১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য ॥ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এফএও পুরস্কার হস্তা

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পুরস্কার সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। গত জুনে ইটালির রোমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে অসাধারণ ও উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এফএও মহাপরিচালক জোসে গ্র্যাজিয়ানো দা সিলভা স্বাক্ষরিত এই স্বীকৃতি প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন। এদিকে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এমডিজি-২০১৫-এর অর্জন বিষয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি (২০১৬-২০৩০)। পররাষ্ট্র সচিব সোমবার

বিকেলে তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) এম মোস্তাফিজুর রহমান, মহাপরিচালক (অর্থনীতি বিষয়ক) রিয়াজ হামিদুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, ক্ষুধার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ লড়াইয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এক নম্বর লক্ষ্যের অধীন তিন (গ) নম্বরটি অর্জন করেছে বলে স্বীকৃতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। লক্ষ্যটি ছিল- ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৫ সময়ে অপুষ্টিতে ভোগা জনসংখ্যা শতকরা অন্তত ৫০ ভাগ কমানো বা কমিয়ে ৫ শতাংশে নিয়ে আসা। সচিব বলেন, এমডিজি-২০১৫ আমরা সফলতার সঙ্গে শেষ করতে পেরেছি। সব লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করা হয়েছে। এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে নিউইয়র্কে সেপ্টেম্বরের ২৫ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এ লক্ষ্যমাত্রা শেষ হচ্ছে। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এসডিজি। তিনি বলেন, অনেক দেশ এমডিজি ২০১৫ অর্জন করতে পারেনি। আমরা সফলতার সঙ্গে অর্জন করতে পেরেছি। এখন এইসব অর্জন বাস্তবায়নে সূচক ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, এসডিজি (২০১৬-২০৩০) মোট ১৭টি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূল করা। এছাড়া অন্যান্য লক্ষ্যের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়ন, অভিবাসন, স্নায়ুতাত্ত্বিক প্রতিবন্ধিতা (অটিজম), পানিসম্পদ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাবের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নেতৃত্বে রয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশের মতামত ও পদক্ষেপকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য অন্যতম অজর্ন।

জানা গেছে, এসডিজি (২০১৬-২০৩০) এ ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে, যেকোন রূপে অবস্থান নেয়া দারিদ্র্য নিমূর্ল, ক্ষুধা দূর করতে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন ও পুষ্টিবৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি, সব বয়সের মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, সবার জন্য সমতাভিত্তিতে শিক্ষা প্রদান, লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, সবার জন্য পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, আধুনিক, নির্ভরযোগ্য ও বহনযোগ্য এনার্জি নিশ্চিত করা, সবার জন্য পূর্ণ সময়ের উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে অসমতা কমিয়ে আনা, নিরাপদ বসবাস, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা, সমুদ্রসম্পদ ব্যবহার, ইকো বাস্তুসংস্থান সুরক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত, টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশিদারিত্বকে শক্তিশালী করা ইত্যাদি।