১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি প্রাপ্য

আবারও রাজধানীতে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল। এবার শিকার হলেন কর্মজীবী তরুণী। কিছুকাল আগে চলন্ত মাইক্রোবাসের ভেতর গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন আরেক কর্মজীবী নারী। দেখা যাচ্ছে সন্ধ্যার পর কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একাকী নারীকে টার্গেট করছে দলবদ্ধ কুলাঙ্গাররা। এসব ঘৃণ্য ধর্ষকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়েছে। এবার গণধর্ষণের ঘটনা ঘটার পরে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ক’জন ধর্ষক ধরা পড়েছে, বাকিদের খোঁজা হচ্ছে। ধর্ষণের শিকার তরুণীটির ডাক্তারী পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে স্বল্প সময়ের ভেতর। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এসব অত্যন্ত দরকারি। অনেক সময় ধর্ষণকারী আইনের ফাঁক গলে ছাড় পেয়ে যায় শুধু প্রমাণের অভাবে। এক্ষেত্রে তেমনটি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে ধারণা করা যায়। আমরা আশা করব স্বল্প সময়ের মধ্যেই ধর্ষণকারীদের বিচার কাজ সম্পন্নের মাধ্যমে সমাজে একটি ভাল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে। ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সেটি সামাজিক দিক দিয়ে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ধর্ষণ এক মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আমাদের সমাজে। ধর্ষণ যে বিগত কয়েক বছরে অনেকটা বেড়েছে তাই শুধু নয়, ধর্ষণের পরিধিও আশ্চর্যজনকভাবে অভিনব অবয়ব পেয়েছে। ধর্ষণের পাশাপাশি ধর্ষণতুল্য অপরাধের মাত্রাও বেড়েছে। নারী নিপীড়কদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সমাজের সভ্যদের কাছ থেকে বার বার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ-ের কথা উচ্চারিত হয়ে থাকে। এর নেপথ্যের আবেগ ও অনুভূতিকে অস্বীকার করা চলে না। ধর্ষণ তো কেবল একজন নারীর তীব্র অবমাননা নয়, অনেক সময় তা তার মৃত্যুরই নামান্তর। ধর্ষণের শিকার নারী সারা জীবন এক অসহনীয় মানসিক পীড়নের ভেতরে থাকেন। শুধু ঢাকায় বছরে ধর্ষণের ঘটনা মোট নারী নির্যাতনের শতকরা ২০.৪৬ ভাগ। সমাজবিজ্ঞানীদের হিসাবে বাংলাদেশের মতো সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের অধিকাংশই এখনও তাদের ওপর নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনার কথা প্রকাশ করতে চান না। আর ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা পুলিশের কাছে থানায় কিংবা আদালতে মামলা করতেও যান না। তাই সরকারের খাতায় প্রতিবছর যতগুলো ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন সমাজবিদরা।

উত্তরার তরুণীটির ওপর গণধর্ষণের প্রতিবাদ হবে, ধর্ষকদের শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন রচিত হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এ জাতীয় অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজটিই বেশি জরুরী। সে লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা চাই। মনে রাখতে হবে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি শহরেই বহু কর্মজীবী নারীকে সন্ধ্যার পর কর্মস্থল থেকে একাকী ঘরে ফিরতে হয়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা নিশ্চয়ই করবেÑ এমনটা মানুষের প্রত্যাশা। এখানে নারীকর্মীর নিরাপত্তার দিকটিই প্রধান বিবেচ্য। এমন সমাজ নির্মাণই আমাদের লক্ষ্য যেখানে নারী নিজেকে বিপন্ন ভাববে না। রাতের বেলা তার চলাচল নির্বিঘœ হবে। একই সঙ্গে আরেকটি বিষয় অভিভাবকদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। পরিবারে ছেলে সন্তানটিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন সে মেয়েদের সম্মান করতে শেখে। নারীর ওপর যে কোন ধরনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে শেখে।