১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রিকেটের পরিবর্তে ফুটবলে মেতেছে টাইগাররা!

  • ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনও ভেসে গেল বৃষ্টিতে

মিথুন আশরাফ ॥ একটি করে দিন যাচ্ছে আর দিন পরিত্যক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় টেস্টের হাল এমনই হয়েছে। কী আর করার। বৃষ্টিতে যখন ক্রিকেট খেলা হচ্ছে না, তখন ফুটবল তো খেলা যায়। আর তাই বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা ক্রিকেট ছেড়ে ফুটবলেই মাতছেন। আসলে বলা চলে মাততে বাধ্য হচ্ছেন। দ্বিতীয় দিনের পর তৃতীয় দিন, এরপর রবিবার চতুর্থদিনের খেলাও হলো না। এ তিনদিনে একটি বলও মাঠে গড়াল না। প্রথমদিন যে ৮৮.১ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান করেছিল বাংলাদেশ, চতুর্থদিন শেষে সেখানেই খেলা আটকে আছে। মাঠে এসে তাই শরীর ফিট রাখতে অনুশীলনের সঙ্গে ফুটবল খেলাই পথ!

অবশ্য বন্ধু দিবস থাকায় ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বের শুভেচ্ছাও বিনিময় করেছেন। সেই শুভেচ্ছা ভক্তদের জন্যও জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। খেলা না হওয়ায় এ বিষয়গুলোই আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাকিব আল হাসান যেমন তার ফেসবুক ভ্যারিফাইড পেজে বন্ধু দিবসে ভক্তদের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘হ্যালো বন্ধুরা, আমি সাকিব আল হাসান, বন্ধু দিবসে তোমাদের প্রতি রইল আমার অসংখ্য ভালবাসা। আশা করি তোমাদের দিনটি শুভ কাটবে, সবাইকে হ্যাপি ফ্রেন্ডশিপ ডে।’ সাকিবের ফেসবুক পেজে যখন ভিডিও বার্তাটি পোস্ট হয়, তখন বাজে ১টা ৩৩ মিনিট। এমন সময় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই ছিলেন সাকিব। দলের ক্রিকেটাররাও। একাডেমি মাঠে দুই দলে ভাগ হয়ে ফুটবল ম্যাচ খেলা মাত্রই শেষ হয়েছে। এরপর টিম হোটেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে চতুর্থ দিনের খেলাও পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এ নিয়ে টানা তিনদিন বৃষ্টির জন্য খেলা হয়নি। এখন আর একটি দিনই বাকি আছে। খেলা যে ড্র হয়ে গেল, তা সবারই বোধগম্য হয়ে গেছে। এরপরও শেষদিনে যদি খেলা হয়, সেটিতেই আনন্দ পাবেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। তারা যে খেলতে চান। অন্য কোন দিকেই মনোযোগ নেই। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তাই বলেছেন, ‘আমরা খেলোয়াড়। খেলতে চাই। খেলা ছাড়া অন্য কোন দিকেই মনোযোগ নেই।’ দুই টেস্টের সিরিজ ড্র হলে বাংলাদেশ ৬ রেটিং পয়েন্ট পাবে, মাহমুদুল্লাহকে এমনটি জানানো হতেই এ জবাব দেন এ অলরাউন্ডার। রেটিং পয়েন্টের দিকে যে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের কোন মনোযোগ নেই। কোনভাবে খেলতে পারলেই খুশি হতেন। সেই খেলাই প্রথমদিনের পর থেকে আর হচ্ছেই না।

দুপুর পৌনে ১টায় যখন বৃষ্টি আসল, এরপরেই পরিত্যক্ত করার ঘোষণা নেয়া হয়। কিন্তু এরপর যে বৃষ্টি থামল, উজ্জ্বল রোদই দেখা গেল। তাই প্রশ্নও উঠল, কেন এত দ্রুত দিনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলো। যেখানে আগেরদিনই বেলা ৩টার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এমনটি প্রশ্ন উঠছে, পরিত্যক্ত ঘোষণা দেয়ার পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায়। তাহলে কী মাঠ খেলার উপযোগী ছিল? টানা দুই দিন বৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় দিন দুপুরে ক্রিকেটাররা মাঠে এসে বৃষ্টির জন্য আবার হোটেলে ফিরে গিয়েছে। চতুর্থদিনেও একই দশা হয়েছে। তবে এ দিনটিতে আরেকটু অপেক্ষা করলে অন্তত ২ ঘণ্টা খেলা হতে পারত। তাতে ম্যাচের ফলে কোন পরিবর্তন না ঘটলেও ক্রিকেটাররা খেলার আনন্দ পেত। তাই যে চায় ক্রিকেটাররা, তা বলেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, ‘আসলে খেলতে না পারা খুবই হতাশাজনক। এখন শেষদিনের অপেক্ষা।’ সঙ্গে বলেছেন, ‘আবহাওয়ার উপর তো আর কারও হাত নেই।’ তা নেই। তবে খেলা চালানোর জন্য অবশ্যই আরও অপেক্ষা করা যেত। তাতে করে খেলাও হতো।

খেলা হলে ডেল স্টেইনের যে ওভার শেষ করতে আরও ৫ বল বাকি আছে, তা শেষ হতো। নাসির হোসেন ১৩ রান করে যে প্রথমদিন শেষ করেছেন, মাঠে নামার অপেক্ষা আর শেষই হচ্ছে না। সেই অপেক্ষারও অবসান ঘটত। ম্যাচে অনেক মোড়ই মিলত। যা ক্রিকেটারদের আনন্দে ভরিয়ে দিত। সেই সঙ্গে দর্শকরা যে খেলা দেখার অপেক্ষা করে আছেন, তাদের সেই অপেক্ষারও সমাপ্তি ঘটত। কিন্তু বৃষ্টি তা হতে দিচ্ছে না।বৃষ্টির জন্য তৃতীয় দিনের মতো চতুর্থদিনের পরিণতিও হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায়, সাড়ে ১১টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলে আসে টিম বাংলাদেশ। ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করেই আর অপেক্ষা নয়, হাতে ফুটবল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুস্তাফিজুর রহমান ও মুমিনুল হকরা।

শরীর গরম করে নিতে ফুটবল খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ওই সময় স্বাগতিক অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়দ ফুটবল না খেলে বল বয়দের নিয়ে ব্যাটিং অনুশীলনে মনোযোগী হন। এরপর ক্রিকেটাররা দুই ভাগে ভাগ হয়ে রীতিমতো ফুটবল ম্যাচ খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রায় ২০ মিনিটের মতো ফুটবল খেলে ক্ষ্যান্ত দেন সাকিব-সৌম্যরা। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা যখন ফুটবল খেলায় ব্যস্ত তখন মাঠে এসে পৌঁছায় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। স্বাগতিক ক্রিকেটারদের ফুটবল খেলা দেখতে দেখতে ড্রেসিং রুম ছেড়ে অতিথি দলের ক্রিকেটাররা মিরপুরের মাঠে প্রবেশ করেন। মাঠে প্রবেশ করেই স্ট্রেচিংয়ের জন্য তৈরিও হচ্ছিলেন অতিথি দলের ক্রিকেটাররা। এই সময় হঠাৎ করেই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি।

কী আর করা। বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা আবারও ছুটতে থাকেন ড্রেসিং রুমের দিকে। পরে বৃষ্টির বেগ থামলেও দুই দলের ক্রিকেটাররা ড্রেসিং রুমে থাকাটাকে নিরাপদ মনে করে সেখানেই অবস্থান নেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটাররা আর মাঠমুখী না হলেও বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা দুই ভাগে ভাগ হয়ে একাডেমি মাঠে ফুটবল খেলেন। ক্রিকেট খেলা হচ্ছে না, তাই ফুটবল খেলেই আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা চলেছে। ফুটবলে মাতছেন ক্রিকেটাররা।