২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রথমবার পেট্রোল রফতানির প্রস্তুতি সম্পন্ন

  • গ্যাসক্ষেত্রের প্রক্রিয়াজাত কনডেনসেট থেকে এই জ্বালানি উৎপাদন হচ্ছে;###;প্রথম পর্যায়ে ১৫ হাজার মেট্রিক টন রফতানি হবে

রশিদ মামুন ॥ দেশজ পেট্রোল রফতানির সকল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। প্রথম পর্যায়ে ১৫ হাজার মেট্রিকটন পেট্রোল রফতানি করা হবে। এর মধ্য দিয়ে জ্বালানি তেল রফতানি শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এতদিন শুধু এককভাবে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। বিপিসি এবং পেট্রোবাংলা বলছে চলতি অর্থবছর গ্যাস ক্ষেত্রের কনডেনসেট প্রক্রিয়া করে দেশের পেট্রোল এবং অকটেনের চাহিদা মিটিয়ে অন্তত দুই লাখ মেট্রিকটন রফতানি করা যেতে পারে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জ্বালানি তেল রফতানিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি পাওয়ার পর দরপত্র আহ্বান করে বিপিসি। আজ ওই দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। কনডেনসেট গ্যাসের উপজাত হওয়ায় তা পেট্রোবাংলার সম্পদ। যদিও পেট্রোবাংলা কনডেনসেট প্রক্রিয়ার জ্বালানি তেল বিপিসির কাছেই বিক্রি করে। বেসরকারী কোম্পানিগুলোও তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপিসির কাছেই বিক্রি করে থাকে।

বিপিসির চেয়ারম্যান এএম বদরুদোজ্জা রবিবার বিকেলে জনকণ্ঠকে জানান, আজ পর্যন্ত কোন দরপত্র জমা পড়েনি। তবে সোমবার দরপত্র জামা দেয়ার শেষ দিন এ দিন দরপত্র জমা পড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশে এখন পেট্রোবাংলার অধীন তিনটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ইস্টার্ন রিফাইনারি (ইআরএল) এবং বেসরকারী পর্যায়ে ১০টি প্লান্ট কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন (প্রক্রিয়া) করছে। দেশে উৎপাদিত কনডেনসেটের পূর্ণ মাত্রায় ফ্রাকশনেশন করলে রফতানির কোন বিকল্প নেই। এ জন্য জ্বালানি সচিব প্রধামন্ত্রীর কাছে তেল বিক্রির অনুমোদন চায়।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশের গ্যাসক্ষেত্র তিন লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন কনডেনসেট উৎপাদন হয়েছে। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। আর চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ হবে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। দেশের ১৪টি কেন্দ্রে এই বিপুল পরিমাণ কনডেনসেট পরিশোধনের সুযোগ থাকলেও দেশের বাজারে কনডেনসেট থেকে পরিশোধিত এ পরিমাণ পেট্রোল ও অকটেন ব্যবহারের সুযোগ নেই। দেশে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লাখ পেট্রোল এবং অকটেনের চাহিদা রয়েছে। আর বাইরে আরও দুই লাখ টন অতিরিক্ত থাকে যায়। গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কনডেনসেটের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে পেট্রোল এবং অকটেনের উৎপাদনও বাড়বে।

জানা গেছে, সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে ১৪টি প্রতিষ্ঠান কনডেনসেট পরিশোধন করে পেট্রোল ও অকটেন তৈরি করছে। এর মধ্যে সরকারের চারটি পরিশোধন কেন্দ্র এসজিএফএল, বিজিএফসিএল, আরপিজিসিএল ও ইআরএল মিলিয়ে তিন লাখ ২৮ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন কনডেনসেট পরিশোধনের ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সরকারের এ চারটি প্রতিষ্ঠান গত এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখ ১১ হাজার ৩৪৫ মেট্রিক টন পরিশোধন করছে। অন্যদিকে ১০টি বেসরকারী কোম্পানির ক্ষমতা রয়েছে সাত লাখ ২৪ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন। তবে তারা গত এপ্রিল পর্যন্ত পরিশোধন করছে দুই লাখ ৮৮ হাজার ৭৯৫ মেট্রিক টন।

জানা গেছে, এখন দেশে দৈনিক গড়ে এক হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন কনডেনেসেট উৎপাদিত হয়। তবে এখন দৈনিক এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ মেট্রিক টন কনডেনসেট পরিশোধন করছে। বাকিটা পুড়িয়ে ফেলতে হচ্ছে। যাতে দৈনিক ৩০ শতাংশ মূল্যবান এই পেট্রোলিয়াম পণ্য পুড়িয়ে ফেলা হয়। সম্প্রতি দেখা গেছে, আশুগঞ্জে কনডেনসেট ট্যাংকারে ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৭১ হাজার মেট্রিক টন। এ পরিমাণ কনডেনেসেট এখানে প্রায় সময় মজুদ রাখতে হচ্ছে। ফলে বিবিয়ানা থেকে উত্তোলিত কনডেনসেট সেখানে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে কনডেনসেট বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই ক্ষেত্রের দুটি লিক্যুইড রিকভারি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গ্যাসের উৎপাদনও এক্ষেত্রের কমে যায়।

জানা গেছে, দেশে পেট্রোল, অকটেন এবং জেট ফুয়েলের চাহিদা না থাকায় বেশিরভাগ সময়ে অবিক্রীত থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারী প্লান্টের ফ্রাকশনেশনে উৎপাদিত পেট্রোলিয়াম পণ্যই অবিক্রীত থেকে যায়। দেশের চাহিদা না বৃদ্ধি পেলে অথবা বিদেশে রফতানির সুযোগ না থাকায় বেসরকারী কোম্পানিগুলো কনডেনসেট নিতে চায় না।

জানতে চাইলে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) মোসলেহ উদ্দিন জানান, সোমবার ওই দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। প্রধম ধাপে ১৫ হাজার মেট্রিক টন রফতানির জন্য আমাদের বলা হয়েছে। তবে বার্ষিক কী পরিমাণ রফতানি করা হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এই জ্বালানি পেট্রোবাংলার তারা যখন আমাদের যে পরিমাণ রফতানি করতে বলবে আমরা সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ রফতানির জন্য দরপত্র আহ্বান করব।