২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জীবনে রবীন্দ্রনাথ

  • তৌফিক অপু

‘আমার নয়ন ভুলানো এলে

আমি কি হেরিলাম হৃদয় মেলে

শিউলিতলার পাশে পাশে

ঝরা ফুলের রাশে রাশে

শিশির ভেজা ঘাসে ঘাসে

অরুণরাঙা চরণ ফেলে

নয়ন ভুলানো এলে’

বাংলাভাষা এবং বাঙালী জাতিসত্তার সঙ্গে যে ব্যক্তিটির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য, তিনি হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যার ছোঁয়ায় বাঙালী সংস্কৃতির আধুনিক রূপায়ণ ঘটেছে। পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য কবিদের মধ্যে তিনি একজন। তাঁর সব্যসাচী হাতের স্পর্শে প্রাণ পেয়েছে বাংলা ছোট গল্পের সীমাবদ্ধ অধ্যায়। উপন্যাস, কবিতা ও নাটকে এসেছে বৈচিত্র্য আর সঙ্গীত সৃষ্টির ক্ষেত্রে তো এখনও তাঁকে বলা হয় অতুলনীয় স্রষ্টা। এছাড়া তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ ও রাষ্ট্র চিন্তাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানী। তবে তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি কবি। শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় সামান তালে বিচরণ করা লেখকের সংখ্যা এখন পর্যন্ত কম, যে কারণে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তেই উচ্চারিত হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। যিনি বাংলা শিল্প সংস্কৃতিকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। আসছে ২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসন, বাঙালী জাতির জন্য একটি বেদন বিধুর দিন। যে দিনটি কখনই ভোলার নয়। মনে হয় আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সেদিন যেন ঝড়ে পড়ল। নানা আয়োজনে পালন করা হয় বিশ্বকবির মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতিবারের মতো এবারও এর ব্যক্তিক্রম হবে না। তবে প্রতিবছরই একটু একটু করে বৃদ্ধি পায় আয়োজনের পরিধি। বাঙালীর প্রাণের মানুষের এই জন্মদিন কিংবা মৃত্যুবার্ষিকী পালনে থাকে না কোন কার্পণ্য। বেশ আড়ম্বরভাবেই পালিত হয়ে থাকে আয়োজনগুলো। এ উৎসব পালনে থাকে না জাতি-ধর্ম ভেদাভেদ। শুধুু তার অতুলীয় সৃষ্টিকে উপজীব্য করে সবাই মিলিত হয় প্রাণের মেলায়। একেকজন একেক আঙ্গিকে পালন করে থাকে এ আয়োজন। শুধু সামাজিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথ। জীবন চলার উপদেশ কিংবা জীবন সাজানোর রসদ সবই যেন রবীন্দ্রনাথ থেকে পাওয়া যায়। সুন্দর জীবনের পাথেয় হিসেবে আজও রবীন্দ্রনাথ পাথেয় হয়ে আছেন। আর একারণেই তাঁর বিশেষ দিবসে ঘরের সাজ-সজ্জাতেও থাকে ভিন্নতা। প্রতিটি কোণেই যেন রাবিন্দ্রিক ছোঁয়া প্রতীয়মান হয়ে ওঠে। শোপিস র‌্যাকের শোপিসগুলো সেজে ওঠে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে। বুকসেলফগুলো ভরে ওঠে রবীন্দ্রনাথের গান, গল্প, উপন্যাসের বইয়ে। পোশাকেও ঠাঁই পায় রবীন্দ্রনাথ। এই ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে নেই ফ্যাশন হাউসগুলো। তারাও বিশ্বকবিকে পোশাকি ভাবধারা বজায় রেখেছে। অর্থাৎ পোশাক-আশাকে বিশ্বকবির ভাবধারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এ ব্যাপারে ফ্যাশন হাউস নিত্যউপহার এবং শঙ্খবারের কর্ণধার বাহার রহমান জানান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাঙালীর শিল্প-সংস্কৃতি যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বাংলা সাহিত্যকে তিনি অন্য এক আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি শুধু তাঁর ভাবধারা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে আনতে। আমরা যে সেক্টর নিয়ে কাজ করছি সে সেক্টরেই চেষ্টা করছি বিশ্বকবির ভাবধারা তুলে আনতে। যেমন টিশার্টে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য কবিতার পঙ্ক্তি কিংবা বাণী ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর মুখাকৃতি দিয়েও টিশার্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজেও এই আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পোশাকে রবীন্দ্রনাথÑ শুধু এই ব্যাপারটিই নয়, এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডে উৎসব কিংবা উপলক্ষভিত্তিক পোশাকের প্রচুর জনপ্রিয়তা। তরুণরা আগ্রহ ভরে কিনছে পোশাক। বিশ্বকবির ভাবধারা পোশাকে তুলে আনতেও তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পোশাকগুলো পাওয়া যাবে দেশীয় বুটিক হাউস ছাড়াও বিভিন্ন ফ্যাশন আউট লেটে। যেমন রঙ, আড়ং, দেশী দশ ও আজিজ সুপার মার্কেটের বিভিন্ন আউট লেটে। সত্যিকার অর্থেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালী সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার প্রেরণা। সৃজনশীলতার অনন্য এক নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যিনি আজও আমাদের শিল্প সাহিত্যের মুকুটহীন রাজা হিসেবে অধিষ্ঠিত।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : আন্না ও শুভ