২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘এটা বিরক্তিকর’ ॥ রিয়াদ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পাঁচদিনের মধ্যে তিনদিনই বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়ে গেল। প্রথমদিন ছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থদিনে কোন বলই মাঠে গড়াল না। ক্রিকেটারদের জন্য তা হতাশাজনকই। তবে বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলছেন, ‘এটা বিরক্তিকর।’ দুপুর ১টা ৫ মিনিটে চতুর্থদিন পরিত্যক্ত হওয়ার ঘোষণা আসে। এরপর মাহমুদুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই জানিয়েছেন।

নাসির হোসেন প্রথমদিন যে ১৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন। আর ব্যাট হাতেই নামতে পারছেন না। তার জন্যও নিশ্চয়ই এমন পরিস্থিতি বিরক্তিই ধরাচ্ছে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদই তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আজ (রবিবার) সকালে বলছিল (নাসির), ভাইয়া ভাল লাগছে না। দু’দিন ধরে নটআউট আছি। সবাই তো চাচ্ছি আমরা খেলতে। এখন তো পরিস্থিতির শিকার। দেখা যাক কাল (আজ) কী হয়?’

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বর্তমানে এমন পরিস্থিতিতে দলের অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটা খুব কঠিন একটা বিষয়। আপনি যখন পাঁচদিন মাঠে নামার পরিকল্পনা ও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবেন, তারপর টানা তিনদিন খেলা পরিত্যক্ত হওয়া স্বাভাবিকভাবেই বিরক্তিকর। আমরা খেলতে এসেছি। আমরা যদি খেলাটাই না খেলতে পারি তাহলে তো আর কিছুই হলো না। ভাল না খারাপ খেলি সেটা পরের বিষয়। এই সময়ে ব্যক্তিগত প্রস্তুতিও প্রয়োজন। যেন আমরা ফোকাস থেকে সরে না যাই। তবে আমরা যখন হোটেলে থাকব মনে হয় বিশ্রামের সময়টাও উপভোগ করা উচিত। এরপর যখন মাঠে আসব তখন আমাদের সুইচ অন করা উচিত। কারণ আমরা ওই সময়ে ম্যাচের প্রস্তুতিই নেব।’

সেট হয়েও ব্যাটসম্যানরা ৩০-৪০ এর ঘরে আউট হয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে এ অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমার মনে হয় যাদের কথা বললেন তারা সবাই এটা অনুভব করছে। এটা বড় একটা সুযোগ। কারণ প্রথম ২০-৩০ রান তোলা কঠিন। ওটা হার্ডেল পার্ট। তখন স্বাভাবিক খেলার সময়। তিন-চার জন আমরা ২০-৩০-৩৫-৪০ রান (ইমরুল ৩০, মুমিনুল ৪০, মাহমুদুল্লাহ ৩৫, সাকিব ৩৫) করে আউট হয়ে গেছি। আমার মনে হয় টেস্ট ক্রিকেটে এটা একটা অপরাধ। আমাদের গ্রুপ করে ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করে বের করতে হবে কি সমস্যা হচ্ছে। যেন এখান থেকে আমরা বের হতে পারি। ইনশাল্লাহ আমরা দ্রুতই সমস্যার সমাধান করে ফেলব।’

এখন বাকি শুধু একটি দিন। পঞ্চমদিনেও খেলা হবে কিনা এ নিয়েও আছে সংশয়। তবে এ নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যেও যে কথা হয়, তা বুঝিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। খেলা হলে কী হতে পারে তা নিয়েও আলোচনা চলে। মাহমুদুল্লাহ বলেছেন ‘আজ (কাল) সকালে ইমরুলের সঙ্গে নাস্তা খাওয়ার সময় আলাপ করছিলাম যে ম্যাচ হলে কি হতে পারে। এগুলো প্রায়ই আমরা আলাপ করি। রুমে যখন থাকি তখন ব্যক্তিগতভাবে সময় কাটাই। কিন্তু যখন বের হই তখন ক্রিকেট নিয়েই আলোচনা। পরিস্থিতি কী হতে পারে? আমাদের কী করা উচিত? একটু-আধটু আইডিয়া শেয়ার করা হয়।’ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র হলে বাংলাদেশ ৬ রেটিং পয়েন্ট পাবে। এতে করে র‌্যাঙ্কিংয়ে কোন উন্নতি না ঘটলেও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে ৬ রেটিং পয়েন্ট তো মিলল। মাহমুদুল্লাহ এ পয়েন্ট নিয়ে নয়, খেলা নিয়েই ভাবছেন, ‘৬ পয়েন্ট পাওয়ার থেকে খেলাটাই আমরা বেশি উপভোগ করতাম। আবহাওয়ার উপর তো আর কারও হাত নেই।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শেষে অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এর আগে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে খেলা গেলে ভালই হতো। মাহমুদুল্লাহও তাই মানছেন, ‘পুরো পাঁচদিন যদি দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারতাম তাহলে প্রস্তুতিটা খুবই ভাল হতো। আমরা হারি-জিতি যাই হতো সেটা আমাদের কাজে দিত। কারণ আমরা বিশ্বের সেরা দলটির বিপক্ষে খেলতাম। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক হতো, ভাল হতো। কারণ আমরা আমাদের স্কিলগুলোকে আরও ঝালিয়ে নিতে পারতাম।’

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের আগে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল) আয়োজন করা হতে পারে, সেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন দলের নির্ভরযোগ্য এ ক্রিকেটার, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে আমিও শুনলাম বিসিএল শুরু হবে। এটা ইতিবাচক দিক। দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার পর হয়ত ট্রেনিং শুরু হবে। এরপর আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা। যদি বিসিএল খেলা হয় তাহলে তো ভাল। ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারব।’