২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর জাবি

  • ওয়ালীউল্লাহ মিঠু

নিয়মিত ক্লাস করা, অবসরে আড্ডা জমিয়ে ক্লাসের ক্লান্তি নিমিষেই ভুলে যাওয়া। একসঙ্গে বটতলার খাবারের দোকানে দুপুরের খাবার সারা। বিকেলে দলবেঁধে ঘুরাফেরা। অগত্যা বসে যাওয়া অডিটরিয়ামের সিঁড়িতে, টিএসসির ফ্লোরে, শহীদ মিনার বা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সবুজের ওপর। অঘোষিতভাবে জুড়ে দেয়া সুখ-দুঃখের বাহারি গল্প। রাতের খাবারে পর বটতলার চায়ের দোকানে এবং সন্ধ্যায় সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে নাটক আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে কত যে মজা করা হলো তার হিসেব কে রাখে? মাঝে মাঝে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে হেঁটে শিয়ালের ডাক শুনে অভয়ারণ্যের অনুভূতি পাওয়ার শখও জাগে কারও কারও।

হুট করে কিছুদিনের জন্য সবাই পড়ার টেবিলে কারণ একটাই পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার জন্য অনেকদিন একসঙ্গে মজা করা হয়নি। এবার পরীক্ষার পরে একসঙ্গে দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পালা। বের হয়ে যাই সীমানা পেরিয়ে মানিকগঞ্জের জমিদারবাড়ি, টাঙ্গাইলের আতিয়া মসজিদ, পুরান ঢাকার লালবাগের কেল্লা, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।

ক্যাম্পাসের বাসে চড়ে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে দলবেঁধে ঢাকায় যাওয়া সত্যি স্বপ্নের মতো। বাসের মধ্যে আলাদা মজার নাম আড্ডা আর কোরাস গান। ঢাকার প্রয়োজন চুকিয়ে ক্যাম্পাসের আঙিনায় বাস ঢুকতেই এক শান্তির নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে মনের অজান্তেই ‘ঢাকা শহরের ব্যস্ত আর জ্যামের ধকল থেকে মুক্তি পেয়ে শান্তির সবুজ নীড়ে চলে এসেছি’।

এভাবেই নৈস্বর্গিক শোভাম-িত ও শিক্ষার্থীদের কলরব এবং পাখির কলতানে মুখরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু-বান্ধব, বড় ভাই আর ছোট ভাই সবাই যেন একই বাঁধনে বাঁধা একটি পরিবার। এই পরিবারের সীমানা প্রায় ৯৯৭ একর সবুজ আঙিনা।

ক্যাম্পাসের প্রতি অন্যরকম ভালবাসার টান সবার। কেনই হবে না ভালবাসা? যেখানে দেখা মেলে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি, প্রাণী, দেশী-বিদেশী মাছ সমৃদ্ধ বহু জলাশয়। অতিথি পাখিদের লুকোচুরি খেলা এবং কিচির-মিচির শব্দ আর লাল মাটির ক্যাম্পাস।

রকমারি প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো। নবনির্মিত দর্শনীয় প্রধান ফটক বাড়িয়ে দিয়েছে সব সৌন্দর্যের মাত্রা। প্রধান ফটক পেরিয়ে ঢুকতে বামপাশে দেখা যাবে কেন্দ্রীয় মসজিদ, ডানপাশে দেখা মিলবে সবুজে ছাওয়া কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। এমন মহনীয় প্রকৃতির সৌন্দর্যে কে না সিক্ত হবে?

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়া এ ক্যাম্পাস জন-মানব শূন্য অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। মনে হবে কোন এক ভালবাসার সভ্যতা বিলিন হয়ে গেছে। কারণ একটাই শিক্ষার্থী নেই। ঈদের ছুটি শেষে ২২ জুলাই থেকে একে একে ফিরতে থাকে শিক্ষার্থীরা। আবার মুখরিত হয়ে উঠল জাবির সবুজ চত্বর। আবার জমে উঠল আড্ডা। দেখা হয়ে গেল আবার প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে। আর দেখা হতেই বন্ধু কেমন আছিস? কত দিন দেখা হয় না। তারপর সব কিছু সেই আগের মতোই। এভাবেই জমজমাট হয়ে গেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র। এ যেন সবুজ ক্যাম্পাসের চিরচেনা প্রাণবন্ত দৃশ্য।