২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিয়ের জন্য বিক্রি হচ্ছে রোহিঙ্গা নারী

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা ২২ বছরের তরুণী শাহিদা ইউনুস। দেশটির অমুসলিম দাঙ্গাকারীরা তার বাড়ি পুড়িয়ে দিলে সে নিরাপদে মালয়েশিয়া যেতে চলতি বছর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যায়। তবে মালয়েশিয়া যেতে মানবপাচারকারীদের এক হাজার ২৬০ ডলার দেয়ার সামর্থ্য তার পরিবারের ছিল না। তাই থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গলের একটি ক্যাম্পে দুই মাস বন্দী থাকতে হয় তাকে।

এরপর শাহিদা সেখানে তার মুক্তির বিনিময়ে একটি প্রস্তাব পায়। মানবপাচারকারীরা তাকে জানায়, এক অপরিচিত ব্যক্তি তার মুক্তির জন্য অর্থ দেবে। তবে শাহিদাকে ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করতে রাজি হতে হয়। সে জানায়, তখন আমাকে আমার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেয়া হয়। তারা আমাকে জানান, আমি যদি বিয়েতে রাজি হই, তা পরিবারের সবার জন্য ভাল হবে। তার মতো মিয়ানমারের শত শত রোহিঙ্গা নারী বিয়ের জন্য নিজেদের বিক্রি করে দিচ্ছে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা রোহিঙ্গা পুরুষদের কাছে। বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেতে অথবা মানবপাচারকারীদের হাতে খারাপ অবস্থায় থাকার চেয়ে এই ধরনের বিয়েতে রাজি হচ্ছে অনেক রোহিঙ্গা নারী। এদের মধ্যে কিশোরীরাও রয়েছে। এই সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে কর্মকর্তারা ও মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শত শত রোহিঙ্গা নারী প্রতিবছর এভাবে বিয়ে করছে এবং এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া সমুদ্রপথে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অপহরণ ও নারীর অনুমতি ছাড়াই বিয়ের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভাব্য স্বামীরা এই নারীদের মুক্তির জন্য অর্থ পরিশোধ করছে।

ব্যাংকক ভিত্তিক রোহিঙ্গা শরণার্থী পর্যবেক্ষণ বিষয়ক মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটসের নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, ২০১২ সাল থেকে পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে হাজার হাজার না হলেও শত শত নারী ও মেয়েকে জোর করে বা বিক্রির মাধ্যামে বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছে। কিছু পরিবারে এটিকে অত্যাবশ্যক এবং বেঁচে থাকার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাচারকারী চক্র এটিকে লাভজনক ব্যবসা হিসেবে দেখছে। বিক্রি বা জোর করে বিয়ে শেষ পর্যন্ত নারী ও মেয়েদের জন্য অত্যন্ত খারাপ ফল বয়ে আনে এবং এটিই বড় সমস্যা। শাহিদা মালয়েশিয়ার পেনাং দ্বীপে একটি বাড়িতে তার ৩৮ বছর বয়সী স্বামীসহ আরও ১৭ রোহিঙ্গার সঙ্গে বসবাস করছে। শাহিদা জানায়, বিয়ের জন্য আমি রাজি হয়ে যাই। কারণ পাচারকারীদের হাত থেকে মুক্তির জন্য আমার অর্থের প্রয়োজন ছিল। এছাড়া আমরা সবসময় ধর্ষণের শিকার হওয়ার ভয়ে থাকতাম। তাই আমাদের খেয়াল রাখবে এমন রোহিঙ্গা পুরুষদের বিয়ে করাই আমাদের জন্য ভাল মনে হয়েছে। কুয়ালালামপুরে এক রোহিঙ্গা শরণার্থী শরিফা শাকিরা জানান, বন্দী অনেক নারীদের পাচারকারীরা ভয় দেখায় যে, যদি তারা দ্রুত স্বামী খুঁজে না পায় তাহলে তারা তাদের থাইল্যান্ড বা ভারতে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেবে। -নিউইয়র্ক টাইমস