১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ আদালতে হাজির হচ্ছেন জনকণ্ঠ সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের তলবে আদালতে হাজির হচ্ছেন দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক, মুদ্রাকর ও প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম.এ. খান মাসুদ) এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়। আজ সোমবার সকাল ৯টায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপীল বেঞ্চে হাজির হবেন তাঁরা। আপীল বিভাগের ১ নম্বর বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য তিন নম্বরে রয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপীল বেঞ্চের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জারি করা আদালত অবমাননার এ রুলটি।

এর আগে গত ১৬ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা ॥ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করায় গত ২৯ জুলাই আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করে রুল জারি করেন আপীল বিভাগ। রুলে আদালত অবমাননার দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন আইনী এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ওই আদেশে আপীল বিভাগ বলেন, নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আদালতের গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে। তাই তাঁর কাছে বিনীত প্রশ্ন ১৪৩ জনকে পুড়িয়ে মারার অন্যতম হুকুমের আসামি কিভাবে চিকিৎসার জন্য জামিন পায়। জমির আল নিয়ে লাঠি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে হাজার হাজার দরিদ্র আসামি যেখানে বছরের পর বছর জেলে আটকা, সেখানে রাজনীতির নামে প্রকাশ্যে এই ১৪৩ জনকে খুন করার পরও সে জামিন পাবে- এই কি বিচারের ন্যায়দ-। বিচারকরা নিশ্চয়ই জানেন, কেন তারা পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে এভাবে নৃশংস হত্যাকা- চালাচ্ছে। বাস্তবে এটা আইএসের পদ্ধতি। আইএস সবখানে এভাবে ভয়াবহ নৃশংসতা সৃষ্টি করে দেশের মানুষকে পাজলড করে দিতে চায়। যাতে কেউ প্রতিরোধে এগিয়ে না আসে। ফখরুলের জামিনের ভেতর দিয়ে বিচারকরা কি বাংলাদেশকে আইএসের পথে অগ্রসর হওয়ার সুবিধা করে দিলেন না? এ সব ঘটে কি ফখরুলের টাকা আছে বলে আর যারা জমির আল নিয়ে মাথা ফাটায় ওদের টাকা নেই বলে?

এখানেই কি শেষ।...... ’৭১-এর অন্যতম নৃশংস খুনী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নিষ্পাপ বাঙালীর রক্তে যে গাদ্দারগুলো সব থেকে বেশি হোলি খেলেছিল এই সাকা তাদের একজন। এই যুদ্ধাপরাধীর আপীল বিভাগের রায় ২৯ জুলাই। পিতা মুজিব তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রুশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদেরের পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে? আইএসআই ও উলফার পথে, না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদের কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাত দেয়? বিচারকের এথিকসে পড়ে? কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিশেষ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। সে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির আর্গানাইজেশন। কেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী আগে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। কি ঘটেছে সেখানে। ক্যামেরনই পরোক্ষভাবে বলছেন সকল সন্ত্রাসীর একটি অভয়ারণ্য হয়েছে লন্ডনে।

আদেশে আদালত বলেন, এ মন্তব্যগুলো শুধুমাত্র আদালতের বিশ্বস্ততা ও নিরপেক্ষতার জন্য হানিকর নয়, বরং উচ্চ আদালতের বিচারকদেরও হেয় করে এবং তাতে করে আদালতের কর্তৃত্বকেও খর্ব করে। সে অনুযায়ী আদালত ২০১৫ সালের ১৬ জুলাইয়ের দৈনিক জনকণ্ঠে ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা ॥ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামের নিবন্ধের লেখক স্বদেশ রায় এবং দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক, মুদ্রাকর ও প্রকাশক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদকে (এম.এ. খান মাসুদ) ৩ আগস্ট ২০১৫ তারিখে সকাল ৯টায় আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনী ব্যবস্থা নেয়া এবং আদালত অবমাননার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিচ্ছে।