেই সময়ের ক্লুবিহীন খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, লোমহর্ষক এ ধরনের খুনের ঘটনায় শিহরণ ও উত্তেজনা জাগায় শরীর ও মনে। যেভাবেই হোক এ ধরনের খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতেই হবে। রাজধানীতে এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য সোর্স নিয়োগ করে পুলিশ। সোর্স মারফত খবর পাওয়া যায়, এ হত্যাকা-টি ঘটেছে ফকিরাপুল এলাকায়। নিহত তরুণীও এক পুলিশ সোর্স। কারাগারে বন্দী পুলিশ সোর্স তার স্বামী নাসিরউদ্দিন। অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। অনুসন্ধানে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগ পাওয়া যায় ফকিরাপুলের ১৯৩/২ নম্বর বাড়ির দেয়ালে। যেই দেয়ালে রক্তের দাগ পাওয়া যায় সেই সাত তলা বাড়ির সিঁড়ির শেষপ্রান্ত থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল আংশিক মাথা। সেই রক্তের দাগ ধরে যেতে যেতে পুলিশ সিঁড়ি বেয়ে ওঠে যায় বাসার ছাদে। পুলিশকে ছাদে ওঠতে হয়েছে দরজার তালা ভেঙ্গে। পুলিশের খবর পেয়েই পালিয়ে যায় বাড়ির মালিক মোবারক হোসেন মন্টি। ছাদের দরজার তালার চাবি নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় বাড়ির মালিক। পলাতক মোবারক হোসেন মন্টি একজন মাদক ব্যবসায়ী। বাড়ির চার তলায় তারা বসবাস করে। চার তলা থেকে আটক করা হয় তার স্ত্রীকে। মন্টির স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ নৃশংস হত্যাকা-ের কথা। জানা যায়Ñ হতভাগ্য নারীর নাম, পরিচয় ও ঠিকানা। পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে বাড়ির মালিক মাদক ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন মন্টিসহ ছয় জনকে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চার জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। খুনীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানা যায়, খুনের নৃশংসতার বিবরণ।

গত ৯ মার্চ। ফকিরাপুল পানির ট্যাংক এলাকায় সাত তলা একটি বাড়ি। বাড়ির ছাদেই খুন করা হয় শিমুকে। খুনের পর তার লাশ করা হয় দশ টুকরা। শরীরের বিভিন্ন অংশ কোরোসিন তেল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে বিকৃত করা হয়। আর সেই বিকৃত অংশগুলো ফেলে দেয়া হয় নানা জায়গায়, যাতে শনাক্ত করা না যায়। হত্যাকা-ের আগে শিমুকে ইয়াবা সেবন করিয়ে মাতাল করা হয়।