২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ

সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ
  • অটোরিক্সা-অটোটেম্পো সংগ্রাম পরিষদের ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিক্সাসহ অনুমোদনহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় দিনভর সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ-জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়াসহ পুলিশের সঙ্গে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন বহু মানুষ। প্রায় চার হাজার কিলোমিটার মহাসড়কে এসব পরিবহন চলাচল বন্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। এর মধ্যেও নানা বাধা উপেক্ষা করে বিভিন্ন সড়কে অনুমোদনহীন যানবাহন চলতে দেখা গেছে। সড়ক সচিব এম এন সিদ্দিক বলেছেন, পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান দৃঢ় বলেও জানান তিনি। সরকারী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আজ দেশের সকল জেলায় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেবে মালিক-শ্রমিকরা।

২৭ জুলাই সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে এক আগস্ট থেকে মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘সড়ক নিরাপত্তা বিধানে এ আদেশ এক আগস্ট থেকে কার্যকর করা হবে। জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার অটোরিক্সা ও অটোটেম্পো এবং সব শ্রেণীর অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, মহাসড়কে পৃথক লেনের ব্যবস্থা করে এসব পরিবহন চলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে আন্দোলনরত মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে।

মহাসড়কে অটোরিক্সা চলাচল নিষিদ্ধের সরকারী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ অটোরিক্সা-অটোটেম্পো সংগ্রাম পরিষদ ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। আজ ৪ আগস্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি পেশ, ৮ আগস্ট সব জেলা সদরে মানববন্ধন, ৯ থেকে ১১ আগস্ট জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় সমাবেশ। বিআরটিএ সূত্র জানায়, ঢাকার বাইরে সারাদেশে বর্তমানে প্রায় দুই লাখ সিএনজি অটোরিক্সার নিবন্ধন রয়েছে। জেলা পর্যায়ের নিবন্ধন নেয়া এসব অটোরিক্সাই এখন চলছে জাতীয় এবং আঞ্চলিক মহাসড়কে।

আন্দোলনরত অটোরিক্সা-অটোটেম্পো শ্রমিকদের ওপর পুলিশী নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে অটোরিক্সা-অটোটেম্পো সংগ্রাম পরিষদ। সোমবার এক সংবাদ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, মহাসড়ক থেকে অটোরিক্সা-অটোটেম্পো প্রত্যাহারের সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনরত অটোরিক্সা শ্রমিকের ওপর পুলিশ বাহিনী দিয়ে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। গত ৩ দিন ধরে সারাদেশে অটোরিক্সা-অটোটেম্পো চালক-মালিক-যাত্রীরা সরকারী এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংগ্রাম পরিষদের ডাকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, চালক-মালিকদের আন্দোলনকে নস্যাত করার জন্য সরকার পুলিশ প্রশাসন দিয়ে নির্যাতন-হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। আন্দোলনরত চালক-মালিকদের ওপর পুলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন চালিয়েছে। পুলিশী নির্যাতনে চালক-মালিক ও যাত্রী সাধারণরা আহত হয়েছে। অটোরিক্সা-অটোটেম্পো চালক-মালিকগণ তাদের জীবন-জীবিকার স্বার্থে সরকারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় চালক-মালিকগণ জীবন দিয়ে হলেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

দাউদকান্দিতে দফায়-দফায় সংঘর্ষ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা দাউদকান্দি থেকে জানান, উপজেলার গাজীপুরে বিভিন্ন স্থানে সিএনজি অটোরিক্সা মালিক চালক ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের ও ১ ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানার এসআই রঞ্জন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৬শ’ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের কর্তব্যে কাজে বাধাদান-হামলা ও মহাসড়কে গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় উপজেলার উত্তর গাজীপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের পুত্র রজ্জব আলীকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দাউদকান্দিতে সিএনজি অটোরিক্সা মালিক চালকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবরোধ করে গাড়ি ভাংচুর করলে পুলিশ এতে বাধা দেয়। এ সময় সিএনজি অটোরিক্সা মালিক, চালক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পল্টাধাওয়ায় পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে জানান, মহাসড়কে সিএনজি ও অটোরিক্সা চলাচলে সরকারী নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের ৬টি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছে সিএনজি ও অটোরিক্সা মালিক ও শ্রমিকরা। সোমবার সকাল ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, সানারপাড়, শিমরাইল, কাঁচপুর এলাকায় সিএনজি ও অটোরিক্সার মালিক ও শ্রমিকরা অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবরোধকারী পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ লাঠিচার্জ ও শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে। অবরোধের কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ১০ আহত হয়েছে।

সিএনজি অটোরিক্সা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ জামাল জানান, সরকার অন্যায়ভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছি। তারা সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঃ সরাফত উল্ল্যাহ জানান, সিএনজি ও অটোরিক্সা শ্রমিক ও মালিকরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সিএনজি ও অটোরিক্সা শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুড়ে কয়েকটি যানবাহনের কাঁচ ভাংচুর করে। অবরোধকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে এসআই অখিলসহ ২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে। এখন সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর, মোগড়াপাড়া ও বন্দরের মদনপুরে সিএনজি ও অটোরিক্সা চালক ও মালিক সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত যানবাহনের চাকা পাংচার করে দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। পরে আমরা গিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। পরে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

টাঙ্গাইলে বিপাকে যাত্রীরা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা টাঙ্গাইল থেকে জানান, মহাসড়কগুলোতে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল নিষিদ্ধের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। বঙ্গবন্ধু সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ হওয়ায় এবং লোকাল বাস না থাকায় যাত্রীদের চলাচলে কষ্ট করতে হচ্ছে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে প্রতিদিন যাতায়াতকারী যাত্রীরা। এদিকে ছোট যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জেলা অটোরিক্সা, অটোটেম্পো সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট সোমবার বিকেলে শেষ হয়েছে। এরপর নতুন কর্মসূচী দেয়া হবে বলে জানান শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

এদিকে মহাসড়কে সিএনজি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে বন্ধের উপক্রম হয়েছে জেলার কয়েক হাজার সিএনজি। এদিকে অধিকাংশ সিএনজি গ্যাস পাম্প মহাসড়ক সংলগ্ন হওয়াতে গ্যাস সংগ্রহ না করতে পেরে লোকাল সড়কগুলোতেও সিএনজি চালাতে পারছে না চালকরা। এতে করে কয়েক হাজার সিএনজি চালক বেকার হয়ে পড়েছে। বেকায়দায় পড়েছে সিএনজি চালক ও মালিকপক্ষ। আর চরম দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রীদের। মহাসড়কে পর্যাপ্ত লোকাল বাস না থাকা এবং সড়কে না চলায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানান, অনেক সময় রাতে সিএনজির মাধ্যমে হাইওয়ে সড়কে ডিউটি করতে হয়। বর্তমানে তাদেরও বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। টাঙ্গাইল জেলা অটোরিক্সা অটোটেম্পো সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মহসিন সিকদার বলেন, পুলিশ আমাদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা জরিমানা নিচ্ছে। অধিকাংশ গাড়ি চালকরা গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারকে কর দিয়েছি, এরপরও কেন মহাসড়কে গাড়ি চলতে দিচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জে সড়ক অবরোধ ॥ স্টাফ রিপোর্টার মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করায় সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজটের। চরম বিড়ম্বনায় পরে যাত্রী সাধারণ। মহাড়কটির মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া ও নিমতলী পয়েন্টে আট সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিকরা কয়েকটি বাস আড়াআড়ি রাখতে বাধ্য করে সামনের চাকা পাংচার করে দেয়। পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায়। হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো. হাসান জানান, পরে বাসগুলোর চাকা পরিবর্তন করে সরিয়ে নিলে যান চলাচল শুরু হয়। এদিকে এর আগে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের মুক্তারপুরে শ্রমিকদের আরেকটি গ্রুপ ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অবরোধ তৈরির চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের লাঠিপেটা করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্ন সড়কে এমন বাধা বিপত্তি ছাড়াও ধর্মঘট পালন করায় স্থানীয় সড়কগুলোতেও সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ রয়েছে। কিছু সিএনজি চলাচলের চেষ্টা করলেও বাধার শিকার হচ্ছে পথে পথে। তাই যাত্রীরা নানাভাবে বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছে।

নাটোরে নানা কর্মসূচী ॥ সংবাদদাতা নাটোর থেকে জানান, নাটোরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতি। সোমবার দুপুরে শহরের মাদ্রাসা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলটি হরিশপুর বাইপাস হয়ে নাটোর প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মানববন্ধন করে তারা। এ সময় মানববন্ধনে জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতির সভাপতি হোসেন সরদারসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব সিএনজি হঠাৎ করে মহাসড়কে চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় অনেক মালিক আজ বেকার হয়ে পড়েছে। আগামী দুই কর্ম দিবসের মধ্যে মহাসড়কে সিএনজি চলাচলের অনুমতি না দিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়া হয়। পরে মানববন্ধন শেষে সিএনজি মালিকরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

নরসিংদীতে বিক্ষোভ ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা নরসিংদী থেকে জানান, সরকারী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে নরসিংদীতে সিএনজিচালিত অটোরিক্সার মালিক ও চালকরা শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা অবিলম্বে সরকারী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে স্মারকলিপি দেয়। এ সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সোমবার সকাল থেকেই নরসিংদী জেলার মধ্যে চলাচলরত অটোরিক্সার মালিক ও চালকরা শহরের সকল রিক্সা ও ইজিবাইক বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় যাত্রীরা পড়ে বিপাকে। পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে আটকে পড়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানো।

রংপুরে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ ॥

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর থেকে জানান, বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করে মহাসড়কে তিন চাকার বাহন বন্ধ করার প্রতিবাদে এবং তা পুনরায় চলাচলের দাবিতে সোমবার রংপুরের অটো শ্রমিক মালিক সমিতি নগরীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এর আগে তারা এই দাবি আদায়ে জেলা প্রশাসক ও সিটি মেয়রের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। অটো শ্রমিক মালিকরা সকাল থেকেই নগরীর জিরো পয়েন্ট কাছারি বাজারে জমায়েত হতে থাকে। বেলা সাড়ে ১১টায় তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায় এবং স্মারকলিপি দেয়। এরপর আবারও মিছিল নিয়ে তারা সিটি কর্পোরেশনে যায় সেখানেও মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর কাছে স্মারকলিপি দেয়। তারা সিটি কর্পোরেশনের সামনের সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রেখে সমাবেশ করে। বক্তব্য রাখেন সিপিবি নেতা শাহাদাত হোসেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, আব্দুল হান্নান, আব্দুল মালেক প্রমুখ।

বগুড়ায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ॥ স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস থেকে জানান, সোমবার বগুড়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে অটোরিক্সা মালিক ও শ্রমিকরা। বগুড়া জেলা অটোটেম্পো-সিএনজি অটোরিক্সা পরিবহন মালিক সমন্বয় কমিটি এই কর্মসূচীর আয়োজন করে। বেলা ১১টায় পরিবহন মালিক শ্রমিকরা শহরে বিক্ষাভ মিছিল শেষে বগুড়া শহীদ খোকন পার্কে সমাবেশ করে। পরে শহরের সাতমাথায় অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন। এতে বগুড়া জেলা টেম্পো ও সিএনজিচালিত অটোরিক্সার মালিক সমিতি সমন্বয় কমিটির সভাপতি আসাদুর রহমান দুলু ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শেখসহ অন্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টার এই মানববন্ধন ও সমাবেশ চলাকালে বক্তারা মহাসড়কের পাশ দিয়ে অটোরিক্সা পরিবহন চলাচলের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনবোধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তারা মহাসড়কের পাশে অটোরিক্সা চলাচলের জন্য পৃথক লেন তৈরি করে দেয়ার দাবি জানান।

পটিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা পটিয়া থেকে জানান, সোমবার দুপুর ২টায় চট্টগ্রামের পটিয়ায় সিএনজি শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বাসস্টেশন এলাকা থেকে মিছিলটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়ক হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রধান ফটক ঘুরে মিছিলটি পুনরায় বাসস্টেশন এলাকায় শেষ হয়। পরে পটিয়া অটোটেম্পো, ট্যাক্সি, সিএনজি, রাভি, টাটা এইচ, মাহিন্দ্র পরিবহন শ্রমিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি নুরুল আলমের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, অর্থ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সেকু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস ছবুর, সাইফুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক, আবুল হোসেন, হেলাল উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, মোস্তাক মিয়া, শাহজাহান, আলী আকবর, কামাল পারভেজ, আকতার, লাইনম্যান শহীদ, বাচা, লোকমান পাপ্পু, আমজাদ হোসেন, হাবিব, খালেক ও হারুন প্রমুখ। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনা বাতিলপুর্বক মহাসড়কে পুনরায় সিএনজি চালানোর দাবি জানান।

দিনাজপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি ॥ স্টাফ রিপোর্টার দিনাজপুর থেকে জানান, সোমবার দিনাজপুর জেলা ভটভটি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। দিনাজপুর জেলা ভটভটি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাকিল হাসান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরীর কাছে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় আকরাম হোসেন মুন্না, আইয়াজ নবী জুয়েল, আমজাদ হোসেন, সুজনসহ অন্য শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহাড়কে ভটভটি, ইজিবাইক চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্তে দিনাজপুরে প্রায় এক লাখ শ্রমিকের জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ