১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনোয়ারের জামিন কারাগারে আমান, মিন্টুর শুনানি হয়নি

কোর্ট রিপোর্টার ॥ আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার। তবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমানের ৫৬ মামলায় জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর মামলার মূল নথি না থাকায় তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়নি।

রবিবার আমানউল্লাহ আমান আপীল বিভাগের নির্দেশানুযায়ী ৪২ মামলাসহ মোট ৭১ মামলায় এবং এমকে আনোয়ার ৯ মামলায় এবং আব্দুল আওয়াল মিন্টু ১ মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন।

মামলাগুলোর মধ্যে আমানের সাভার থানার ২টি মামলায় ঢাকা সিজেএমএম কোর্টে বেলা পৌনে ২টায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলা ২টিতে তিনি পূর্বে জামিনে থাকায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হক শ্যামল তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর ঢাকা সিএমএম আদালতে ৬৩টি মামলায় আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন করেন সাবেক এ ছাত্র নেতা।

৬৩ মামলার মধ্যে ৮টি মামলার মূল নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে থাকায় ওই মামলায়গুলোর নথি প্রাপ্তির পর শুনানির দিন ঠিক করা হয়। অপর ৫৫টি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে এমকে আনোয়ার ৯ মামলার মধ্যে ২টি মামলা নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে থাকায় ওই মামলায়গুলোর নথি প্রাপ্তির পর শুনানির দিন ঠিক করা হয়। অপর ৭টি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আসামি পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ আলম, ওমর ফরুক ফারুকী, গোলাম মোস্তফা খান, মোসলেহ উদ্দিন জসিম, মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ আইনজীবী জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। বেলা আড়াইটা থেকে বেলা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আসামি পক্ষে আইনজীবীরা আসামিরা বয়স্ক, সাবেক মন্ত্রী ইত্যাদি উল্লেখ করে জামিন মঞ্জুরের আবেদন করেন। তারা আসামিদের আপীল বিভাগ জামিন দেয়ার জন্য নিম্ন আদালতকে জামিন দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলেছেন বলে উল্লেখ।

ঢাকা সিএমএম আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আলী মাসুদ শেখ, আলমগীর কবির রাজসহ ১০ বিচারক পৃথকভাবে জামিন আবেদনের পর শুনানি করেন। শুনানি শেষে এমকে আনোয়ার এবং আমানের ৭ মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন এবং আমানের অপর ৪৮ মামলার জামিন নাকচ করেন। এরপর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আমানের অপর ৬ মামলায় আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা মামলাগুলোর চার্জশীট হওয়ায় জামিন আবেদন নাকচ করেন।

গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেনের বেঞ্চ আমানকে ৪২টি এবং এমকে আনোয়ারকে ৯টি এবং মিন্টুকে ১টি মামলায় চার সপ্তাহের আগাম জামিন প্রদান করেন। আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের জন্য আপীল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে গত ২৭ জুলাই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপীল বেঞ্চ জামিন বাতিল করে ৭ দিনের মধ্যে বিএনপির ওই নেতাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।