১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে পথে বসিয়েছে শিবির কর্মী

নিজস্ব সংবাদদাতা, নওগাঁ, ৩ আগস্ট ॥ গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে এক মুক্তিযোদ্ধার এক কোটি ৫৫ লাখ টাকার সম্পদ মাত্র ৪৩ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, মহাদেবপুর শাখার ম্যানেজার শিবিরকর্মী রবিউল আলম। এমন অভিযোগ করেছেন, উপজেলার খোর্দ্দনারায়ণপুর গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব) আব্দুল জব্বারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।

অভিযোগে জানা গেছে, ২০০২ সালে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স কল্পনা চালকল পরিচালনার জন্য উপজেলা সদরে অবস্থিত আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক মহাদেবপুর শাখায় তার উপজেলা সদরের বাস স্ট্যান্ড এলাকার পাকা বাসা, একটি চালকল এবং ফসলি জমি বন্ধক রেখে ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬৩ টাকা সিসি ঋণ গ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বারের মৃত্যুর পর আইনগতভাবে তার স্ত্রী ও সন্তানদের ঋণ পরিশোধের সুযোগ না দিয়ে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক মহাদেবপুর শাখার ম্যানেজার শিবিরকর্মী রবিউল আলম গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত নাম সর্বস্ব পত্রিকায় গত ৪ জুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গোপনে ওইসব বন্ধক সম্পত্তি মাত্র ৪৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। ওই ম্যানেজার স্থানীয় প্রভাবশালী চাউলকল মালিক ওসমান গণির নামে গত ২৯ জুলাই মহাদেবপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রি করে দেন বলে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বারের পুত্র জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, সেই পত্রিকাটি মহাদেবপুরে আসেই না। ফলে তারাসহ স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতেই পারেননি। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা চাউল কল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজার রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বলে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বারের সিসি ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য সম্প্রতি সাড়ে চার লাখ টাকা ওই ব্যাংকে জমা দেয়া হয়। এরপরেও যথাযথভাবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শিবিরকর্মী ব্যাংক ম্যানেজার মুক্তিযোদ্ধার এ সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে আইনের প্রতি অবজ্ঞা করেছেন। এদিকে ঋণ আদায়ের নামে সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি বসবাসের বাড়ি এবং সম্পত্তি হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। মুক্তিযোদ্ধা আবদুল জব্বারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার জন্য যে টাকার প্রয়োজন সে টাকা শুধু রাইসমিল বিক্রি করলেই পরিশোধ করা যায়। আমরা সে ভাবেই ব্যাংকের টাকা পরিশোধের প্রস্তুতি নিয়ে ২৭ লাখ টাকা যোগাড় করেছিলাম। কিন্তু ব্যাংক ম্যানেজার ওই শিবিরকর্মী রবিউল আলম ধুরন্ধর ব্যবসায়ী ওসমান গণির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার কাছে পানির দামে আমাদের সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়ে আমাদেরকে পথে বসিয়েছে। তিনি তার মৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ বিষয়ে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক মহাদেবপুর শাখা ম্যানেজার রবিউল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোনে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি না হয়ে তার অফিসে অথবা ব্যাংকের ঢাকা হেড অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।