১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রিকেটারদের মানসিক উন্নতিই বড় প্রাপ্তি ॥ হাতুরাসিংহে

মোঃ মামুন রশীদ ॥ গত বছরটা গেছে দারুণ হতাশায়। পরাজয়ের বৃত্তে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সেই বৃত্ত ভেঙ্গে বেরোনোর জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টাই চালিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার আগে পর্যন্ত টানা দেড় বছর দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছিল টাইগাররা। আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি তৈরি হওয়াতেই যত সমস্যা, মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন ক্রিকেটাররা। সে কারণে দু’দফায় মনোবিদের শরণাপন্নও হয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেটা এতদিনে কার্যকর হয়েছে। ‘টিম বাংলাদেশ’ এখন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং অনুপ্রাণিত। সে কারণে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিদের বিপক্ষে টানা তিন ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। ক্রিকেটারদের এ মানসিক পরিবর্তনটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরাসিংহে। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর কাছে দেয়া সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ।

গত বছর মে মাসে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন হাতুরাসিংহে। তারপর শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটাই ব্যর্থ হয়েছে দল। কিন্তু এরপর জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে পুরো সিরিজ জয়, বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সাফল্য এবং তিন ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অবিস্মরণীয় সাফল্যগুলো প্রথমবারের মতো পেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে হাতুরাসিংহে বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক বড় সন্তুষ্টির কারণ। ছেলেরা যেভাবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে সেটা সত্যি দারুণ। আমাদের আগে যে ক্রিকেটরীতি ছিল সেটাতে পরিবর্তন এসেছে। সবাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে এবং যে কোন দলের জন্য বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিণত হয়েছে। কোচ হিসেবে এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় সন্তুষ্টির বিষয়।’ বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে যেভাবে জিতেছে বাংলাদেশ দল সেটা ছিল অভূতপূর্ব একটা সাফল্য। কারণ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এবং বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররাও ধরে নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব হলেও হয় তো জেতা যাবে না। কিন্তু ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে প্রোটিয়াদের পরাজিত করেছে টাইগাররা, তাদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় এটি। হাতুরাসিংহে বলেন, ‘এই পরিবর্তনটা আমার কারণে নয়, ছেলেদের কৃতিত্ব। আমাদের টি২০ সিরিজে দুটি পরাজয় ছিল এবং পরে প্রথম ওয়ানডে হেরে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের মধ্যে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং তখন নিজেদের সন্তোষজনক দায়িত্বটা দেখানোর ব্যাপারটা চলে এসেছিল। এমনটা আমরা আগে কখনও করিনি। প্রত্যেকেরই দলে আলাদা দায়িত্ব আছে আর সেটাই আমাদের প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আর সেটা নিয়েই আলোচনা হয়েছিল। ছেলেরা সত্যিই ওই চ্যালেঞ্জ নেয়ার ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর ভূমিকা দেখিয়েছিল। যদি ব্যক্তিগত শক্তিমত্তা প্রদর্শনে মনোযোগী হওয়া যায় সেটা যে কোন কঠিন কাজকে সহজ করে দেয়।’ খেলোয়াড়দের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য শুধু নিজ নিজ দায়িত্বের কথাটাই বেশি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন হাতুরাসিংহে। যার পক্ষে কোন দায়িত্ব পালন সম্ভব নয় সেটা চাপিয়ে দেয়া হয়নি। ক্রিকেটাররাও বিভিন্ন সময়ে নিজেদের উন্নতির বিষয়ে জানিয়েছিলেন নিজের পছন্দ অনুসারে খেলার স্বাধীনতা থাকার কারণেই সেটা সম্ভবপর হয়েছে। এ বিষয়ে হাতুরাসিংহে বলেন, ‘আমরা শুধু একটা বিষয়েই আলোচনা করেছি সেটার হচ্ছে সবারই নিজস্ব কিছু দায়িত্ব আছে দলের প্রতি এবং সেই দায়িত্ব পালনের জন্য পুরোপুরি লেগে থাকতে হবে। আমি নিজেও নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য একমাত্র দায়িত্বশীল ব্যক্তি। অন্য স্টাফদেরও নিজ নিজ দায়িত্বের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা আছে। একাদশের মধ্যে যদি ৭ জনও নিজের দায়িত্বটা সেভাবে পালন করতে পারে সেক্ষেত্রে জেতার অবস্থানে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বেড়ে যায়। আমরা উচ্চপর্যায়ের ক্রিকেটে উচ্চ মানসিক ক্ষমতা নিয়ে খেলার ক্ষেত্রে ভীত নই। এখন ছেলেরাও সেটা অন্তঃকরণ করতে পেরেছে। আমার কাছে ক্রিকেটারদের এ মানসিক উন্নতিটাই বড় পাওয়া। এখন তারা যানে যে কোন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে কি করতে হবে। আমরা হয় তো সবসময়ই এমনটা করতে পারব না, কারণ প্রতিপক্ষরাও একইভাবে চ্যালেঞ্জ জিততে প্রস্তুত থাকবে।’ বর্তমানে বাংলাদেশ দলে যেসব তরুণ ক্রিকেটার এসেছেন তাদের নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট হাতুরাসিংহে। বিশেষ করে তরুণ ওপেনার সৌম্য সরকার এবং পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর দারুণ আস্থা তৈরি হয়েছে এ লঙ্কান কোচের।