২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাওয়া হয়েছে ১১২ কোটি টাকার জরুরী বরাদ্দ

  • চট্টগ্রামে ১৬২ কি.মি. সড়ক বিনষ্ট

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মৌসুমী প্রবল বর্ষণ ও ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’-এর প্রভাবে বর্ষণ অব্যাহত থাকা এবং এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহর এলাকার বিভিন্নস্থানে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ডের সড়কসমূহের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এসব রাস্তাঘাট জরুরীভিত্তিতে মেরামত ও পরে কার্পেটিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জরুরীভিত্তিতে সরকারের কাছ থেকে ১১২ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছে। তবে তার আগেই শুরু হয়ে গেছে ‘প্যাচ ওয়ার্ক’।

এমনিতেই দীর্ঘসময় ধরে শহর এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও অলিগলির রাস্তাসমূহ দুর্দশা কবলিত ছিল। তার ওপর গত ২৩ জুলাই থেকে মৌসুমী ভারি বর্ষণ চলতে থাকার প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’-এর প্রভাবে শুরু হয় আরও ভারি বর্ষণ। পূর্ণিমার কারণে এ সময় সাগরের জোয়ারের পানি অতি মাত্রায় ঢুকে পড়ে শহর এলাকার বিভিন্নস্থানে। এর ফলে ইতোমধ্যেই সড়ক ও রাস্তাসমূহ ছোট বড় আকৃতির খানাখন্দে ভরে গেছে। বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন স্থান শুধু যান চলাচল নয় মনুষ্য চলাচলেরও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত প্রশাসন জরুরীভিত্তিতে প্রাথমিক জরিপ করে ১৬২ কিলোমিটার সড়ক বিনষ্ট হয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে। এসব সড়ক ও রাস্তা আপাতত জরুরী মেরামতের মাধ্যমে প্যাচ ওয়ার্কের প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছে। যা গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জনকণ্ঠকে জানান, যে ১৬২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থান খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে তা প্রথমে প্যাচ ওয়ার্কের মাধ্যমে চলাচলযোগ্য করা হবে। পরে করা হবে কার্পেটিং। জরুরী কর্মসূচীর জন্য ইতোমধ্যে সরকারের কাছ থেকে ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে সরকার চট্টগ্রামের সড়ক ও রাস্তার উন্নয়নে এ বরাদ্দ স্বত্ব প্রদান করবে।

অপরদিকে, চসিকের প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ‘প্যাচ ওয়ার্ক’ কর্মসূচী নেয়া না হলে অবশিষ্ট যেসব সড়ক ও রাস্তা রয়েছে সেগুলোর অবস্থাও আরও নাজুক হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় এ সব সড়ক ও রাস্তা মেরামতে আরও বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে। তাই চসিক কর্তৃপক্ষ জরুরীভিত্তিতে প্যাচ ওয়ার্কের মাধ্যমে সৃষ্ট ক্ষত সারানোর প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া অন্য কোন গত্যন্তর নেই। পরে টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী বিনষ্ট সড়কগুলোতে কার্পেটিংয়ের কাজ করা হবে।

উল্লেখ্য, অতি বর্ষণ ও কোমেনের প্রভাবে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় এবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নি¤œাঞ্চলসহ উঁচু এলাকা ও প্লাবিত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাণিজ্যপাড়াগুলো। বাণিজ্যকেন্দ্রে গুদাম ও দোকানপাটগুলোতে পানি ঢুকে শত কোটি টাকারও বেশি ভোগ্যপণ্যের ক্ষতি হয়েছে। যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইতোমধ্যেই শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে ৪১ ওয়ার্ডজুড়ে যে সব সড়ক ও রাস্তা এবং ছোট ছোট অলিগলির রাস্তাগুলো নষ্ট হয়েছে তা নিয়ে জনদুর্ভোগ বেড়ে যাওয়ায় কর্পোরেশন তা জোড়া-তালি দিয়ে আপাতত চলাচল উপযোগী করার কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। তবে শুরুতে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে এই প্যাচ ওয়ার্ক কর্মসূচী চলবে। কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে এ অর্থ যোগান দেয়া হবে। পরবর্তীতে সরকারের কাছ থেকে চাওয়া কাক্সিক্ষত বরাদ্দ পাওয়া গেলেও পুরোদমে সড়কের উন্নয়ন কাজে হাত দেয়া হবে। এছাড়া এ মুহূর্তে কর্পোরেশনের হাতে বিকল্প অন্য কোন ব্যবস্থা নেই।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরজুড়ে এভাবে যাতে খালে ও সাগরের পানি ঢুকে পড়তে না পারে তৎজন্যও কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। বিশেষ করে শহর এলাকার অভ্যন্তরে যে সমস্ত খাল রয়েছে সেগুলোর তলদেশ থেকে মাটি অপসারণ এবং খালের দু’পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খালকে প্রশস্তকরণের কাজ করা হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি প্রবেশ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি অনেকাংশে দূরীভূত হবে।