২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়ায় বিমান হামলার অনুমতি

  • প্রধানত আইএস বিরোধী লড়াইয়ে নব প্রশিক্ষিত বাহিনীকে মার্কিন বিমান হামলার ছত্রছায়া দেয়া হবে

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরীয় সরকারী বাহিনী কিংবা অন্যান্য গোষ্ঠীর দ্বারা আক্রান্ত হলে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি নতুন যোদ্ধা বাহিনীকে রক্ষার জন্য বিমান হামলা অনুমোদন করেছেন। এতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িত হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে গেল। যুক্তরাস্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সিরিয়ার রণাঙ্গনে তার স্বল্পসংখ্যক মিত্রের সমর্থনে মার্কিন সামরিক বাহিনী কী ভূমিকা পালন করতে পারে সে ব্যাপারে কয়েক মাসব্যাপী বিতর্কের অবসান ঘটেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, পেন্টাগন সমর্থিত বাহিনীকে রক্ষার উদ্যোগ আসাদ সরকারের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রথম খোলাখুলি সংঘাতের পথ খুলে দেবে। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্মাল ও ইয়াহু নিউজের।

নতুন সিদ্ধান্তে পেন্টাগনকে আসাদ সরকারের যে কোন আক্রমণ থেকে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীকে রক্ষায় বিমান হামলার অনুমতি দেয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা অন্তত অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যক্ষ সংঘাতের সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখছেন। নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছেÑ আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে নয় এবং তাদের সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে মোতায়েন করা হবে না। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মনে করেন আসাদ সরকার নতুন বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করবে না। সিরিয়ার বিশৃঙ্খল গৃহযুদ্ধে আইএস মার্কিন নিযুক্ত বাহিনীর অনেক হুমকির মধ্যে একটি। গত শুক্রবার উত্তর সিরিয়ায় মোতায়েনকৃত যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষিত বাহিনীর প্রথম দলটি অন্য চরমপন্থীদের গোলাগুলির হামলার শিকার হয়। ওই ঘটনা তাদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিমান হামলা ডেকে আনে। হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র আলিস্টেয়ার ব্যাস্কি বলেন, একমাত্র মার্কিন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীকে ‘তাদের রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণের সহায়তাসহ’ ব্যাপকভিত্তিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং তিনি প্রমাণ হিসেবে শুক্রবারের মার্কিন বিমান হামলার উল্লেখ করেন। তুরস্ক সিরিয়া সীমান্ত বরাবর এলাকা আইএস জঙ্গীমুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট ও তুরস্ক যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয় আলোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত আসল। তুর্কী কর্মকর্তারা সেখানে মিত্র স্থলবাহিনীকে রক্ষায় আরও গুরুত্ব দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ওইসব অঞ্চল এবং উত্তর সিরিয়ার অন্যান্য যে সব এলাকায় আইএস ভূখ- নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সেখানে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া বিদ্রোহীদের পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

পেন্টাগনে গত বছর তাদের শুরু করা নতুন প্রশিক্ষণদান ও অস্ত্রসজ্জিত করতে বিদ্রোহীদের নিয়োগ ও যাচাই করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্চে।

সম্প্রতি এর কারণ হলো যুক্তরাাষ্ট্র তাদের আসাদ সরকারের পরিবর্তে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বলছে। অধিকাংশ বিদ্রোহীর কাছে সরকার হলো তাদের প্রধান শত্রু। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, ৬০ জনেরও কম বিদ্রোহী পেন্টাগনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচী শেষ করেছে এবং এ পর্যন্ত নতুন করে রণাঙ্গনে প্রবেশ করেছে। এতে তাদের প্রচেষ্টায় সাফল্যের ব্যাপারে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ্যাশ কার্টার তাদের নিয়োগের সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দিতে প্রশাসনের রণকৌশলে এই প্রচেষ্টা অপরিহার্য। কার্টার বলেন, কেবল মার্কিন বিমান হামলার শক্তি যথেষ্ট নয় এবং আইএসকে হটিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওইসব অঞ্চলের দখল নেয়া ও তা ধরে রাখার জন্য স্থানীয় সিরীয় বাহিনীর সাহায্য প্রয়োজন। ওবামা লড়াইয়ে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আত্মরক্ষামূলক বিমান হামলার ছত্রছায়া প্রদানের প্রতিশ্রুতি সম্ভাব্য রিক্রুটদের এ বিষয়ে রাজি করতে সাহায্য করবে যে, পেন্টাগন আসাদ সরকারের হামলা থেকে রক্ষাসহ তাদের সুরক্ষাদানের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়।

রিপাবলিকান দলের এ্যারিজোনার সিনেটর জন ম্যাককেইন হোয়াইট হাউসের প্রশিক্ষণদান ও অস্ত্রসজ্জিতকরণ কর্মসূচীর তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই এবং আসাদ সরকারকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার উভয় লক্ষ্যে বিদ্রোহীদের সাহায্য করার জন্য আরও প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। পেন্টাগনকে শুধু প্রশিক্ষিত বাহিনীকে সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আক্রমণাত্মক বিমান হামলা চালানোর অনুমোদন দেয়া হবে। পেন্টাগন সমর্থিত বাহিনীকে সুুস্পষ্টভাবে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে হামলা না চালানোর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তারা একথা বলেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী গত মে মাসে এক বছরে ৫ হাজার ৪০০ পর্যন্ত যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণদানের কর্মসূচী শুরু করে। চরমপন্থীদের মোকাবেলায় স্থানীয় শরিকদের সম্পৃক্ত করার এবং মার্কিন বাহিনীকে রণাঙ্গন থেকে দূরে রাখার ওবামার এই রণকৌশলকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ