২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টানা বর্ষণে ভেসে গেছে ২৫ কোটি টাকার মাছ

  • যশোরে অসহায় চাষী

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, কপোতাক্ষের উজানের পানি ও ভবদহ এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতায় মনিরামপুরের ঘের মালিকদের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে নেটের ওপর। কখন যে এটাও ভেসে যাবে তারও কিছু বলতে পারছেন না তারা। ফলে চরম হতাশায় নিমজ্জিত ঘের মালিকদের ভবিষ্যত। এমতাবস্থায় সরকারী সহযোগিতা না পেলে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসতে হবে তাদের। এদিকে উপজেলার পূর্বাঞ্চলের ঘেরগুলো ভেসে যাওয়ার জন্য মালিকদের কেউ কেউ নেহালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান, তার ভাইপো লাভলু ও মৎস্যচাষী ইসমাইলকে দায়ী করেছেন। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুরে ছোট-বড় মিলে ঘেরের সংখ্যা চার হাজার ৮শ’ ১০টি। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও নিম্নচাপের ফলে উপজেলার প্রায় সাড়ে ছয় শ’ ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক হিসাব ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার উপজেলার নেহালপুর, কুলটিয়া, হরিদাসকাঠি, দুর্বাডাঙ্গা, ঝাঁপা, হরিহরনগর ও মশ্মিমনগর ইউনিয়নের সততা মৎস্য খামার, লখাইডাঙ্গা মৎস্য ও ফসল সমবায় খামার, বান্ধব সমবায় মৎস্য খামার, পূর্বাশা সমবায় মৎস্য খামার, ঝাঁপা ও হরিহরনগর বাঁওড়। সততা মৎস্য খামারের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম জানান, নেহালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান, তার ভাইপো লাভলু ও মৎস্যচাষী ইসমাইল বাগদা চাষের জন্য ভারি বর্ষণের পূর্বে মুক্তেশ্বরীর বাঁধ কেটে ঘেরে পানি ঢুকিয়েছেন। পরে সেটা বেঁধে দিলেও অতিবর্ষণে তা ভেঙ্গে নদীর পানি ঢুকে এলাকার ঘেরগুলো প্লাবিত হয়েছে। কুলটিয়া ইউনিয়নের হেলারঘাট এলাকার ঘের মালিক অসিম সরকার জানান, ভবদহের বাঁধ তাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘেরের মাছ রক্ষার জন্য তারা নেট ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এভাবে আর দু’একদিন বৃষ্টি হলে ঘেরের মাছ রক্ষা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দিহান।

লখাইডাঙ্গা মৎস্য ও ফসল সমবায় ঘেরের অডিটর গণেশ চন্দ্র ম-ল জানান, ইতোমধ্যে ঘেরে ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পাঁচ কোটি টাকার মাছ বিক্রির আশা করেছিলেন। ঘের ভেসে যাওয়ায় তা ভেস্তে গেল। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পূর্বাশা মৎস্য সমবায় খামারের সভাপতি মনোয়ার হোসেন শান্ত জানান, ঘের ভেসে গেছে। মাছ ঢুকেছে না চলে গেছে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রতি বছর এক কোটি টাকার মাছ বিক্রি করা হয়। সততা মৎস্য খামারের সভাপতি শাহজাহান জানান, নেট দিয়েও ৪শ’ বিঘা ঘেরের মাছ ঠেকাতে পারেননি। পুরো ঘেরটাই ভেসে গেছে। হরিহরনগর বাঁওড় কমিটির সভাপতি আব্দুর রফিক জানান, ৫২ হেক্টর এলাকার পুরো বাঁওড় কপোতাক্ষের পানিতে ভেসে গেছে। এদিকে ২৯ ও ৩০ জুলাই উপজেলার ডুবে যাওয়া কয়েকটি ঘের পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ার কবির। তিনি জানান, ‘দুই দিন ধরে নেহালপুর ও ঝাঁপাসহ কয়েকটি এলাকার ভেসে যাওয়া ঘের পরিদর্শন করেছেন। সমস্ত ঘের ভেসে পানি থৈ থৈ করছে। ঝাঁপার বাঁওড় ভেসে পানি পার্শ¦বর্তী এলাকায় ঢুকে পড়েছে। এতে মৎস্যচাষীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’