২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের ৫ সদস্য ঢাকায় আটক

  • সোয়া ৬ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার করল র‌্যাব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্র ওমানের মাস্কট থেকে সোনার চালান এনে দেশীচক্রের হাতে তুলে দেয়। শাহজালালের গ-ি পেরিয়ে আনা এ রকম একটি চালান চক্রের ৫ সদস্য শনিবার রাত দেড়টার দিকে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালের সামনে থেকে আটক হয়।

রবিবার দুপুরে র‌্যাব-৩-এর টিকাটুলি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম সারোয়ার জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীদের শুল্ক কর্মকর্তারা তেমন তল্লাশি করে না। এই সুযোগে ওই স্বর্ণ চোরাচালান চক্রটি কাজে লাগিয়ে বিমানবন্দর থেকে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের স্বর্ণের চালান বের করে আনে। যার আনুমানিক মূল্য সোয়া ছয় কোটি টাকা। তিনি জানান, ইকবাল নামে এক ভারতীয় নাগরিক ওই চক্রের হোতা। তিনি ওমানে বসেই স্বর্ণ চোরাচালান চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করেন।

শনিবার রাত দেড়টার দিকে খিলগাঁওয়ের খিদমাহ হাসপাতালের সামনে থেকে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩-এর একটি মাহমুদ ওরফে হাসান জাভেদ (৩৭), মোঃ ফোরকান (২৭), মেহেরুন্নেছা (৪৫), বিবি ফাতেমা (৩০) ও প্রাইভেটকার চালক শামসুল আলম (৪৪)। এরা সবাই ফ্লাইটের যাত্রী। তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, একটি ল্যাপটপ, চারটি পাসপোর্ট, নয়টি মোবাইল সেট, নগদ ১৫ হাজার টাকা, ১৬ সৌদি রিয়াল, ৩০ ইউএস ডলার, ৮২ চায়না ইউয়ান, ১০ জর্দান দিনার, ৭ কাতার রিয়াল ও ৩৯৫ দুবাই দিরহাম জব্দ করা হয়।

র‌্যাব-৩ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম সারোয়ার জানান, মাস্কট থেকে যাত্রা করে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শনিবার রাতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর হয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই বিমানে মাস্কট থেকে সাড়ে ১২ কেজি ওজনের ১০৮টি স্বর্ণের বার নিয়ে আসে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানকারী চক্রের এক সদস্য। বিমানটির সর্বশেষ গন্তব্য ঢাকা হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রী চলাচলের সুবিধা নিয়ে ওই চক্রেরই কিছু সদস্য বিমানে চড়ে বসে। এরপর চক্রের আন্তর্জাতিক যাত্রী স্বর্ণের বারগুলো বিমানেই চক্রের অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের কাছে হস্তান্তর করে। অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের শুল্ক কর্মকর্তারা তেমন তল্লাশি করেন না। এই সুযোগ নিয়ে চক্রের সদস্যরা সোনার চালানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সহজেই বের করে আনে।

এই চক্রের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গোলাম সারোয়ার জানান, বিমানের বিজি ২৪ বিমানটি মাস্কট থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাত সোয়া বারোটায় ঢাকায় অবতরণ করে। চট্টগ্রাম থেকে ওঠা চক্রের সদস্যদের কাছে আন্তর্জাতিক ফ্লইটের যাত্রী স্বর্ণগুলো হস্তান্তর করলে এরা বারগুলো তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে রাখে। বিমানটি ঢাকায় অবতরণের পর আন্তর্জাতিক যাত্রীরা আন্তর্জাতিক টার্মিনালে নিয়মিত তল্লাশি এবং ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে বের হয়। কিন্তু অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে তল্লাশি কিছুটা শিথিল হওয়ায় তারা সহজেই স্বর্ণসহ টার্মিনাল থেকে বের হন। এরপর চক্রের সদস্যরা পুরনো ঢাকার বংশালে যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেটকারে রওনা হয়। র‌্যাব আগাম তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাইভেটকারটি অনুসরণ শুরু করে। র‌্যাব সদস্যরা নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রাইভেটকারটির গতিরোধ করে ওই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে। র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম সারোয়ার আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চোরাচালানকারী চক্রটি বাংলাদেশের ভূখ-কে ব্যবহার করে স্বর্ণ চোরাচালান করে আসছে। তাদের প্রতিরোধে র‌্যাব-গোয়েন্দারা নজরদারি বাড়িয়েছে।