১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রিয় বন্ধু আমার...

বন্ধুত্বের ধরন : বন্ধু শব্দটি দ্বারা যাই বোঝানো হোক না কেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এর শুরুটা হয়ে থাকে নানাভাবে। যা চলতে থাকে জীবনের শেষপর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বন্ধুত্ব যেন সকল ভালবাসাকে পেছনে ফেলে দেয়। এটাই বুঝি বন্ধুত্ব!

ক্লাসের বন্ধুত্ব : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনটি শুরু হয় শ্রেণীকক্ষে প্রবেশের মধ্যে দিয়ে। ক্লাসের সেই প্রথম দিনেই অচেনা অনেকের সঙ্গে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সেই ভালবাসায় কেটে যায় জীবনের বাকি সময়টা। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয় এ বন্ধুদের চিন্তাতেই। ভাবনার জগতে ঠাঁই হয় নতুন মানুষের।

এ্যাসাইন্টমেন্টে বন্ধু : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ্যাসাইন্টমেন্ট আবশ্যকীয় বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এই মাধ্যমে। ক্যাম্পাসের প্রথমবর্ষে যেমন করে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফাহমিদ সৌরভ ও শফিকের সঙ্গে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে এ্যাসাইন্টমেন্ট হাতে পরিচয় হয় তাদের দু’জনের। সেই থেকে এখনও বন্ধুত্ব।

গ্রুপ স্টাডির বন্ধু : বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো গ্রুপ স্টাডি। কয়েকজন সহপাঠী মিলে ফাঁকা সময়ে বসে কঠিন বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সহজ করা হয় গ্রুপ স্টাডিতে। যার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় মায়ার সম্পর্ক। যে সম্পর্ক চলে যুগে যুগে।

খেলার মাঠের বন্ধু : বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে এসে সহপাঠীদের মাঝে হঠাৎ করে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা মোটেও সহজ নয়। বন্ধুত্বের বাঁধনে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় আবদ্ধ হয়ে পরে খেলার মাঠে। বিভাগের খেলা নিয়ে মাঠে গিয়ে অজানা অনেক হৃদয়ের খবর মেলে নিমিষেই। যার স্থায়িত্ব থাকে জীবনের মায়া হারিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত।

বিকেলের আড্ডায় বন্ধুত্ব : সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষার পাঠ চুকিয়ে বিকেল বেলা অনেক শিক্ষার্থী বেড়িয়ে পড়েন মতিহারের সুন্দর ক্যাম্পাস দেখতে। আর এভাবেই অনেকের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। যার পরবর্তী রূপ হয়ত গড়িয়ে যায় বন্ধুত্বে।

হলের বন্ধুত্ব : বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দীর্ঘ সময় কাটে হলে। আর এখানেই অনেকের সঙ্গে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব। মায়াময় পরিবার ছেড়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটাতে গিয়ে ধাক্কা লাগে অনেক বাধায়। এ সময় কান্ডারী হয়ে দেখা দেয় বন্ধুরা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে গেছেন অথচ বন্ধুর থেকে অসুখে-বিসুখে ওষুধ নিয়ে খাননি এমন শিক্ষার্থী খুব কমই রয়েছে। বন্ধুর অসুস্ততায় এগিয়ে আসে প্রিয় সেই মানুষগুলোই। পরিবারের মা-বাবার মতো সেবা করেন তারা। পড়াশোনার সাহায্য ছাড়াও ব্যক্তি জীবনের অনেক বিষয়ে এগিয়ে আসেন বন্ধুরা। যাদের ভালবাসায় কঠিন বস্তুটিও ভাবনাহীন হয়ে যায়।

¦বন্ধু দিবসে সকল বন্ধুকে জানাই শুভেচ্ছা।