২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাখ্যা দিতে জনকন্ঠ সম্পাদক নির্বাহী সম্পাদককে এক সপ্তাহ সময়

  • বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে নিবন্ধন প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর চূড়ান্ত রায় ঘিরে বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা ॥ পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে নিবন্ধ প্রকাশ করায় দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ) ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে আদালত অবমাননার রুলের জবাব দিতে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে আপীল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়।

জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ এবং নিবন্ধের লেখক স্বদেশ রায় ওই নিবন্ধের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আদালতে হাজির হয়ে তিন মাস সময়ের আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে আগামী রবিবার তাদের জবাব দিতে বলেন।

ওইদিন আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও স্বদেশ রায়কে আদালতে হাজির থাকতে হবে বলে তাদের আইনজীবী সালাউদ্দিন দোলন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা সময় চেয়েছিলাম। আদালত আগামী রবিবার দিন রেখেছেন। রবিবার মধ্যেই জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওইদিন তাদের হাজির হতে হবে।”

শুনানিতে সালাউদ্দিন দোলনের সঙ্গে ছিলেন সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল এম সোয়েব খান, যাকে দুই সাংবাদিকের পক্ষে এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থেকেও এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হিসাবে দায়িত্ব পালন করায় আইনজীবী সোয়েবকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছে আদালত।

সোয়েব খান বলেন, “রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা শুনানিতে বলেছেন আমি সহকারী এ্যার্টনি জেনারেল হিসেবে কর্মরত থাকায় এই মামলা করতে পারি না। আমি বলেছি এ্যাডভোকেট অন রেকড হিসেবে এই মামলা করেছি। ...এই মামলা করতে বাধা নেই।

“প্রধান বিচারপতি এ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হিসাবে আমার দায়িত্ব সাতদিনের মধ্যে অন্য কোনো আইনজীবীর কাছে দিতে বললে আমি বলেছি পাওয়ার প্রত্যাহার করব না।”

এরপরই আদালত কারণ দর্শানো নোটিস দিয়ে এ্যাডভোকট অন রেকর্ডের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না- ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার জবাব দিতে বলেছে বলে জানান তিনি।

২৯ জুলাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চূড়ান্ত রায়ের দিন দৈনিক জনকণ্ঠ সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অবমাননার রুল জারি করে আপিল আদালত।

‘সাকার পরিবারের তৎপরতা : পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে গত ১৬ জুলাই দৈনিক জনকণ্ঠে স্বদেশ রায়ের লেখা একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

এর একটি অংশে বলা হয়, “৭১-এর অন্যতম নৃশংস খুনী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নিষ্পাপ বাঙালীর রক্তে যে গাদ্দারগুলো সব থেকে বেশি হোলি খেলেছিল এই সাকা তাদের একজন। এই যুদ্ধাপরাধীর আপিল বিভাগের রায় ২৯ জুলাই। পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রুশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনও কোনো বিচারপতি সাক্ষাত দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়।”

ওই নিবন্ধের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতেই আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও স্বদেশ রায়কে ৩ অগাস্ট আদালতে হাজির হতে বলে আদালত।

নির্বাচিত সংবাদ