২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘অর্জন উপভোগ করতে চাই’

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঢাকা টেস্টের পঞ্চমদিনও খেলা হলো না। চারদিন খেলা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম এখন যে অর্জন মিলেছে তা উপভোগই করতে চান। সেই নবেম্বরে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ থেকেই ভাল সময় যাচ্ছে বাংলাদেশের। পাকিস্তানের পর ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয় হয়েছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ওয়ানডেতে হারিয়েছে। দুই টেস্টের সিরিজ ড্র করেছে। এ অর্জনগুলো সামনের সময়ে উপভোগ করার কথাই সোমবার দ্বিতীয় টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

প্রশ্ন ॥ কখন শুনলেন পঞ্চমদিনেও খেলা হচ্ছে না?

মুশফিকুর রহীম ॥ আমরা ওয়ার্মআপের আগেই শুনতেই পাই। পঞ্চমদিন হয় তো আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা ম্যাচ অফিসিয়াল যারা থাকেন তাদের সিদ্ধান্ত থাকে। সে দিক থেকে এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা, এর আগে কখনও এমন পরিস্থিতিতে পড়িনি। যেটা জানতে পারলাম, আউটফিল্ড কিছু জায়গায় ভেজা রয়েছে। যা কিনা শুকাতে তিন-চার ঘণ্টা সময় লাগবে, যদি সূর্যের দেখা মেলে। তারপরও যতক্ষণ খেলা হবে ততক্ষণে ফল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই তা ভেবেই হয় তো তারা মনে করেছে খেলা বাতিল করার এটাই সবচেয়ে ভাল সময়। এটা আমাদের নেই। আমার মনে হয়, দুই দলের কাউকে জিজ্ঞেসও করা হয়নি। আমি যতদূর জানি, ম্যাচ অফিসিয়ালরাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হয় তো এই সময়ে ম্যাচ খেলার উপযোগী নয়।

প্রশ্ন ॥ বৃষ্টি না থাকার পরও এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন?

মুশফিক ॥ বিস্মিত বলতে এর আগে যেটা বললাম, এর আগে কখনও এমন পরিস্থিতিতে পড়িনি। এখন বিষয়টা জানতে পাড়লাম। আমরা খেলার জন্য উন্মুখ ছিলাম। আমরা এখন যদি ইনিংস ঘোষণাও করতাম ওদের কিন্তু পুরোদিন খেলতে হতো। হয় তো ফল হতো না কিন্তু আমরা কিছু অর্জন করতে পারতাম। হয় তো ম্যাচ অফিসিয়ালরা যা ভেবেছেন সেটা তাদের বিষয়। নিয়ম নিয়ে তো আর আমরা কিছু বলতে পারব না।

প্রশ্ন ॥ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কেমন মনে হয়েছে?

মুশফিক ॥ আউটফিল্ডের ৯০ শতাংশ ঢাকা ছিল। এত বড় মাঠের পুরোটা কাভার করা খুব কঠিন। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অন্য মাঠের থেকে অনেক ভাল। সূর্য যতক্ষণ থাকলে মাঠ শুকানো যেত সেটা হয় তো পাওয়া সম্ভব হয়নি। এই জন্য ম্যাচ রেফারি যেটা ভেবেছেন সেটাই করেছেন। আমরা সত্যিই উন্মুখ ছিলাম। রিয়াদ ভাই কাল (রবিবার) যেটা বলেছেন, আসলে হার-জিত পরের বিষয়। যখন এক নম্বর দলের বিপক্ষে খেলা আপনি অনেক কিছু শিখতে পারতেন। তারা যে বোলিং ইউনিট হিসেবে ধারাবাহিকভাবে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখে বা ব্যাটসম্যানরা যে খুবই কম ভুল করে এইগুলো অনেক কিছু শেখার ছিল। আমরা হয় তো বঞ্চিত হলাম। ভবিষ্যতে এমন সুযোগ যদি আসে, যেটা আসবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমরা চেষ্টা করব আমাদের সেরাটা দেয়ার।

প্রশ্ন ॥ লক্ষ্যটা কী এখন?

মুশফিক ॥ আমরা বাংলাদেশ দল একটা বেঞ্চমার্ক সেট করেছি। শেষ চার ওয়ানডে সিরিজ জিতেছি, টেস্টেও শেষ আট ম্যাচ খুবই ভাল খেলেছে বাংলাদেশ। যদিও উন্নতির এখনও বহু জায়গা আছে। আমরা যেন এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জানেন দুই মাস পর আমাদের অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা। এটাও বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এখন সময় গত চার-পাঁচ মাসে আমরা যা অর্জন করেছি সেটা উপভোগ করার। আমাদের মনে হয় সেটভ সবাই করবে। আমার মনে হয় একটা বিরতি আছে, সেটা খুব দরকার ছিল। এরপর ফিটনেস ট্রেনিং আছে এরপর স্কিল অনুশীলন করব। আমাদের সামনে অনেক সময় আছে। আমরা যেন পুনরায় ভালভাবে ফিরে আসতে পারি, দল হিসেবে পারফর্ম করতে পারি।

প্রশ্ন ॥ দুই টেস্টেই বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ...

মুশফিক ॥ পুরোপুরি খেলা হলে বিষয়টা অন্য রকম হতে পারত। হয় তো আমি না হয়ে অন্য কেউ হতো। হয় তো আমাদের দলের কেউই হতো। এটা একটা ইতিবাচক বিষয়। বিষয়টা দলের কাজে লাগে কিনা- সেটাই বড় বিষয়। ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন সেরা পারফর্মার যেন আমাদের দল থেকেই আসে। তাহলে দেখা যাবে ম্যাচের ফলাফলও আমাদের দিকেই আসবে।

প্রশ্ন ॥ রেটিং পয়েন্ট বাড়ল...

মুশফিক ॥ কেউ তো আসলে হারার জন্য খেলে না! কিন্তু খেলে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারতাম। উইকেটটি কঠিন ছিল। এখানে অনেকক্ষণ টিকে থেকে রান করা। বিশ্বের সেরা দলের ফিল্ডিং সেটআপ ও তাদের বোলিং আক্রমণ- এমন অনেক কিছু ছিল। যা আমরা মিস করলাম। বিষয়টা এ রকম নয় যে, বৃষ্টিতে ড্র হয়েছে; আমরা বেঁচে গেলাম। আমার মনে হয়ে ২৪৬ রান এ উইকেটে অন্য উইকেটের ৩৫০ রানের সমান। সুতরাং আমরা ম্যাচে ভালভাবেই টিকে ছিলাম। অনেকে আমাকে বলেছে বৃষ্টির কারণে ভাল হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তা মনে করি না। এর আগের টেস্টেও আমরা ভাল খেলেছিলাম। দল হিসেবে আমি বলব এই সিরিজ থেকে আমাদের অনেক কিছু অর্জন হয়েছে। তবে এখনও আরও উন্নতি করতে হবে। অনেক সুযোগ আছে। উন্নতির শেষ নাই। আশা করব অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যাতে তা অর্জন করতে পারি।