২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২০০ কোটি টাকার প্রকল্প ॥ নতুন নাগরিক বরণ

  • ব্যবস্থা করা হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, বাজার তৈরি;###;তৈরি হবে ইউনিয়ন পরিষদ

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ নতুন নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। যাতে অন্য বাংলাদেশীর মতো সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পায় সাবেক ছিটমহলবাসী। সেই সঙ্গে যে প্রত্যাশা নিয়ে এই মানুষগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তা পূরণ হতে পারে। এর অংশ হিসেবে সদ্য সাবেক হওয়া ছিটমহলবাসীর ভাগ্যের উন্নয়নে গুচ্ছ প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে পরিকল্পনা কমিশন। তবে এতে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শীঘ্রই এ বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ছিটমহলবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত ২০০ কোটি টাকা দিয়েই প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হতে পারে। অন্যদিকে ছিটমহলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কানেকটিভিটিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে এর আগে বলেছেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই একটি টিম গঠন করে ছিটমহলে পাঠানো হবে। এ কমিটি ছিটমহলবাসীদের প্রয়োজন নির্ধারণ করে একটি প্রতিবেদন আমাকে দেবে। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী একটি গুচ্ছ প্রকল্প আকারে তৈরি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার জন্য পাঠাব। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দিকনির্দেশনা দেবেন সেভাবেই কাজ করব। তিনি বলেন, সাবেক ছিটমহলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় পরিকল্পনা কমিশন। শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।

সূত্র জানায়, সাবেক ছিটমহলবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে একটি গুচ্ছ প্রকল্প বা ক্লাস্টার প্রজেক্ট হাতে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এর আওতায় ছিটমহলবাসীদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম হাতে নেয়া হবে। এজন্য প্রাথমিকভাবে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এতে সচিব পদমর্যাদার একজন সদস্যকে প্রধান করে পরিকল্পনা কমিশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা ছিটমহল উন্নয়ন সংক্রান্ত কমিটিতে থাকবেন। যারা ছিটমহলের সমস্যা নিরূপণ করে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।

সূত্র জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল রয়েছে। ১৯৭৪ সালে করা স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ায় ১১১টি ছিটমহল পেয়েছে বাংলাদেশ। এসব ছিটমহলে জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। যারা সব ধরনের মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল এতদিন।

নতুন বাংলাদেশীদের জন্য আশু করণীয় বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রথমত যে কাজটি করতে হবে তা হলো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা অর্থাৎ জমিজমা সংক্রান্ত সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। জমির মালিকানার দলিপত্র ঠিকঠাক মতো ম্যানেজ করতে হবে। এরপরই যেটি করতে হবে সেটি হচ্ছে মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে সবার আগে প্রয়োজন মূল বাংলাদেশের সঙ্গে কানেকটিভি উন্নত করা। রাস্তা, যোগাযোগ ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। সাবেক ছিটমহলগুলোর দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে হলে বাজার বা গ্রোথ সেন্টারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করতেই হবে। কেননা তারা যেসব পণ্য ও ফসল উৎপাদন করবে সেগুলো যাতে বিক্রি করে প্রকৃত মূল্য পেতে পারে। এরপরই সামাজিক সেবাগুলো নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা ও শিশুদের উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য দ্রুত কাজ শুরু করা দরকার।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা যেসব সুবিধা পাচ্ছে তারাও একই সুবিধা পাবে। উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোনভাবেই সাবেক ছিটমহলবাসীকে ভিন্ন চোখে দেখা হবে না। তাঁদের বাচ্চারাও স্কুলে যাবে, বছরের প্রথম দিন বই পাবে। তাঁদের উন্নয়নে সুপেয় পানি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সেবা, সড়ক অবকাঠামো তৈরি করা হবে। এতে অর্থায়নে কোন সমস্যা হবে না। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কয়েক শত কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে সাবেক ছিটমহলবাসীদের জন্য ২০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ টাকা দিয়ে কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে টাকার প্রয়োজন হলে সেটারও যোগান দেয়া হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের পরামর্শে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে-সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ গুচ্ছ প্রকল্পে একজন প্রকল্প পরিচালক থাকবেন। তবে প্রকল্প বস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক ছিটমহলে আলাদা উপ প্রকল্প পরিচালক থাকবেন। এরা মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বস্তবায়ন নজরদারি করবে।

চলতি অর্থবছরে ছিটমহল উন্নয়নের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির ধারাবাহিকতায় ভারতীয় সংসদে স্থলসীমান্ত বিল অনুমোদিত হওয়ার (বর্তমানে ছিটমহল হস্তান্তর হয়েছে) ফলে ছিটমহলের বাসিন্দারা বাংলাদেশের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের পরিধি ছিটমহল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। ওই এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বেগবান করার জন্য এই বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।