২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত তিন শিক্ষকসহ ৯ জন গ্রেফতার

প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত তিন শিক্ষকসহ ৯ জন গ্রেফতার
  • প্রশ্নপত্র উদ্ধার, ২ আগস্টের পলিটেকনিক ও ১২ আগস্টের এন্টারপ্রিনিউরশিপ পরীক্ষা স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে পৃথক অভিযানে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তিন শিক্ষকসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে প্রশ্নপত্র। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ইতোমধ্যেই গত ২ আগস্টের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পঞ্চম, সপ্তম এবং ষষ্ঠ পর্ব পরিপূরক পরীক্ষা-২০১৫ এর প্রোগ্রামিং ইন সি এবং আগামী ১২ আগস্ট এন্টারপ্রিনিউরশিপ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

রবিবার দৈনিক জনকণ্ঠে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে বিভাষ বাড়ৈয়ের লেখা একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের সূত্র ধরে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। গত ২ আগস্ট যশোরে অভিযান চালিয়ে ফেসবুক ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিতরণচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলোÑ সুমন আহম্মেদ, আঃ রহমান, আঃ রহমান ওরফে লিটন, এসএম তানভীর আলম ওরফে রিজভী, জনি রহমান ও আরাফাত হোসেন। তারা যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও যশোরে অবস্থিত একটি বেসরকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র।

তাদের কাছ থেকে ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পরিচালনা এবং প্রশ্নপত্র আদান-প্রদান করার কাজে ব্যবহৃত একটি সিম্ফনি ট্যাব, ছয়টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল সেট (যার মেমোরিতে প্রশ্নপত্র রয়েছে। উদ্ধারকৃত প্রশ্নপত্রগুলো গত ২ আগস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পঞ্চম ও সপ্তম পর্ব সমাপনী এবং ষষ্ঠ পর্ব পরিপূরক পরীক্ষা-২০১৫ এর প্রোগ্রামিং ইন সি এবং আগামী ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য এন্টারপ্রিনিউরশিপ পরীক্ষার ছিল। গ্রেফতারকৃতরা পরীক্ষার আগেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে ও ফেসবুক-ইনবক্স ও ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বন্ধুদের মধ্যে বিতরণ করত। চলমান প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তারা পেয়েছে।

অপর এক অভিযানে রবিবার রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে প্রশ্নপত্র জালিয়াতি প্রতারকচক্রের সদস্য তিন শিক্ষক গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলোÑ নাজমুল, হাসান ও কামরুল। তারা ডেমরার গোলাম মোস্তফা মডেল কলেজের শিক্ষক।

সোমবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্মকমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম, মাহবুবুর রহমান, মাশরুকুর রহমান খালেদ, সাজ্জাদুর রহমান ও মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গত ২ আগস্ট ও আগামী ১২ আগস্টের নির্দিষ্ট পরীক্ষা স্থগিত করেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই রাজধানীর ডেমরা থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তরপত্র জালিয়াতিচক্রের ছয় সদস্য গ্রেফতার হয়। এদের মধ্যে রায়হান চৌধুরী ওরফে ড্যান ব্রাউন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।

মনিরুল ইসলাম জানান, থানা থেকে প্রশ্নপত্র ডেমরার গোলাম মোস্তফা কলেজে যায়। যথারীতি প্রশ্নপত্র কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা শুরুর দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র খোলেন। এরপর প্রশ্নপত্র লিখে বা ফটোকপি করে বা মোবাইল ফোনে স্ক্যান করে তা ফেসবুকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ছাত্রদের কাছে সরবরাহ করা হয়।