২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

রাজধানী ঢাকা কোন জঙ্গল নয়, নয় অপরাধীদের অভয়ারণ্য। তবু এই মহানগরীতেই বাস করে কিছু মানুষরূপী জংলি, সড়ক দাপিয়ে বেড়ায় ভয়ঙ্কর অপরাধী! সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বিগত এক সপ্তাহের ঢাকার দিনপঞ্জির দিকে ফিরে তাকালে নিঃসংশয়ে বলা চলে যে শ্রাবণ দাপট বিস্তার করে চলেছে যথারীতি। তুমুল বৃষ্টি, সেই সঙ্গে জলজট, যানজট সবই নিত্যনৈমিত্তিক। একটি বিশেষ দিবসও এসে ফিরে গেছে সেদিন, বন্ধু দিবস, আর তার আবেগে সামান্য সময়ের জন্য হলেও আপ্লুত হয়েছে বন্ধুমন।

শ্রাবণধারায় স্মৃতিকাতরতা

এবং কর্মী মানুষ

বৃষ্টি কি আর হিসাব করে আসে! অফিসযাত্রী ভাবেন, তিনি কর্মক্ষেত্রে পৌঁছানোর পর কেন বর্ষা আসে না? তাকে নাজেহাল করার জন্য ঠিক অফিস টাইমেই ঝরঝর ঝরতে হবে! আর বাইরে যাওয়ার যার তাড়া নেই তার জন্য সকাল কী আর সন্ধ্যা কী। একসময় বৃষ্টি হলেই হলো। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবার বৃষ্টি হয়েছে যে ক’টা দিন তার ভেতর রয়েছে শুক্র ও শনিবারÑ বহু ঢাকাবাসীরই ছুটির দুটো দিন। যিনি ঠিক সরকারী চাকুরে নন তারও কিন্তু ওই দুটো দিন কিছুটা ফুরসত আছে, অন্তত একটা দিন তো বটেই। তাই রাজধানীবাসী ব্যস্ত মানুষগুলোরও কিছুটা সময় হয়েছে বিড়ম্বনা থেকে গা বাঁচিয়ে বৃষ্টিতে মন ভেজানোর। বৃষ্টিবিলাসীতা কম-বেশি রয়েছে প্রায় সব বাঙালীরইÑ এমন কথা বললে কি বড় ভুল হবে? তা না হলে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষা নিয়ে এত গান লিখবেন কেন! বর্ষার দিনে বৃষ্টির গান মানুষকে উদাস করে। সে ফিরে যায় শৈশবের দিনগুলোয়। আমাদের এক বন্ধু শুক্রবার তুমুল বর্ষার ভেতর যে কথা কয়টি লিখে মনের অনুভূতি বন্ধুদের সঙ্গে ফেসবুকে শেয়ার করলেন তা এখানে তুলে দিচ্ছি। ভাবছিলাম ঠিক এমন কথা তো আমারও। পাঠক, পড়ে দেখুন এমন অনুভূতি আপনারও কিনা।

পেশায় চিকিৎসক আমাদের নারীবন্ধুটি লিখেছেন : ‘আকাশটা মনে হয় ফুটো হয়ে গেছে! অথবা জমানো জলের ধারা ঝরছে অবিরত। এমন বৃষ্টির দিনে কেমন জানি সবকিছু। মানুষ তো আর আকাশ হতে পারে না। ছেলেবেলায় এমন ঝরো ঝরো দিনে আম্মার খিচুড়িীর স্বাদ মনে পড়ে যায়। আমাদের বাসাটা পুরনো আমলের ছিল। কড়ি বর্গার ছাদ। বিশাল বিশাল বিম। শুনেছি কোন প্রতাপশালীর বাড়ি ওটা। দাদা কিনে নিয়েছিলেন। বাসাটার বিশালত্ব এখনও মনে পড়ে। ছোটবেলায় ওই বাসাটি আরও বিশাল মনে হতো! একটু বৃষ্টি হলেই ছাদের কান্না শুরু হতো। আজ এখানে, তো কাল ওখানে পানি পড়ছে। ঘটি বাটি নিয়ে আম্মা-আব্বা গলদঘর্ম। বিছানাপত্র ভিজে যাচ্ছে, কি অবস্থা! তারপর আবার সাপের ভয়! আমরা তিন ভাই-বোন কাঁথা মুড়ি দিয়ে গুটলি পাকিয়ে, বৃষ্টির স্বাদে, সঙ্গে ঝালমুড়ি। আহা অমৃত মনে হতো! মফস্বল শহরে বড় হয়েছি। বৃষ্টির দমক কমে এলে আব্বা বিপুল উৎসাহ নিয়ে ছাদে যেয়ে পানি বন্ধের বৃথা চেষ্টা করতেন। এবার আর পানি পড়বে না, আব্বার বিশ্বাসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ছাদ আকাশকেই অনুকরণ করে আবারও কাঁদতে শুরু করত। আমরা বহুকাল আগেই সেই দিনগুলো ফেলে এসেছি। তবু বৃষ্টির দিনে মনের জমানো মেঘ কাঁদায় অবিরত। সেই বাসাটায় মন চলে যায় অজান্তে বার বার। ভাইয়া, ছোট দুই ভাই-বোন- আমি, আব্বা-আম্মা আর আমাদের বাসাÑ এখনও বাসা ওটাই যেখানে আমরা, আমাদের সঙ্গে ভালবাসা। বৃষ্টির ছাঁট লাগছে আর আমি হারিয়ে যাচ্ছি ওই বাতাসে, মন ছুটেছে সেথায়, আমার ছেলেবেলায়। ব্যস্ততম জীবনের বষ্টির স্বাদে নোনাজল লবণের পলি গড়ে। যান্ত্রিকতা বৃষ্টিকে ছাড়িয়ে সৌন্দর্যহানি করে। তবুও বর্ষণ ভেতর বাইরে। বৃষ্টির সঙ্গে আনমনে নিবিড় সখ্য এই ভরা বাদলে!’

এবার রোমান্টিকতা ও স্মৃতিকাতরতা বাদ দিয়ে বাস্তবতায় ফিরি। ঢাকার বড় রাস্তাগুলো এবার বৃষ্টিতে থৈ থৈ পরিস্থিতি। রবিবারের জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কাওরান বাজারের সড়কের একটি ছবি ছাপা হয়েছে। জলমগ্ন সড়কে মোটরগাড়ির সারি। পানিতে ঢেউ উঠছে যেন। রাজধানীর প্রধান একটি সড়কের এমন জলমগ্ন হয়ে পড়ার কথা নয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকবেই। এ তো রীতিমতো জলাবদ্ধতা! এই একটি ছবির দিকে তাকালেই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে ঢাকা মহানগরী সুস্থ নেই, তার স্মার্টনেস ক্ষয়ে গেছে। শ্রাবণে সে নাকাল। পরদিনও প্রথম পাতায় শান্তিনগরের রাস্তায় রিক্সারোহিণীর বিপর্যস্ত হওয়ার চিত্র। বৃষ্টিতে কর্মজীবী মানুষের যে কী দুরবস্থা তা লিখে বোঝানো যাবে না। বিশেষ করে পথচারীদের পাদুকা ও পাৎলুন/ শাড়ি-সালোয়ারের করুণ দশা। পাবলিক বাসের কথা বলা দরকার। বহু বাস-মিনিবাসের ছাদ ফুটো, এক বা একাধিক জানালা হাওয়া, দু’-চারটে আংশিক ভাঙ্গা। তুমুল বৃষ্টির মধ্যে বাস-মিসিনবাসের ভেতরে থেকেও রক্ষে নেই। জামাকাপড় ভিজবে।

রাস্তার ওপর ডাস্টবিন বা বর্জ্য রাখার কন্টেনার নিয়ে আর কত লেখা যায়। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে কমপক্ষে দুই জায়গায় দেখলাম রাস্তার ওপর পনেরো-কুড়ি ফুট জায়গায় বর্জ্য ছড়ানো-ছিটানো। বৃষ্টির ভেতর তা আরও কদাকার, দুর্গন্ধে তিষ্টানো দায়। মেয়রদ্বয়ের কাছে আবেদন করি, প্লিজ দ্রুত এই নরকদশা থেকে মুক্তি দিন।

উত্তরার দুই কর্মজীবী নারী

সারাদেশের কর্মসন্ধানী নারী-পুরুষের দৃঢ় বিশ্বাস ঢাকায় গেলে একটা না একটা কাজ জুটে যাবে। বিশেষ করে গায়ে-গতরে খেটে খাওয়া মানুষের বেলায় এই ধারণা অনেকাংশে সত্যও বটে। কিন্তু কর্মজীবী নারীদের জন্য ঢাকা কতখানি নিরাপদ? ঢাকার বর্ধিতাংশ উত্তরা ক্রমান্বয়ে বড় শহর হয়ে উঠেছে। কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসা নারীদের বড় একটি অংশ এখানে কাজ খুঁজে নিচ্ছে। গত সপ্তাহে উত্তরায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক তরুণী। এসএসসি পাস করে দারিদ্র্যের কারণে আর পড়া হয়নি মেয়েটির। ঢাকায় এসে চাকরি খুঁজে পেয়েছিল সে। উত্তরায় একটি বিপণি বিতানের বিক্রয়কর্মী সেই তরুণীর ওপর বর্ববরদের আক্রমণের সংবাদটি এখন দেশব্যাপী বহুলোকের জানা। ঢাকায় নতুন আসা মেয়েদের জন্য বিষয়টি আতঙ্কজনক। আগেও বিকৃত মনের পুরুষদের ধর্ষণের শিকার হয়েছে অল্পবয়সী মেয়েরা। তবে ‘গণধর্ষণ’ বিষয়টি ঢাকায় শোনা যায়নি আগে। ঢাকা আরও একটি কলঙ্কজনক অভিজ্ঞতার প্রত্যক্ষদর্শী হলো। কুড়ি বছর আগে ধর্ষণের কোন ঘটনা ঘটলে ধর্ষণের শিকার নারীটির নাম-পরিচয় প্রকাশ করে রগরগে কেচ্ছা ফাঁদা হতো পত্রপত্রিকায়। এদিক দিয়ে সমাজ এগিয়েছে বটে। কিন্তু ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ কমাতে পারেনি। বরং তা অনেকাংশে বেড়েছে। এখন সচেতন ঢাকাবাসীর কর্তব্য হয়ে উঠেছে ধর্ষণ প্রতিরোধে কার্যকর কিছু একটা করা। চোখ ও মুখ বন্ধ করে থাকলে চলবে না।

তিরিশোত্তর এক কর্মজীবী নারীর কথা বলছি। উত্তরারই একটি রাস্তার পাশের ড্রেনের ওপরে বসার বন্দোবস্ত করে গত সাত বছর যাবত ফ্ল্যাক্সিলোডের কাজ করছেন। এই বর্ষার দিনেও তাকে দেখি রাত দশটার পরেও একাকী বসে আছেন গ্রাহকের আশায়। দুটো ছেলেমেয়ে তার, বিনা বেতনের স্কুলে না দিয়ে একটি ভাল স্কুলেই তাদের দিয়েছেন। স্বামী গাড়ি চালান। এই শহরের হালহকিকত কিছুটা হলেও বুঝে ফেলেছেন। আর ওই তরুণীটি অল্প কিছুকাল আগে এসেছে ঢাকায়। বয়সও তার অল্প। যদিও মেয়েটির মনোবল দৃঢ় বলেই সে থানায় গিয়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ওই রাতের মধ্যেই তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং আশা করা যায় ধর্ষকদের এবার নিশ্চিতভাবেই শাস্তি দেয়া যাবে। কথা হলো একটি সমাজে নারী-পুরুষ পাশাপাশি এবং একই সঙ্গে যদি কাজ না করতে পারে তবে সে সমাজের সত্যিকারের উন্নতি হবে না। মহানগরী কবে হয়ে উঠবে নারীবান্ধব?

ঝুলছে জঞ্জাল তার

স্কুল থেকে ফিরছিল এক কিশোরী, হাঁটছিল ফুটপাথ দিয়েই। হঠাৎ কিছু একটায় পা বেঁধে সে পড়ে গেল রাস্তার ওপর। এক ফলবিক্রেতা মহিলা ছুটে এসে মেয়েটিকে ধরে ওঠালেন। না, বড় ধরনের ব্যথা পায়নি সে। তবে তার চোখেমুখে স্পষ্টত লজ্জা পাওয়ার অভিব্যক্তি। আসলে লজ্জা নয়, তার ক্ষুব্ধ হওয়ারই কথা ছিল। ফুটপাথের ওপর প্যাঁচানো কিছু তার পড়ে ছিল, যেসব তারের অপর অংশ দূরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। সেই তারের একটির গেরোয় পা জড়িয়ে যাওয়ায় মেয়েটি ভারসাম্য রাখতে না পেরে পড়ে যায়। মানুষ মাথা নিচু করে পায়ের দিকে তাকিয়ে পথ চলবে, নাকি সামনে ও ডানে-বাঁয়ে তাকাবে? ফোন, কেবল টিভি ও ইন্টারনেটের দরকারি এবং অদরকারি তারের জঞ্জাল ঝুলে থাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গেই। এসব ঝুলন্ত তার দেখতেও বিশ্রি। কোন কোন জায়গায় একসঙ্গে কয়েক ডজন করে তার স্তূপ হয়ে থাকে।

দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়েও রাজধানীর ঝুলন্ত তার অপসারণ করতে পারছে না বিদ্যুত বিভাগ। এ নিয়ে কম অভিযোগ হয়নি। কিছু এলাকায় তা অপসারণ করা হলেও অল্প দিনের মধ্যে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় পরিস্থিতি। মূলত কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের বেপরোয়া আচরণের কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে গণমাধ্যমে রিপোর্ট এসেছে। বিদ্যুত বিতরণ অবকাঠামো থেকে তার অপসারণে বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে কমিটি গঠন করা হয় এক বছর আগে। গত সপ্তাহে ওই কমিটির কার্যক্রম তদারক করতে আরও একটি কমিটি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর সৌন্দর্যবর্ধন ও বিদ্যুত বিতরণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুলন্ত তার মাটির নিচ দিয়ে টানার ব্যবস্থা করা হলেও সে লাইন ব্যবহার করছেন না কেবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা। সরকার ২০১০ সালে রাজধানীর সব ঝুলন্ত তার ও বিদ্যুত বিতরণ লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়। কিছু কিছু এলাকায় তার অপসারণ করা হলেও বেশিরভাগই হয়নি। এ সময়ের মধ্যে বিতরণ সংস্থার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বার বার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। বিদ্যুত বিভাগ বলছে, বিটিআরসি, বিটিসিএল, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি), কেবল টিভি অপারেটর (কোয়াব) এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বৈঠক করলে ঝুলন্ত তার অপসারণে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। কিন্তু মাঠে ঝুলন্ত তার অপসারণ করতে গেলেই কোন না কোন পক্ষ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরে এসব কার্যক্রম ভেস্তে যায়। না, এভাবে তো চলতে পারে না। সমাধানের একটা পথ তো খুঁজে বের করতে হবে।

ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার

রাজধানীর ৫১ স্পটে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে মানুষÑ এ হিসাব বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের। মনে পড়ে মাস ছয়েক আগে প্রধান প্রধান ফুটওভারব্রিজের নিচে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের জরিমানা করা হলেও আদালত উঠে যাওয়ার পরদিন থেকেই আবারও চলছে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার। রাস্তা পার হতে গিয়ে মানুষ গাড়িচাপা পড়ছে। পুলিশের হিসাব মতে, প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মানুষ রাজধানীতে গাড়িচাপায় নিহত হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে। পুলিশের হিসাবে ফার্মগেট, সার্ক ফোয়ারা ও বাংলামোটরসহ ব্যস্ত মোড়গুলোতে পথচারীরা সঙ্কেত না মেনে যেখানে সেখানে দল বেঁধে রাস্তা পার হচ্ছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি রাস্তায় যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।

কিন্তু এর ভিন্নমতও রয়েছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে হেঁটে যাতায়াত করেন ৩৭ ভাগ মানুষ। হাঁটার নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে পথচারীর সংখ্যাই বেশি। অপর্যাপ্ত, নিম্নমানের হাঁটার অনুপযোগী ফুটপাথ এবং রাস্তা পারাপারের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে এমনটা ঘটছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিংও নেই।

দুই সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৯১টি ওভারব্রিজ রয়েছে। ৫৩টি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এবং ২৮টি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের। বাকি ১০টি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের। কুড়িল বিশ্বরোডে উড়াল সড়কসংলগ্ন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি ওভারব্রিজ আছে। বেশিরভাগ ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস পথচারীবান্ধব নয়। তিনটি আন্ডারপাসের দুটি ব্যবহার অনুপযোগী। পথচারীর ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার না করার কারণগুলো খতিয়ে দেখা দরকার।

কাঁঠালভর্তি রেলগাড়ি

গ্রীষ্মকালেরই ফল কাঁঠাল। যদিও বর্ষাকাল পেরিয়ে গেলেও মহাপুষ্টিকর এই জাতীয় ফলটির ফলন শেষ হয়ে যায় না। সেদিন বনানী ওভারপাস দিয়ে চলছিল আমাদের গাড়ি, নিচে সব যানবাহন থেমে গিয়েছিল ক্রসিংয়ে, আর রাজকীয় ভঙ্গিতে একটি রেলগাড়ি হুইসেল বাজাতে বাজাতে রাজধানীতে প্রবেশ করছিল। নিচে তাকিয়ে দেখি রেলগাড়ির কয়েকটি কম্পার্টমেন্ট বোঝাই কাঁঠালে। তার মানে অন্যান্য প্রবেশদ্বার দিয়েও ঢাকায় আসছে সুমিষ্ট ফলের চালান। এবার আমের ফলন ছিল প্রচুর। এখন দেখছি কাঁঠালও পিছিয়ে নেই। ঢাকার মানুষের এই এক ভাগ্য বটে। গ্রামে উৎপাদিত সব শাক-সবজি, ফলফলারিসহ নানা খাদ্য এই মহানগরে ঘরে বসেই পাওয়া যায়। অবশ্য দামের প্রসঙ্গে আর গেলাম না।

৩ আগস্ট ২০১৫

সধৎঁভৎধরযধহ৭১@মসধরষ.পড়স