২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৌলবাদ এবং মার্কিন কংগ্রেস

বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশে নানা নামে গড়ে ওঠা কিছু মৌলবাদী শক্তি। মৌলবাদীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আশ্রয় এবং সহযোগিতা করছে জামায়াত-শিবিরসহ সমমনা কিছু রাজনৈতিক শক্তি। এই অপশক্তিই নানা সময় সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা থেকে শুরু করে সংখ্যালঘুদের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে, নানা সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দেশছাড়া করার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এ প্রবণতা মানুষ লক্ষ্য করেছে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জঙ্গী তৎপরতার সঙ্গে জামায়াত কানেকশনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জঙ্গীদের ধ্বংসাত্মক তৎপরতায় সক্রিয়ভাবে মদদ যুগিয়ে যাচ্ছে তারা। জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গী তৎপরতা অনেকাংশে নির্মূল করা সম্ভব। উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে এই জামায়াতই ছিল হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যদের সবচেয়ে বড় সহযোগী। জামায়াত-শিবির যে নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না তা তাদের অতীত কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। পায়ের রগ কেটে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে তারা তাদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সকল জঙ্গীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করাসহ সব নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরসহ জঙ্গীবাদী সব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেসম্যান ভারতীয় বংশোদ্ভূত তুলসি গ্যাবার্ড। গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয় : ১. প্রতিনিধি পরিষদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভিকটিমদের কথা স্বীকার করছে। ২. আইনের শাসন, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে চলতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে। ৩. চরমপন্থী গ্রুপ যেমন জামায়াত (জেইআই), ছাত্রশিবির (আইসিএস), যারা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ তাদের কর্মকা- ঠেকাতে এবং ৪. সব নাগরিকের বিশেষত দুর্বল ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসম্যানের এই উদ্বেগ প্রকাশ এবং উল্লিখিত প্রস্তাবগুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। তাই জঙ্গীবাদের কর্মকা-ের বিষয়ে সতর্ক থেকে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

জামায়াতের ঘাতকদের হাতে প্রায়শই দেশের প্রগতিশীল নেতা ও কর্মীরা খুন হচ্ছেন। এখনও তাদের নৃশংসতা একাত্তরের মতো ভয়ঙ্কর। তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে এখনই জামায়াত-শিবিরকে রুখতে হবে। সরকারকেই এই পদক্ষেপ নিতে হবে।