২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছিটবাসীর নতুন বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছেন দীপ্তিমান

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ ছিটবাসীর মুক্তির আন্দোলনে নয়, নতুন মানচিত্রের বাংলাদেশ ঘুরতে এসেছি। সদ্য স্বাধীন ভূখ-ের লাল-সবুজের পতাকা হাতের মানুষগুলোর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছি। রবিবার রাতে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির (বিলুপ্ত) সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ছিটমহল বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রণী ভূমিকার কথা দুদেশের ছিটমহলবাসী কোনদিন ভুলবে না। কোন রক্তপাত ছাড়াই দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বড় একটি সমস্যার সমাধান হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে এসেছি। তিনি বলেন, আমি ভারতের নাগরিক হলেও আমার প্রয়াত বাবা স্বর্গীয় দীপক সেনগুপ্তের হাত ধরেই ছিটমহলের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হই। ৭৪-এ ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির পর বঙ্গবন্ধুর ছিটমহলের মুক্তির যে স্বপ্ন ছিল, আমার প্রয়াত বাবারও স্বপ্ন ছিল এই নাগরিকহীন মানুষগুলোর একটি দেশ হোক, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরে পাক। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর যখন ছিটমহলের মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছিল ঠিক সেই সময় ভারতের মতো বিশাল একটি দেশের ছোট্ট শহর দিনহাটা থেকেই আমার বাবা সাবেক বিধায়ক দীপক সেনগুপ্ত শুরু করেন ছিটবাসীদের মুক্তির আন্দোলন। গঠন করেন ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি। এই কমিটির ব্যানারেই ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির বাস্তবায়ন ঘটাতে ভারত ও বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহলে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। কিন্তু আমার বাবা দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণে মোটা মাস মাইনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নাগরিকত্বহীন ছিটমহলবাসীদের পাশে এসে দাঁড়াই এবং দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে তাদের মুক্তির সংগ্রামে যুক্ত হই। তিনি আরও বলেন, হতাশ ছিটবাসীদের একটি কথাই বার বার বোঝাতাম, দেখবেন রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনে একদিন ছিটমহল সমস্যার সমাধান করবে। হয়ত সময়টা বেশি লেগেছে। কিন্তু অবশেষে জয়তো ছিটবাসীদেরই হলো। তারা পেল একটি দেশ, নাগরিক পরিচয়।