২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টিপিপি চুক্তি হলে পোশাক রফতানি চ্যালেঞ্জে পড়বে

  • করণীয় ও কৌশল নির্ধারণ হচ্ছে

এম শাহজাহান ॥ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশের মধ্যে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দেশের পোশাক রফতানি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। শর্তের বেড়াজালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মতো অনেক দেশের বাজার হারাতে পারে বাংলাদেশ। তাই টিপিপি সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন আতঙ্ক। এই বাস্তবতায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে করণীয় ও কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, কানাডা, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর এবং ভিয়েতনাম নিয়ে নতুন এই অর্থনৈতিক জোট করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যা আন্তঃপ্রশান্ত অংশীদারিত্ব বা ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) নামে পরিচিত। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে এই দেশগুলো নিয়ে সৃষ্ট মুক্তবাজারের আকার হবে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। সম্প্রতি ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এ জোটে অন্তর্ভুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

জানা গেছে, বৃহত্তম এই অর্থনৈতিক জোটে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামকে একই হারে শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানি করতে হয়। কিন্তু জোট গঠন হলে শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পাবে ভিয়েতনাম। ফলে দেশের পোশাক খাত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। উদ্বেগের আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে, এই সমস্যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর বাজারেও তৈরি হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) শওকত আলী ওয়ারেছী জনকণ্ঠকে বলেন, এক অর্থে টিপিপি বাংলাদেশের জন্য নতুন সমস্যা। ভিয়েতনাম শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। তাই এ বিষয়ে আমাদের করণীয় ও কৌশল কি হতে পারে তা নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাওয়ার পয়েন্টে আমরা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ আছে তবে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সক্ষমতাও রয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর নিরাপদ কর্মপরিবশে ও শ্রমমান রক্ষায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া এ্যাকশন প্লান বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ। তাই ভিয়েতনাম প্রতিযোগিতা করেও টিকে থাকতে পারবে না। এখনও দেশটি শতভাগ কমপ্লায়েন্স কারখানা গড়ে তুলতে পারেনি।

এদিকে, সম্প্রতি এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, টিপিপি নামে আন্তঃআঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চলমান রয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে উল্লেখিত দেশগুলো নিয়ে সৃষ্ট মুক্তবাজারের আকার হবে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। সম্প্রতি ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ওই জোটে অন্তর্ভুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে আরও বলা হয়, বৃহৎ মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মার্কিন এ প্রচেষ্টায় এশিয়ার দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি ভারত ও চীন (যারা মার্কিন অর্থনীতির প্রতিদ্বন্দ্বী) না থাকার বিষয়টি বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হচ্ছে। এ উদ্যোগকে এশিয়ার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের একটি নতুনতর প্রচেষ্টা হিসেবেও অনেকে বিবেচনা করছে।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম। ইতোমধ্যেই দেশটি মার্কিন বাজারে দ্বিতীয় প্রধান পোশাক রফতানিকারক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম উভয়েই ১৬ শতাংশ হারে যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক দিয়ে থাকে। কিন্তু টিপিপি বাস্তবায়িত হলে ভিয়েতনাম শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানির সুবিধা পাবে, যা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হবে। জানা গেছে, এই চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে যে কয়টি পথ রয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশেরও যুক্তরাষ্ট্রের ওই জোটে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা অথবা দেশটিতে জিএসপি সুবিধায় পোশাক খাত অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দাবি করা। প্রথমটির ক্ষেত্রে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র নেতিবাচক মনোভাব জানিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ