১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষতি শতকোটি টাকা

  • বৃষ্টি ও জোয়ারে খাতুনগঞ্জে তলিয়ে যাওয়ার জের

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ অব্যাহত বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পাইকারি পণ্যের বৃহৎ বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর। গুদাম ও দোকানে রাখা চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য বিনষ্ট হয়ে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি বিপুল। এ ক্ষতি দ্বিতীয় দফার। এর সপ্তাহখানেক আগের বর্ষণেও ব্যাপক ক্ষতি হয় চট্টগ্রামের বাণিজ্য কেন্দ্র ও বন্দর ও কাস্টমসে রাজস্ব আদায়ে। এ সব পণ্যের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা। বর্ষায় ভোগ্যপণ্য নষ্ট হওয়ায় বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যগুলোর বাজারে এরই মধ্যে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স এএম টেডার্সের মালিক বিশু সেন জানান, এবারের বর্ষণ ও জোয়ারে খাতুনগঞ্জের অন্তত একশ কোটি টাকারও বেশি ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। রবিবার বৃষ্টি না থাকলেও কোন কোন আড়ত ও দোকানে হাঁটু পর্যন্ত সয়লাব হয় জোয়ারের পানিতে। ফলে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ ভোগ্যপণ্য নষ্ট হয়েছে প্রচুর। অনেক বিনষ্ট পণ্য এখন পশু খাদ্য ও পোল্ট্রি ফিড হিসেবে ব্যবহার ছাড়া গত্যন্তর নেই। আমদানিকারক ছাড়াও অনেক সেকেন্ড পার্টি রয়েছেন, যারা আমদানিকারক থেকে পণ্য কিনে নিয়েছিলেন ধীরে ধীরে বিক্রির উদ্দেশে। এ সব ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সংগঠন সূত্রে জানানো হয়, দুই সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ভোগ্যপণ্যের পাইকারি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দেশের খাদ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার এই খাতুনগঞ্জ। বিদেশ থেকে আমদানির পণ্য এখান থেকেই নৌ ও সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবাহিত হয়ে থাকে। গত দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহতভাবে যে বর্ষণ হয়েছে তাতে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ সব আমদানি পণ্যের সঙ্গে ব্যাংক জড়িয়ে থাকায় সমস্যা হয়েছে আরও জটিল। খাদ্যপণ্যের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, শুধু চাক্তাই-খাতুনগঞ্জই নয়, নগরীর নাসিরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকার গুদাম এবং মিলে রাখা গম, ধান ও চাল বিনষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট হয়েছে তা দেশের খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যেই কাঁচাবাজারে প্রভাব পড়েছে। বেড়ে গেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম। কেননা, এগুলো পচনশীল পণ্য। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এমনিতেই এ ধরনের পণ্যের বাজার উর্ধমুখী থাকে। এর আগে বন্যা ও জোয়ারের পানি বাজারকে বড় ধরনের একটি ধাক্কা দিয়েছে। রবিবার খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেখা যায় নিষ্প্রাণ অবস্থা। বেচাকেনা নেই। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা রয়েছেন বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ভিজে যাওয়া পণ্য শুকানোর কাজে ব্যস্ত। চাল, গম, মসুর ডাল, মুগ ডাল এবং বিভিন্ন পণ্যের বড় বড় ভেজা বস্তাগুলোকে দোকান থেকে বের করে খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কর্মচারীরা ব্যস্ত হয়েছেন জমাট বাধা খাদ্যপণ্যের দলা ভাঙার কাজে। এর মধ্যে যে সব পণ্য কম ভিজেছে সেগুলো শুকিয়ে খাবার উপযোগী করা সম্ভব হবে। কিন্তু যেগুলো দিনের পর দিন ভেজা অবস্থায় ছিল সেগুলো পশুর খাদ্য না করে উপায় নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

নির্বাচিত সংবাদ