২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিনাজপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনির উৎপাদন হ্রাস

  • হুমকির মুখে পাঁচ হাজার পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ শনিবার থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া পাথর খনির উৎপাদন হ্রাস করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মাানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)কে বাধ্য করা হলো। ফলে জিটিসির উৎপাদন কার্যক্রম ব্যহত করে তিন শিফটের পাথর উৎপাদন কমিয়ে এক শিফটে নামাতে বাধ্য হয়েছে। আর এতে করে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিকের পরিবার এখন হুমকি মুখে পড়েছে।

জিটিসি সূত্রে জানা যায়, তারা ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে পাথর খনির দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এক শিফটে উৎপাদন শুরু করা হয়। জিটিসি ৬ মাসের মধ্যে খনির তিন শিফট চালু করে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে আসছিল। খনির উন্নয়ন কার্যক্রম এবং নতুন স্টোপ নির্মাণ করতে বিদেশী ভারি যন্ত্রপাতি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিঃ (এমজিএমসিএল) জিটিসিকে সরবরাহ করার কথা। কিন্তু শুরু থেকে বিভিণœ প্রতিবন্ধকতা ও সদ্য অপসারিত খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মোঃ আবুল বাশার এবং তার মদদে খনির একটি অসাধু চক্র ষড়যন্ত্র করে সরকারের জাতীয় সম্পদ এই খনিটিকে পুর্বের অবস্থায় লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে অপচেষ্টা চালাতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এই চক্রটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ না করার কারনে জিটিসি বাধ্য হয়ে খনির কার্যক্রম তিন শিফট থেকে এক শিফটে সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।

পাথর খনির একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সদ্য অপসারিত পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই খনিতে মহাব্যবস্থাপক (জিএম প্রশাসন) থাকা অবস্থায় খনির বিস্ফোরক বা ডিটোনেটর হারানোর মতো ঘটনা ঘটে। এরপর তিনি বদলি হয়ে যান। এই ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পরে সেই জিএম প্রকৌশলী আবুল বাশারকে এই খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি করে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমডি আবুল বাশার বিএনপি ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত। তিনি এই খনির বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ম্যানেজার রফিজুল ইসলাম রিটুসহ ওই চক্র খনিটি বন্ধ করতে এবং জিটিসিকে ব্যর্থ করতে বিদেশী যন্ত্রপাতি আমদানিতে অসহযোগিতাসহ নানা মুখী ষড়যন্ত্র করতে থাকে। ফলে খনিটি বন্ধের উপক্রম হয়। উল্লেখ্য, যে রফিজুল ইসলাম রিটুকে ইতোপূর্বে অনিয়মজনিত কারণে প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে ওএসডি করে রাখা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপাড়া পাথর খনি কর্তৃপক্ষ তাদের অধীনে খনি পরিচালনা করে বিগত প্রায় ৭ বছরে যে পরিমাণ পাথর উত্তোলন করেছিল, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি উৎপাদন শুরুর দেড় বছরে তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে পাথর উত্তোলন করে খনি পরিচালনায় দেশী এই প্রতিষ্ঠানটি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। মধ্যপাড়ার পাথর খনির উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় দেশে নির্মাণাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতুতে এই পাথর ব্যবহার শুরু হয়েছে। ঢাকা এলিভিয়েটর এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ও কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন ট্যানেল নির্মাণসহ দেশে মেঘা প্রকল্পে মধ্যপড়া পাথর খনির পাথর ব্যবহারের যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, ষড়যন্ত্রের কারণে খনির তিন শিফটের উৎপাদন এক শিফটে জিটিসি নামাতে বাধ্য হয়।

সরকারের এই মেঘা প্রকল্পগুলোতে চাহিদা মাফিক পাথর সরবরাহ বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। এছাড়া খনির কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় এখানে কর্মরত প্রায় ১ হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও খনি শ্রমিক এবং তাদের পরিবারসহ খনি এলাকার সরাসরি উপকারভোগী প্রায় ৫ হাজার পরিবারের আয় রোজগার হুমকির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, মধ্যপাড়া পাথর খনিতে ভূ-গর্ভস্থ্য পাথরের মজুদ ১৫৫৬ মিলিয়ন টন। এ থেকে উত্তোলন করা সম্ভব ১৭৪ মিলিয়ন টন। বর্তমানে খনির অভ্যন্তরে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন উত্তোলিত বিভিন্ন সাইজের পাথর মজুদ রয়েছে।