২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইসিটি এ পর্যন্ত দণ্ড দিয়েছে ২২ জনকে

  • আপীলে এবার পালা নিজামী মীর কাশেমের

বিকাশ দত্ত ॥ নানা ষড়যন্ত্র, প্রতিবন্ধকতা ট্রাইব্যুনালের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করার দেশী-বিদেশী প্রপাগান্ডা সত্ত্বেও সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে মাত্র সাড়ে পাঁচ বছরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০টি মামলায় ২২ জনকে বিভিন্ন ধরনের দ- প্রদান করেছেন। এর মধ্যে আপীল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে ৫টি মামলা। ষষ্ঠ এবং সপ্তম মামলা নিষ্পত্তির জন্য জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর মামলা কার্যতালিকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিক থেকে এবার নিজামী-মীর কাশেমের মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পালা। আসামি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করায় আপীল অকার্যকর করা হয়েছে গোলাম আযম ও আব্দুল আলীমের ২টি মামলায়। পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালের দ-ের বিরুদ্ধে আপীল হয়নি ৫ জনের। অন্যদিকে বর্তমানে আপীল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে ৮টি মামলা। ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম শেষে বাগেরহাটের তিন রাজাকারের মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য একটি মামলা সিএভি রাখা হয়েছে। যে কোন দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে আরও ৭টি মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারিক কার্যকর চলছে। দীর্ষ ৪০ বছর পর অতি সময়ে এতগুলো মামলা নিষ্পত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারটা সারা বিশ্বে মডেল হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের ক্ষেত্রে আসামি ও সরকার পক্ষকে সমান সুযোগ দেয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় সব পক্ষ সমান আইনী সুবিধা ভোগ করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষ আপীলের সমান সুযোগ পাচ্ছেন। সেখানে বিশ্বের অনেক দেশেই সেটি অনুসরণ করা হচ্ছে না। রুয়ান্ডা, সাবেক যুগোশ্লাভিয়া, কম্বোডিয়া, সিওরেলিয়ন, বসনিয়া, জার্মানি, ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভেনিজুয়েলা, আর্জেন্টিনা, পেরু, উরুগুয়ে, চিলি, প্যারাগুয়ে, মেক্সিকো, কানাডা, লিবিয়া, ফ্রান্স, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় যে সমস্ত বিচার হচ্ছে সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই আসামিপক্ষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে না। এমনকি নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালেও আসামিপক্ষের কোন আপীল করার সুযোগ ছিল না। সেদিক দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও ৪ লাখ মা-বোন নির্যাতিত হয় আর এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেয়। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল তাদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার সংখ্যা বাড়া ও স্বচ্ছ নিরপেক্ষভাবে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ২০১২ সালের ২২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে ২০টি মামলায় ২২ জনের দ- দেয়া হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ জনকণ্ঠকে বলেছেন এবার আপীল বিভাগে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর মামলা কার্যতালিকায় আসবে। এদের মধ্যে নিজামী ২০১৪ সালের ২৩ নবেম্বর আর মীর কাশেম একই বছরের ৩০ নবেম্বর খালাস চেয়ে আপীল করেছেন।

এবার নিজামীর পালা ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনক্সা বাস্তবায়ন, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন সম্পত্তি ধ্বংস দেশত্যাগে বাধ্য করায় আলবদর বাহিনীর প্রধান বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক মন্ত্রী ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি জামায়াতের ইসলামীর বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর তাকে মৃত্যুদ- প্রদান করেছেন। ৪ অভিযোগে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অপর ৪টি অভিযোগের তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছে। বাকি ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে মতিউর রহমান নিজামী ২০১৪ সালের ২৩ নবেম্বর সুপ্রীমকোর্টে আপীল করেন। এখন আপীল বিভাগে তার মামলাটি কার্যতালিকা আসবে বলে জানা গেছে।

ট্রাইব্যুনাল তার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, নিজামী একাত্তরে ছাত্রসংঘের সভাপতি থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে আলবদর বাহিনী গঠন করে তার প্রধান হন। প্রধান হিসেবে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশ বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে আলবদর বাহিনী ও রাজাকার বাহিনী গঠন করে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধসমূহ করে। নিজামী শুধু আলবদর বাহিনীর প্রধানই ছিলেন না, তিনি এই বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রেও মূল নেতৃত্বে ছিলেন। এছাড়া ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি নিখিল পাকিস্তান ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে যা ছাত্রশিবির নামে পরিচিত। ছাত্রসংঘের এ্যাকশন সেকশন ছিল আলবদর বাহিনী। নিজামীর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব ছিল ছাত্রসংঘ ও আলবদর বাহিনীর ওপর। আলবদর একটি ক্রিমিনাল সংগঠন তো বটেই, একইসঙ্গে এটি একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠনও। সে সময় ধর্মের অপব্যাখ্যা করে প্রচুর তরুণকে এ সংগঠনটি বিভ্রান্ত করেছিল। যাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নিজামী।

পরবর্তী ধাপে মীর কাশেম আলী ॥ ২০১৪ সালের ২ নবেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষ নেতা তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রামের বাঙালী খান, জামায়াতের ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪টি অভিযোগের মধ্যে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতনের ১০টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ২ অভিযোগের মধ্যে একটিতে সর্বসম্মতিতে আরেকটি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেয়া হয়। অপর ৮টি অভিযোগে সর্বমোট ৭২ বছর কারাদ- দেয়া হয়েছে। বাকি ৪টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে। ঐ রায়ের বিরুদ্ধে মীর কাশেম আলী ২০১৪ সালের ৩০ নবেম্বর আপীল দায়ের করেন।

ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, মীর কাশেম ছিলেন হত্যাকা-ের প্রতিটি ক্যাম্পের একটি অপরিহার্য অংশ। নির্যাতন ও নির্মমতার মাত্রা এতটাই ছিল যে, তাকে ‘বাংলার খান সাহেব’ হিসেবেও অনেকে উল্লেখ করেছেন। এতে প্রমাণিত হয়, ওই নির্যাতন ক্যাম্পে যাঁরা নির্যাতিত হয়েছেন এবং যারা হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন, সবকিছুর পেছনেই মীর কাশেম মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।

সাড়ে পাঁচ বছরে ২০ মামলার রায় ॥ ২০১০ সালের ২৬ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ২০টি মামলার রায় হয়েছে। তার মধ্যে ২২ জনকে বিভিন্ন দ- প্রদান করা হয়েছে। যাদের দ- দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন, জামায়াতের সাবেক রুকন বাচ্চু রাজাকার হিসেবে পরিচিত আবুল কালাম আজাদ (মৃত্যুদ-), জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লা (আমৃত্যু কারাদ- (আপীলে মৃত্যুদ-, পরবর্তীতে রায় কার্যকর), জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (মৃত্যুদ-) আপীলে আমৃত্যু কারাদ-, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (মৃত্যুদ-) আপীল বিভাগেও মৃত্যুদ- বহাল, পরবর্তীতে রায় কার্যকর। জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম (৯০ বছরের কারাদ-) অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ (মৃত্যুদ-), ১৬ জুন আপীল বিভাগেও তার মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (মৃত্যুদ-), আপীল বিভাগের মৃত্যুদ- বহাল রাখা হয়েছে। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীম (আমৃত্যু করাদ-) অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ, বদর বাহিনীর নেতা চৌধুরী মাঈনুদ্দিন এবং মোঃ আশরাফুজ্জামান খান (মৃত্যুদ-), জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (মৃত্যুদ-), জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাশেম আলী (মৃত্যুদ-), বিএনপি নেতা নগরকান্দা পৌর মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকার (মৃত্যদ-), আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মোঃ মোবারক হোসেন (মৃত্যুদ-), জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার (মৃত্যুদ-), জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম (মৃত্যুদ-) জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহান (মৃত্যুদ-) ও জাতীয় পার্টির আব্দুল জব্বার (আমৃত্যু কারাদ-)। মাহিদুর রহমান এবং আফসার হোসেন চুটু (আমৃত্যু কারাদ-), হাসান আলী (মৃত্যুদ-) সর্বশেষ ফোরকান মল্লিককে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়েছে।

আপীল বিভাগে যাদের নিষ্পত্তি ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে তারা ঐ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করেছেন। ইতোমধ্যে ৫টি আপীল নিষ্পত্তি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেন। আপীলে চূড়ান্ত রায়ে তাকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়। কাদের মোল্লার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলা ছিল জামায়তের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদ- প্রদান করলেও আপীল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করেন। তৃতীয় রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদ- প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। আপীল বিভাগেও তার দ- বহাল রাখা হয়। চূড়ান্ত আইনযুদ্ধ শেষে তার দ- কার্যকর করা হয়েছে। চতুর্থ মামলা ছিল জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মামলা আপীল বিভাগ তার ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বাহাল রেখেছেন। সর্বশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর কেউ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন আপীল বিভাগ। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরে কারাদ- ও বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমকে আমৃত্যু করাদ- প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের দ-ের বিরুদ্ধে আপীল করা হয়। কিন্তু এর আগেই তারা বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কারণে তাদের আপীল অকার্যকর ঘোষণা করেন আপীল বিভাগ।

আপীলের নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ॥ বর্তমানে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ ৮টি মামলায় ৯ জনের দ- দেয়া হলেও আপীল করেছেন ৮ জন। তারা হলেন মীর কাশেম আলী, মোঃ মোবারক হোসেন, সৈয়দ মোঃ কায়সার, এটিএম আজাহারুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার, আব্দুস সুবহান, মাহিদুর রহমান।

যাদের ট্রাইব্যুনালের সাজা বহাল ॥ পলাতক আসামিরা রায় ঘোষণার ত্রিশ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপীল করতে পারেননি। আপীল না করার কারণে তারে ট্রাইব্যুনালের দেয়া দ-ই বহাল রয়েছে। তারা হলেন জামায়াতের ইসলামীর রুকন আব্দুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, বদর বাহিনীর নেতা চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও মোঃ আশরাফুজ্জামান খান, জাহিদ হোসেন খোকন ওরফে খোকন রাজাকার, সৈয়দ হাসান আলী।