২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল

  • জিহাদী গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড কায়েসের ল্যাপটপ থেকে তথ্য

শংকর কুমার দে ॥ ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল নতুন আত্মপ্রকাশ করা জঙ্গী সংগঠন বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ। সফটওয়্যার তৈরি করে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জঙ্গীদের এই গ্রুপটি। বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপের অনুসারী ১৫২ জন। এর মধ্যে ৫০ জন জিহাদী সক্রিয়। পরীক্ষামূলকভাবে গত ফেব্রুয়ারিতে শরীয়তপুরের জাজিরায় সফলভাবে রিমোট কন্ট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপের পলাতক নেতা আব্দুল্লাহ আসাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড ফাহাদ বিন নুরুল্লাহ কাসেমী ওরফে ফাহাদ ওরফে কায়েসের কাছ থেকে জব্দ করা ল্যাপটপ থেকে এমনই তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

ডিবি সূত্র জানান, ডিবির হাতে গ্রেফতার কায়েস ইতোমধ্যে রিমান্ডে স্বীকার করেছেন যে, বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করার একটি সফটওয়্যার তাদের হাতে এসেছে। এই সফটওয়্যার দিয়ে সহজেই যে কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করা যায়। তবে হ্যাক করা ক্রেডিট কার্ড থেকে গড়ে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতেন। ক্রেডিট কার্ডের এই টাকা বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপের পিছনে ব্যয় করা হয়েছে। জঙ্গীদের বিদেশ থেকে অর্থের যোগানের বিষয়টি এখন অনেকটা কড়াকড়ি ও নিয়ন্ত্রণে আসায়, বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ স্বউদ্যোগী হয়ে অর্থের যোগান করছে। এজন্য তারা বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে টাকা সংগ্রহ করছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, হুজি, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হিযবুত তাহরীর সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় এসব জঙ্গী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমন্বিত হয়ে বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ গঠন করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে কায়েস জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপে এখন ৫০ জন নেতা সক্রিয়। এরা প্রায় সহস্রাধিক কর্মী যোগাড় করেছে। ইতোমধ্যে তারা উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও দিনাজপুরে তাদের দুটি ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। ঢাকায় বনশ্রীর বাসা থেকে তিনি এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এরই মধ্যে তার বাবা মাওলানা নুরুল্লাহ কাশেমী গাজীপুরের কাশিমপুরে কারাগারে গিয়ে জেএমবির মওলানা আব্দুর রউফের সঙ্গে দেখা করেছেন। মওলানা রউফ নির্দেশনা দিয়েছেন যে, পুরাতন ধ্যান ধারণা পাল্টে আধুনিক আদলে দল গঠন করতে হবে। এই দলে আধুনিক ইসলামিক মন মানসিকতার যুবকদের কর্মী হিসেবে প্রবেশ ঘটাতে হবে। যারা আইটিতে বিশেষজ্ঞ তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করা ইফতেখার খালেদকে দলের একজন অন্যতম নেতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায়। খালেদ একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। সে রিমোট কন্ট্রোল বোমা তৈরি করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শরীয়তপুরের জাজিরায় সে সফলভাবে রিমোট কন্ট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

গোয়েন্দা সূত্র জানান, বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপের দলনেতা আব্দুল্লাহ আসাদ। এর আধ্যাত্মিক নেতা মওলানা নুরুল্লাহ কাসেমী। তিনি আগে কুয়েতে একটি মসজিদে খতিব ছিলেন। দেশে ফিরে এসে মিসরের বিখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখা খোলেন। কিন্তু এই শাখা খুলে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান না হলে তা বন্ধ করে দেন। পরে ইসলামিক বই লিখে তা বিক্রির অর্থ ও বিভিন্ন ইসলামী অনুষ্ঠানে বয়ান করে জীবিকা চালাতেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ গঠন করে ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করেন। এভাবে সংগঠনে অর্থ তহবিল গঠন করেন।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপের টুইটার এ্যাকাউন্ট থেকে জানা গেছে এ পর্যন্ত এই সংগঠনটিকে ১৫২ জন অনুসরণ করছে। ৬০৫ বার টুইটারে বার্তা দেয়া হয়েছে। আধ্যাত্মিক নেতা নুরুল্লাহ কাসেমীর ছেলে ফাহাদ বিন নুরুল্লাহ কাসেমী ওরফে কায়েস বোমা তৈরির কারিগর হলেও সে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহ, ওয়েব পেজ ঘেটে বিভিন্ন বিষয়ে জানা, বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ করত। কায়েস এই টুইটারের বার্তা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী ও সূত্রাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ ৯ জঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন মাওলানা নুরুল্লাহ কাশেমী, তার ছেলে ফাহাদ বিন নুরুল্লাহ কাসেমী ওরফে ফাহাদ ওরফে কায়েস, দেলোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, কাজী ইফতেখার খালেদ ওরফে খালেদ ওরফে ইফতি, রাহাত, দ্বীন ইসলাম, আরিফুল করিম চৌধুরী ওরফে আদনান ও নুরুল ইসলাম। বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপের গ্রেফতারকৃত জঙ্গীদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার পর জঙ্গীদের আইটি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়গুলোর দিকে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে।