২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছি -দীপ্তিমান সেনগুপ্ত

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ ছিটবাসীর মুক্তির আন্দোলন করতে নয়, নতুন বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছি। সদ্য স্বাধীন হওয়া যে ভুখন্ডটির জন্য দীর্ঘ আটষট্টি বছর ধরে আমাদের অহিংস আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে, কোন রক্তপাত ছাড়াই আজ যে স্বাধীন ভুখন্ড হলো, ছিটমহলের অসহায় মানুষগুলো পেল নাগরিক পরিচয় একটি দেশ, লাল-সবুজের পতাকা। নতুন দেশ পাওয়া সেইসব মানুষগুলোর সংগে আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছি। রবিবার রাতে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথাগুলো বলেন, অধুনালুপ্ত ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত।

তিনি বলেন, আমি ভারতের নাগরিক হলেও আমার প্রয়াত বাবা স্বর্গীয় দীপক সেনগুপ্তের হাত ধরেই ছিটমহলের আন্দোলনের সংগে যুক্ত হওয়া। ৭৪-এ ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির পর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ছিটমহলের মুক্তি। ৭৫-এর পটপরিবর্তনে বঙ্গবন্ধু তা করতে পারেননি। এরপরই ছিটমহল চুক্তির প্রক্রিয়াটিও থেমে যায়। আমার প্রয়াত বাবা সাবেক বিধায়ক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ছোট্ট একটি শহর দিনহাটা থেকেই শুরু করেন ছিটবাসীদের মুক্তির আন্দোলন। গঠন করে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি। এই কমিটির ব্যানারে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির বাস্তবায়ন ঘটাতে ভারত ও বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। কিন্তু আমার বাবা দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বঙ্গবন্ধুর মতো আমার বাবারও স্বপ্ন ছিল ছিটবাসীদের মুক্তি। তাই প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পুরণে নাগরিকত্বহীন এসব ছিটমহল বাসীদের পাশে দাঁড়াই এবং দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ছিটমহল মানুষদের জন্য লড়াকু সৈনিকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। ওই লড়াইয়ে ভারতের মত একটা বিশাল রাষ্ট্রের ছোট্ট একটি শহর থেকেও দু‘দেশের প্রতিটি ছিটমহলে এমনকি আন্দোলনকে বেগমান করতে সুদুর দিল্লী, কলকাতা কিংবা বাংলাদেশের ঢাকাতেও আমাকে ছুটে আসতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছিটমহলের অসহায় মানুষদের পাশে থেকে শক্তি, সাহস আর আশা জাগিয়ে তুলেছি। হতাশ হয়ে যাওয়া ছিটবাসীদের একটি কথাই বার বার বোঝাতাম, দেখবেন রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনে একদিন ছিটমহল সমস্যার সমাধান করবে। হয়তো সময়টা বেশি লেগেছে। কিন্তু অবশেষে জয়তো ছিটবাসীদেরই হলো। তারা পেল একটি দেশ, নাগরিক পরিচয়।

দীপ্তিমান সেনগুপ্ত আজ সকালে সদর বোদা উপজেলার কাজলদিঘী, দেবীগঞ্জ উপজেলার বেহুলাডাঙ্গী, কোটভাজিনি, বালাপাড়া ও সদর উপজেলার গারাতী ছিটমহল পরিদর্শনে গিয়ে সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশী নাগরিকদের সংগে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।