২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিল্পকলার চিত্রশালায় বছরব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসবের প্রদর্শনী

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীন চলচ্চিত্রকারদের মেলে ধরার চমৎকার এক কর্মসূচী ‘নতুন চলচ্চিত্র, নতুন নির্মাতা’। সেই সঙ্গে সিনেমাপ্রেমীদের জন্যও এ আয়োজনের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের দর্শনীতে ছবি দেখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের বছরব্যাপী এ প্রতিযোগিতামূলক চলচ্চিত্র উৎসব। আর এ উৎসবে প্রতিমাসে প্রদর্শিত হচ্ছে দেশের নির্মাতাদের নির্মিত নতুন নতুন ছবি। শুধু দেশের তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের এ উৎসবটি যৌথভাবে আয়োজন মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। উৎসবের আওতায় রবিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় তিনটি পৃথক সূচীতে প্রদর্শিত হয় সাতটি চলচ্চিত্র। এই সাতটি ছবির মধ্যে আবার চারটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। আর প্রতিটি প্রদর্শনী শেষে ছবির নির্মাতাদের হাতে তুলে দেয়া হয় দর্শনীর অর্থমূল্য। রবিবার দুপুর সাড়ে তিনটায় শুরু হয় প্রদর্শনী। প্রথমেই দেখানো হয় প্রামাণ্যচলচ্চিত্র ‘পুরান ঢাকার পুরোনো ইতিহাস’। এএম আব্দুল্লাহ ও আলী মোরশেদ নোটন নির্মিত ছবিটিতে উঠে আসে বুড়িগঙ্গার পাড় ধরে গড়ে ওঠা পুরান ঢাকার গোড়াপত্তনে নিবেদিত ব্যক্তিদের কথা। সেই সূত্রে জানা যায়, আঠারো শতকে ইরানের খোরাসান প্রদেশ থেকে ইসলাম প্রচারে আসা জনহিতৈষী করিম বক্সের কথা। চিত্রপটে উঠে আসে পুরান ঢাকার কল্যাণে কাজ করা এই ব্যক্তি এবং তাঁর ছেলে বাল্লু বেপারির নাতি মোঃ আবদুস সোবহানসহ পরিবারটির অবদান। পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের বয়ানে জানা যায় তাঁদের কীর্তির কথা। বয়োজ্যেষ্ঠ কয়েক ঢাকাবাসী বলে যান, কিভাবে তাঁরা কয়েক পুরুষ ধরে রহমতগঞ্জ, লালবাগ, সোয়ারীঘাট, চুড়িহাট্টা, চকবাজারে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকা- পরিচালিত করেছেন। প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি শেষ হতেই প্রদর্শিত হয় হাবিব নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ‘চেইন ক্যাফে’। আধুনিক নগর জীবনের ঠুনকো ভালবাসার গল্প নিয়ে আবর্তিত হয়েছে ছবিটির কাহিনী। যান্ত্রিক শহর ঢাকার এক ক্যাফেতে বসে প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করে এশা নামের এক তরুণী। শহরটি যেন এই তরুণীর ছদ্মবেশে অপেক্ষায় থাকে প্রেমিকের। অপেক্ষার পালাবদলে কখনও বদলে যায় তার রূপ। চরিত্র বদলে সে কখনও হয়ে ওঠে পুরুষ। আবার অপেক্ষা তার নতুন প্রেমিকার। এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প। ছবি দু’টির প্রদর্শনী শেষে নির্মাতাদের হাতে দর্শনীর অর্থমূল্য তুলে দেন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম।

বিকেল পাঁচটায় দেখানো হয় ৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনী ও ১টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয় সাইফ ও অয়ন নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ‘অপভ্রংশ’ এবং ইসমত জেরিন পরিচালিত ছবি ‘মনোফুল’। এছাড়া দেখানো হয় নাজমুল হক নাঈম নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘খবরাক্রান্ত’। প্রদর্শিত হয় ব্রাত্য আমিন নির্মিত ছবি ‘৩৬-২৪-৩৬’। সন্ধ্যা সাতটার সূচীতে দেখানো হয় প্রসূন রহমান নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ‘সুতপার ঠিকানা’। প্রদর্শনী শেষে অতিথি হিসেবে নবীন নির্মাতাদের হাতে দর্শনীর অর্থ তুলে দেন আরেক নির্মাতা ক্যাথরিন মাসুদ।

নতুন চলচ্চিত্র, নতুন নির্মাতা কর্মসূচী প্রসঙ্গে উৎসব পরিচালক ও মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি বেলায়াত হোসেন মামুন বলেন, এটি দেশের চলচ্চিত্র-সংস্কৃতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ নির্মাতাদের চলচ্চিত্রকে তুলে ধরা হচ্ছে দর্শকদের কাছে। এ কর্মসূচী বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল কার্যক্রম তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। বছরব্যাপী এ উৎসবে নতুন নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি গড়ে উঠবে তাঁদের পরিচিতি। উৎসবে অংশগ্রহণ ও পুরস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিমাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে নবীন নির্মাতারা শিল্পকলা একাডেমিতে তাঁদের ছবির ডিভিডি জমা দিতে পারবেন। জমাকৃত ছবিগুলো থেকে প্রদর্শনীর জন্য ছবি বাছাই করবেন বিচারকরা। পরবর্তীতে নির্বাচিত ছবি নিয়ে প্রতিমাসের শেষ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে প্রদর্শনী। আগামী বছর উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে সেরা ৩ নির্মাতাকে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হবে। কাহিনীচিত্র বিভাগে থাকছে ‘জহির রায়হান শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র পুরস্কার’, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র বিভাগের ‘আলমগীর কবির শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র পুরস্কার’ এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনী, নিরীক্ষা ও এনিমেটেড চলচ্চিত্র বিভাগে প্রদান করা হবে ‘বাদল রহমান শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার’।

‘পানাম নগরীর পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা’ ॥ সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর রবিবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে ইয়াঙ্গন কর্পোরেশন ও কোরিয়ান ইপিজেডের চেয়ারম্যান কিহাক সাংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত ও এক বৈঠকে মিলিত হন। ইয়াঙ্গন কর্পোরেশনের আর্থিক সহযোগিতায় বড় সর্দারবাড়ী তথা সোনারগাঁয়ের পানাম নগরী পুনরুদ্ধার কাজের অগ্রগতিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মশিউর রহমান ও প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ আলতাফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে দু’দেশ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে একে অপরের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতœতাত্ত্বিক এতিহ্যের পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও সংরক্ষণে কোরিয়ার বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ইয়াঙ্গন কর্পোরেশনের আর্থিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় বড় সর্দারবাড়ীর রেস্টোরেশনের যে কাজ এগিয়ে চলছে তা অসাধারণ। শুধু আর্থিক দিক দিয়েই নয়, তাদের সুদক্ষ হাতে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি পূর্বের রূপ ফিরে পেতে যাচ্ছে। আমাদের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণে তাদের এ অবদান জনগণ কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করবে।’

কিহাক সাং বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কোরিয়ার বন্ধন সুদৃঢ়। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে দু’দেশ পরস্পরের প্রতি আস্থাশীল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। বড় সর্দারবাড়ীর রেস্টোরেশন কাজে আর্থিক সাহায্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ রকম একটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক স্থাপনা পুনরুদ্ধারের কাজে আর্থিক সাহায্য ও কারিগরি সহযোগিতা করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। পানাম নগরী দৃষ্টিনন্দন ও চিত্তাকর্ষক উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু বড় সর্দারবাড়ী নয়, এ নগরীর সংস্কার, পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ জরুরী। সর্বাগ্রে এ নগরীর ডকুমেন্টেশন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে কোরিয়ার যে সব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আছে তার মধ্যে ইয়াঙ্গন কর্পোরেশনের বিনিয়োগ অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিষয়টিকেও প্রাধান্য দিয়ে থাকে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরে অবস্থিত ১৯০১ সালে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা ‘বড় সর্দারবাড়ী’র সংস্কার, সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধারসহ এ সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে তিন বছর মেয়াদে ১০ কোটি টাকা প্রদানের ঘোষণা দেয় এবং সে সময় থেকে এর আর্থিক সহযোগিতা ও ব্যবস্থাপনায় যে কাজগুলো এগিয়ে চলছে তা হলোÑ বড় সর্দারবাড়ীর ডকুমেন্টেশন, রেস্টোরেশন, কনজারভেশনসহ এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। ইতোমধ্যে ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী ॥ বাংলা সাহিত্যের তিন মহীরুহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্য্য বাঙালীর মানস গঠনে অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের রচনা সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, সাম্রাজ্যবাদসহ সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আলোকবর্তিকা হিসেবে আজও পথনির্দেশ করে চলেছে। আজ সোমবার বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ঢাকা মহানগর সংসদ আয়োজন করবে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত জয়ন্তী। বিকেল সাড়ে ৫টায় শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে আয়োজিত হবে অনুষ্ঠানটি।