২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা শতাধিক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা ও মনিপুর রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বন্যায় জম্মু ও কাশ্মীরের লেহর একটি গ্রাম ভেসে গেছে। গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫০ জন মারা গেছে। শনিবার রাত থেকে রবিবার বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাত, দেয়াল চাপা পড়ে ও বন্যার পানিতে ডুবে ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। খবর বিবিসি, এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা ও আজকালের।

পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি জেলার মধ্যে ১২টি জেলা এবার বন্যাকবলিত। রাজ্যের দুর্গাপুর ব্যারাজ, মাইথন ব্যারাজসহ পাঞ্চেত, তিলপাড়া, ম্যাসাঞ্জোর, বৈধবা ও দেউচা ব্যারাজ থেকে পানি ছাড়ায় এই বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের ৭২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবেলা দফতর জানিয়েছে, এই বন্যায় ১২টি জেলার ৩৬ লাখ ৯০ হাজার ৬২৭ জন মানুষ, ৪৭ লাখ ২৬ হাজার ৪৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩৮ হাজার ৪৬টি ঘরবাড়ি ভেঙেছে। পাঁচ হাজার ৬৭২টি গবাদিপশু মারা গেছে। পুরো রাজ্যে বজ্রপাতে মারা গেছেন ২২ জন। রাজধানী কলকাতার অবস্থাও শোচনীয়। কলকাতা পৌরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ড জলমগ্ন। কলকাতার অনেক সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন পরিষেবাও। রাজ্যের এক হাজার ৫৩৭টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় দুই লাখ ১৪ হাজার ৩০৬ জন।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলের সহায়তা চেয়েছে রাজ্য সরকার। বন্যার কারণে ছিটমহল সফর বাতিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। গঠন করা হয়েছে ত্রাণ কমিটি। তিনি তার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (ডিভিসি) ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে তিনি আবারও চিঠি লিখবেন। বলবেন, শুধু ব্যবসা করলে হবে না। সংস্কারও করতে হবে।