১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইসিকে পাল্টা চিঠি লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলের অনুরোধ আ’লীগের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা, এই বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশনের চিঠির জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ এবং সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ বাতিলের পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে হজ নিয়ে মন্তব্যের কারণে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় সদস্যপদ হারানো আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, আওয়ামী

লীগ থেকে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ‘ভুল’ ছিল। তাই সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি স্পীকারের কাছে পাঠানোর জন্য ইসিকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের চিঠির জবাবে রবিবার পৃথক পৃথক চিঠিতে এসব কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর চিঠি দুটো পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের দু’জনকে নির্বাচন কমিশনে শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে।

রবিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের প্যাডে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কার্যালয়ে গিয়ে জমা দেন। এর আগেই মতামত জানিয়ে আওয়ামী লীগের দেয়া একটি চিঠি দলের উপ দফতর সম্পাদক এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি ও কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক এ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ইসি সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলামের কাছে জমা দিয়ে আসেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘দলীয় গঠনতন্ত্র মেনে সর্বসম্মতক্রমে দলের সব সদস্য পদ ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেউ নন। সংবিধানের ৬৬ (৪) অনুচ্ছেদ, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ১২ (১) অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৮ ধারা অনুযায়ী টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর সদস্য পদ বাতিলের জন্য অনুরোধ করছি।’

নির্বাচন কমিশনে চিঠিটি হস্তান্তরের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ দফতর সম্পাদক এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি সাংবাদিকদের বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী মহানবী (সা) সম্পর্কে অযাচিত, দুর্ভাগ্যজনক, অশোভন, অরুচিকর, অগ্রহণযোগ্য বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের পর লতিফ সিদ্দিকীর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবেও থাকার কোন সুযোগ আইন অনুযায়ী নেই।

তিনি জানান, এ সময় কমিশন বলেছে, আইন অনুযায়ী আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দল ও ওই সংসদ সদস্যের শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করে জানানো হবে। নির্ধারিত সময়ে আমরা দলের বক্তব্য তুলে ধরব। এরপর নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে আইন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দু’জনের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ইসি এখন আইনানুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে। তাঁরা ইঙ্গিত দেন, সপ্তম সংসদে বিএনপির মোঃ আখতারুজ্জামানের সংসদ সদস্য পদও একই পদ্ধতিতে বাতিল করা হয়েছিল। এবার লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে বিতর্ক নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পীকারের অনুরোধ পাওয়ায় ইসি দু’জনের বক্তব্য নিয়েছে। শুনানি শেষে সদস্য পদ বাতিলে ইসির সিদ্ধান্ত ফের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জানানো হবে। আগের নজির, আইন ও সংবিধান দেখে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হবে। কমিশন মনে করলে শুনানি নেবে।

বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি আ’লীগের ভুল ছিল- লতিফ সিদ্দিকী ॥ নির্বাচন কমিশনের চিঠির জবাবে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় সদস্যপদ হারানো সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ থেকে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ‘ভুল’ ছিল। জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা চিঠিতে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননাকার কষ্টকল্পিত বানোয়াট ও ভিত্তিহীন যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আলোচনার স্বার্থে যদি ধরেও নেয়া হয় যে আমি ওই বক্তব্য দিয়েছি, তাহলেও আওয়ামী লীগ থেকে সদস্যপদ বাতিলের এখতিয়ার কেন্দ্রীয় সংসদের নেই।’

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি বক্তব্য দিয়েছি। আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে বক্তব্য দিয়েছি বলে বিবেচনারও সুযোগ নেই। আমাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে নেয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংবিধানের ৬৬ (৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে বিতর্ক নিষ্পত্তির বিষয়টি তাঁর ক্ষেত্রে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই যুক্তিতে ‘ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে’ শুনানিতে না গিয়ে স্পীকারকে চিঠি পাঠাতে ইসিকে অনুরোধ জানান লতিফ সিদ্দিকী।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে মন্তব্যের কারণে বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর পাশাপাশি দল থেকেও বহিষ্কার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দেশে ফেরার পর ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মামলায় নয় মাস কারাগারে থাকতে হয় ৭৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদকে। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান।

লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের দীর্ঘ আট মাস পর বিষয়টি জানিয়ে আওয়ামী লীগের পাঠানো চিঠি গত ৫ জুলাই স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর হাতে পৌঁছায়। এ অবস্থায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা, তা মীমাংসার জন্য স্পীকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেন। স্পীকারের চিঠি পাওয়ার পর সংসদ সদস্য (বিরোধ নিষ্পত্তি) আইনানুযায়ী নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। রবিবার সেই চিঠিরই জবাব দিলেন সৈয়দ আশরাফ ও লতিফ সিদ্দিকী।