১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাকা চুরিতে বাধা পেয়ে খাদেম হত্যার ঘটনা ঘটে

  • কেউ গ্রেফতার হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে দিশেহারা ধানম-ি ঈদগাহ মাঠ মসজিদের খাদেম দুলাল গাজীর পরিবার। কিভাবে সংসার চলবে তাই ভেবে পাগলপ্রায় দুলাল গাজীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম। সংসারের হাল ধরার মতো বলতে গেলে কেউ নেই। মসজিদ কমিটির তরফ থেকেও আশ্বাস ছাড়া তেমন কিছুই জোটেনি দুলাল গাজীর পরিবারের।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত হত্যাকা-ে ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। তবে হত্যাকা-ের কারণ জানতে মসজিদটির ইমাম ও দুই খাদেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং সার্বিক পরিস্থিতিসহ ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ বলছে, মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়ার আশায় চুরি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে খাদেমকে হত্যার ঘটনা ঘটে। গত ৩০ জুলাই রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ধানম-ি আবাসিক এলাকার ৬/এ নম্বর সড়ক লাগোয়া ছয়তলা ধানম-ি ঈদগাহ মাঠ মসজিদের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ দিকে থাকা পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসেনের বিশ্রাম কক্ষ থেকে মসজিদটির ১৮ বছরের পুরনো খাদেম দুলাল গাজীর (৫০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, উদ্ধারকালে নিহতের গলায় পেশ ইমামের ব্যবহার করা চেক গামছা পেঁচানো ছিল। ইমাম একাধিক গামছা ব্যবহার করতেন। সব সময়ই বিশ্রাম কক্ষে তিনি বাড়তি গামছা রাখতেন। দুলাল গাজীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নাক দিয়ে স্ক্রু ড্রাইভার ঢুকিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ফ্লোরে রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। কক্ষের আলমারি ও সিন্দুক ভাঙ্গা ছিল। সিন্দুক থেকে দুই হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন খোয়া যায় বলে পেশ ইমামের দাবি।

দুলাল গাজী হত্যার ঘটনায় মসজিদটির ৩২ বছরের পুরনো মোয়াজ্জিন মহিউদ্দিন (৬৬) ধানম-ি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, মসজিদে ৫ জন খাদেম। খাদেমরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ঘটনার রাতে এশার নামাজের সময় দুলাল গাজীর দায়িত্ব ছিল, মুসল্লিদের জুতো পাহারা দেয়া। মসজিদ থেকে জুতো চুরি হওয়ায় একজন খাদেমকে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময়ই মুসল্লিদের জুতো পাহারা দেয়ার জন্য রাখা হয়। পাহারায় থাকা খাদেম পরবর্তীতে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের সঙ্গে ছোট ছোট জামাতে বা কোন কোন সময় একা একাই নামাজ আদায় করে থাকেন। ঘটনার দিন এশার নামাজ শেষে পেশ ইমাম বিশ্রাম কক্ষে যান। তখন রাত সোয়া নয়টা। এরপরই বিকট শব্দে চিৎকারের শব্দ ভেসে আসে। খাদেমদের সঙ্গে তিনিও সেখানে যান। দেখেন, দুলাল গাজীর নিথর দেহ কক্ষের মেঝেতে পড়ে আছে। দরজার তালা, আলমারি ও সিন্দুক ভাঙ্গা। তিনি বলেন, ঈদের সময় মসজিদে মোটা অঙ্কের টাকা উঠে। সেই টাকা পেশ ইমামের বিশ্রাম কক্ষে থাকতে পারে। এমন ধারণা থেকেই চোরেরা চুরি করতে গিয়ে বাধা পেয়ে দুলাল গাজীকে হত্যা করতে পারে।

ধানম-ি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আযম মিয়া জনকণ্ঠকে বলেন, চুরির সূত্র ধরেই হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটতে পারে। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানম-ি মডেল থানার উপপরিদর্শক তসলিম উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, ইমাম ও দুই খাদেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য, ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চুরির সূত্র ধরেই হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় দুই বিঘা জমির ওপর ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটি ঈদগাহ মাঠের পূর্ব দিকে। ছয়তলা মসজিদটির নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ঈদগাহ মাঠের চারদিকে প্রায় ১০ ফুট উঁচু প্রাচীর দেয়াল রয়েছে। তবে রাস্তা সংলগ্ন মসজিদটির সামনের দিকে কোন দেয়াল বা গেট নেই। অনায়াসে যে কেউ মসজিদের আঙ্গিনায় প্রবেশ করতে পারে। ঈদগাহ মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি লোহার গেট এবং পাশেই প্রায় চার ফুট চওড়া একটি রাস্তা আছে। সেই রাস্তায়ও লোহার গেট রয়েছে। তবে গেট দুটি প্রায় সারা বছরই খোলা থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নিহত দুলাল গাজী মসজিদটির সামনের জামি’আ ইসলামিয়া মাদ্রাসা নামের লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের পূর্ব-দক্ষিণ কোণের একটি কক্ষে বসবাস করতেন।

নিহতের ভাই সালাম গাজী জনকণ্ঠকে বলেন, তারা ৪ ভাই ৪ বোন। দুলাল ভাইবোনদের মধ্যে ষষ্ঠ ছিল।