২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কমছে পানি বাড়ছে ভাঙ্গন

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে সোমবার ২৪ ঘর বিলীন হয়েছে। এছাড়া বাগেরহাটে ১০ গ্রাম পানিবন্দী, মানিকগঞ্জে পাঁচ শতাধিক বাড়ি নদীতে বিলীন এবং বরগুনায় বাঁধ ভেঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন। খবর স্টাফ রিপোর্টার, নিজস্ব সংবাদদাতা ও সংবাদদাতাদের।

বান্দরবান ॥ শহরের মধ্যমপাড়া এলাকার সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী ২৪টি ঘর সোমবার সকালে সাঙ্গু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে, ফাটল দেখা দিয়ে অনেক ঘরে। স্থানীয়রা জানায়, বন্যার পর সাঙ্গু নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পানির টানে ঘরগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যায়, অন্যদিকে অন্তত ১০ ঘরে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে শেষ আশ্রয় হারিয়ে স্থানীয়রা খোলা আকাশের নিচে দিন পার করছে। মধ্যমপাড়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত হালিমা আক্তার বলেন, ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, শহরের আদিবাসী অধ্যুষিত মধ্যমপাড়ার সাঙ্গু নদীর পাড়ে সরকারী জায়গা দখল করে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষের বসবাস। দেড় শতাধিক পরিবার নদীর পানিপ্রবাহের জায়গায় খুঁটির উপর ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। আবার কেউ কেউ অবৈধ ঘর উঠিয়ে ভাড়া দিয়ে দিব্যি ব্যবসা করছে বলে জানা যায়। আরও দেখা যায়, এসব ঘরের অনেক ঘর হেলে গেছে, আবার কিছু ঘর নতুন মাটি ভরাট করে তৈরি করার ফলে ফ্লোরে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র থাকলেও ঘর ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কায় কেউ তা উদ্ধার করতে পারছে না। সব হারিয়ে সবাই অসহায়ের মতো অপলক দৃষ্টিতে নিজের শেষ সম্বলের দিকে তাকিয়ে আছে।

বাগেরহাট ॥ ফকিরহাট ও চিতলমারীতে ১০ গ্রাম পানিতে তলিয়ে গিয়ে মাছের ঘের ও ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে চিত্রা নদীর একাধিক স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এসব গ্রামের মানুষ পানিবন্দী মানবেতর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। চিত্রা নদীর দু’পাশে ফকিরহাটের কলকলিয়া, পুটিয়া, গুড়গুড়িয়া, গোয়াবাড়ী, চিতলমারী উপজেলার ডুমুরিয়া, খিলিগাতী, রায়গ্রাম, করাতদিয়া এবং বাগেরহাট সদর উপজেলার উজলপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। গ্রামগুলোর মধ্যদিয়ে চিত্রা নদী প্রবাহিত হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড দু’পাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু প্রবল বর্ষণ ও চিত্রা নদীর জোয়ারের পানি মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামগুলোর অধিকাংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত দু’পাশের বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে ও ভেঙ্গে গেছে। গ্রামগুলো পানিতে ভাসছে। গবাদিপশু ও মানুষ একত্রে বসবাস করছে। স্থানীয়রা জানান, জোয়ারের পানি এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যে, মৎস্য ঘের, ফসলী জমি, ঘরবাড়ি, আঙ্গিনা সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকে রান্নার অভাবে শুকনা খাবার খাচ্ছেন। এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ডুবে একাকার হয়ে পড়ায় গবাদিপশুর তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে শুভদিয়া ইউনিয়নের ঘনশ্যমপুর, কচুয়া, বড় শুভদিয়া, ছোট শুভদিয়া, চুরাশী, তেকাটিয়া, পিলজংগ ইউনিয়নের পিলজংগ, শ্যামবাগাত, টাউন নওয়াপাড়া, বালিয়াডাঙ্গা, বাহিরদিয়া ইউনিয়নের ছোট বাহিরদিয়া, ফকিরহাট সদরের আটটাকী, পাগলা, সাতসাইয়া, নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের নলধা মৌভোগ, দোহাজারী, লখপুর ইউনিয়নের ভবনা জাড়িয়া, ভটেখামার এলাকার বেশকিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জ ॥ গত কয়েক দিনের টানা ও থেমে থেমে বৃষ্টি এবং যমুনা-ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, চরকাটারী, জিয়নপুর, খলশী ও চকমিরপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনের ফলে ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়িসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দেবে গেছে পাকা রাস্তা, হুমকির মুখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও ব্রিজ-কালভার্ট।

ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বাড়িঘর, জিনিসপত্র নিয়ে যমুনা নদীর চরসহ বিভিন্ন স্থানে খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছে। কেউ কেউ অন্যের জায়গায় অথবা ভাড়া করা জায়গায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে। গত এক মাসে যমুনার ভাঙ্গনে দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা, বাঘুটিয়া, চরকাটারী, জিয়নপুর, খলশী, চকমিরপুরসহ ছয় ইউনিয়নের ১৬ গ্রামের প্রায় ৫শ’ পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি, বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেই সঙ্গে বাঁচামারা-দৌলতপুর সড়কের বৈন্যায় পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পাথরঘাটা, বরগুনা ॥ ঘূর্ণিঝড় কোমেনের পর মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পাথরঘাটার তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া বর্তমান ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে চাষীরা। জোয়ারের পানি ঢুকে উপজেলার কয়েক শ’ একর ফসলী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিণঘাটার বাহিরচরের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় শতাধিক পরিবারের লোকজন আশ্রয় নিয়েছে বেড়িবাঁধের উপরে। জোয়ারের পানিতে সবচেয়ে সদর ইউনিয়নের পদ্মা ও রুহিতা গ্রামের রিংবাঁধ ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।